ঢাকা ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে উপযুক্ত সময়ে ভারত সফর করবে বাংলাদেশ: হুমায়ুন কবির

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:১৫:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
  • / 11

ছবি সংগৃহীত

 

জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে উপযুক্ত সময়ে ভারত সফর করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, এ সফর নিয়ে কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো নেই। ভারতের সঙ্গে ইতিবাচক ও কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় সরকার, তবে কোনো দেশের সঙ্গেই জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে আপস করা হবে না।

শনিবার (২২ আগস্ট) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান হুমায়ুন কবির। পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারত সফরের সম্ভাব্য সময় জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হওয়ার পর এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে ঐকমত্য তৈরি হলে উপযুক্ত সময়ে সফর হবে। সে সময় আগামী সপ্তাহও হতে পারে, আবার পরের সপ্তাহও হতে পারে। তবে এ নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো নেই।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক চায়। প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক থাকা প্রয়োজন। তবে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

হুমায়ুন কবির বলেন, শুধু ভারত নয়, কোনো দেশের সঙ্গেই বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস করে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই অন্য দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক পরিচালিত হবে।

শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফেরত আনার বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়া একজন সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং কয়েকটি মামলার রায়ও হয়েছে। আরও কিছু মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। ফলে শেখ হাসিনার বিষয়টি নতুন কোনো সিদ্ধান্তের বিষয় নয়; এটি দুই দেশের মধ্যে চলমান একটি বিষয়।

ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাসহ অন্য অপরাধীদের ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলেও মন্তব্য করেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, আরও অপরাধী ভারতে পালিয়ে আছেন। তাদের ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বাংলাদেশের মানুষের স্বাভাবিক দাবি ও অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত। সেই প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দিয়েই ভারতের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে চায় সরকার।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি আবারও বলেন, বাংলাদেশ একটি ইতিবাচক সম্পর্ক চায়। তবে সেই সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের ভারত সফর হুট করে আয়োজন করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের সফরের আগে প্রয়োজনীয় আলোচনা ও প্রস্তুতি নিতে হয়। দুই দেশের সরকারপ্রধান বৈঠকে বসলে সেটি শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও পর্যাপ্ত প্রস্তুতি থাকে।

ভারতের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক মনোভাব ও সদিচ্ছার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান হুমায়ুন কবির। বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতির বিষয়টিও ভারত স্বীকার করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। বিষয়টি ভারত লক্ষ্য করেছে এবং বাংলাদেশের মানুষের এই অনুভূতিকে স্বীকারও করেছে বলে জানান তিনি।

এটিকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘ভালো সূচনা’ হিসেবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন আলোচনায় আরও কিছুটা অগ্রগতি হয় কি না, সেটি দেখতে হবে। আলোচনার ভিত্তিতে এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সময় উপযুক্ত হলেই ভারত সফর করা হবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে উপযুক্ত সময়ে ভারত সফর করবে বাংলাদেশ: হুমায়ুন কবির

আপডেট সময় ০৭:১৫:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

 

জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে উপযুক্ত সময়ে ভারত সফর করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, এ সফর নিয়ে কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো নেই। ভারতের সঙ্গে ইতিবাচক ও কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় সরকার, তবে কোনো দেশের সঙ্গেই জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে আপস করা হবে না।

শনিবার (২২ আগস্ট) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান হুমায়ুন কবির। পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারত সফরের সম্ভাব্য সময় জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হওয়ার পর এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে ঐকমত্য তৈরি হলে উপযুক্ত সময়ে সফর হবে। সে সময় আগামী সপ্তাহও হতে পারে, আবার পরের সপ্তাহও হতে পারে। তবে এ নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো নেই।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক চায়। প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক থাকা প্রয়োজন। তবে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

হুমায়ুন কবির বলেন, শুধু ভারত নয়, কোনো দেশের সঙ্গেই বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস করে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই অন্য দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক পরিচালিত হবে।

শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফেরত আনার বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়া একজন সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং কয়েকটি মামলার রায়ও হয়েছে। আরও কিছু মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। ফলে শেখ হাসিনার বিষয়টি নতুন কোনো সিদ্ধান্তের বিষয় নয়; এটি দুই দেশের মধ্যে চলমান একটি বিষয়।

ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাসহ অন্য অপরাধীদের ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলেও মন্তব্য করেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, আরও অপরাধী ভারতে পালিয়ে আছেন। তাদের ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বাংলাদেশের মানুষের স্বাভাবিক দাবি ও অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত। সেই প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দিয়েই ভারতের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে চায় সরকার।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি আবারও বলেন, বাংলাদেশ একটি ইতিবাচক সম্পর্ক চায়। তবে সেই সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের ভারত সফর হুট করে আয়োজন করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের সফরের আগে প্রয়োজনীয় আলোচনা ও প্রস্তুতি নিতে হয়। দুই দেশের সরকারপ্রধান বৈঠকে বসলে সেটি শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও পর্যাপ্ত প্রস্তুতি থাকে।

ভারতের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক মনোভাব ও সদিচ্ছার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান হুমায়ুন কবির। বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতির বিষয়টিও ভারত স্বীকার করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। বিষয়টি ভারত লক্ষ্য করেছে এবং বাংলাদেশের মানুষের এই অনুভূতিকে স্বীকারও করেছে বলে জানান তিনি।

এটিকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘ভালো সূচনা’ হিসেবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন আলোচনায় আরও কিছুটা অগ্রগতি হয় কি না, সেটি দেখতে হবে। আলোচনার ভিত্তিতে এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সময় উপযুক্ত হলেই ভারত সফর করা হবে।