ঢাকা ০৯:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

নৌ ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতিতে মেধা ও সততার গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:১৭:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / 29

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলা, সততা, বিশ্বস্ততা, আনুগত্য এবং সর্বোপরি পদে নিয়োগের উপযুক্ততার ওপর গুরুত্ব দিতে নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের নির্দেশনা দেন তিনি।

রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে ঢাকা সেনানিবাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে নৌ ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করে আসছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী।

আরও পড়ুন  পদোন্নতির দাবিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, ১১ মার্চ থেকে পূর্ণ অবরোধের হুমকি

দেশের প্রয়োজনে নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের ত্যাগের জন্য দুই বাহিনীর প্রধানসহ সব সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন।

এ ছাড়া ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের এবং ২০২৪ সালে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় বীর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণ করেন তিনি। ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে দেশে গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে হতাহত ব্যক্তিদের অবদানও কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেওয়া শহীদ, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি। বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনী তথা নৌ ও বিমানবাহিনীর শহীদসহ সব বীর সেনার অবদান স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

নির্বাচনী পর্ষদের কার্যক্রমের পর প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল স্থাপনা পরিদর্শন করেন।

প্রথমে ঢাকা সেনানিবাসের আকাশ প্রতিরক্ষা পরিচালন কেন্দ্রে স্থাপিত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন (এডিএসআই) পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় এডিএসআইয়ের উদ্বোধনী স্মারক ফলক উন্মোচনের পাশাপাশি এর বিভিন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা কার্যক্রম সরেজমিনে দেখেন প্রধানমন্ত্রী।

এরপর তিনি বিমান বাহিনীর এয়ার কমান্ড অপারেশন সেন্টার (এসিওসি) পরিদর্শন করেন। সেখানে ডিজিটাল লার্জ ডিসপ্লের মাধ্যমে বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান দিয়ে শত্রুবিমানকে বাধা দেওয়ার কার্যক্রম দেখেন তিনি। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে আনম্যান্ড এরিয়েল ভেহিকেল (ড্রোন)-এর লাইভ ফিডের মাধ্যমে হেলিকপ্টার থেকে সেনা অবতরণের কার্যক্রমও অবলোকন করেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর এ্যারোস্পেস রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন এবং সেখানে পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন।

এ সময় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতায় প্রস্তুত করা বিভিন্ন ধরনের আনম্যান্ড এরিয়েল ভেহিকেল প্রদর্শন করা হয়। এর মধ্যে ছিল ড্রোন, কামিকাজি ড্রোন, ইন্টারসেপ্টর ড্রোন ও ভিটোল। প্রধানমন্ত্রী একটি কোয়াডকপ্টারের উড্ডয়নও অবলোকন করেন।

নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় এ ধরনের আধুনিক উড্ডয়ন ব্যবস্থা প্রস্তুত করা বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে সকালে অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রী পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান তার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল স্থাপনা পরিদর্শনের সময় তার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, প্রতিরক্ষা সচিবসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

নৌ ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতিতে মেধা ও সততার গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় ০৪:১৭:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলা, সততা, বিশ্বস্ততা, আনুগত্য এবং সর্বোপরি পদে নিয়োগের উপযুক্ততার ওপর গুরুত্ব দিতে নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের নির্দেশনা দেন তিনি।

রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে ঢাকা সেনানিবাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে নৌ ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করে আসছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী।

আরও পড়ুন  পদোন্নতির দাবিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, ১১ মার্চ থেকে পূর্ণ অবরোধের হুমকি

দেশের প্রয়োজনে নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের ত্যাগের জন্য দুই বাহিনীর প্রধানসহ সব সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন।

এ ছাড়া ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের এবং ২০২৪ সালে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় বীর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণ করেন তিনি। ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে দেশে গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে হতাহত ব্যক্তিদের অবদানও কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেওয়া শহীদ, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি। বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনী তথা নৌ ও বিমানবাহিনীর শহীদসহ সব বীর সেনার অবদান স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

নির্বাচনী পর্ষদের কার্যক্রমের পর প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল স্থাপনা পরিদর্শন করেন।

প্রথমে ঢাকা সেনানিবাসের আকাশ প্রতিরক্ষা পরিচালন কেন্দ্রে স্থাপিত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন (এডিএসআই) পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় এডিএসআইয়ের উদ্বোধনী স্মারক ফলক উন্মোচনের পাশাপাশি এর বিভিন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা কার্যক্রম সরেজমিনে দেখেন প্রধানমন্ত্রী।

এরপর তিনি বিমান বাহিনীর এয়ার কমান্ড অপারেশন সেন্টার (এসিওসি) পরিদর্শন করেন। সেখানে ডিজিটাল লার্জ ডিসপ্লের মাধ্যমে বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান দিয়ে শত্রুবিমানকে বাধা দেওয়ার কার্যক্রম দেখেন তিনি। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে আনম্যান্ড এরিয়েল ভেহিকেল (ড্রোন)-এর লাইভ ফিডের মাধ্যমে হেলিকপ্টার থেকে সেনা অবতরণের কার্যক্রমও অবলোকন করেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর এ্যারোস্পেস রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন এবং সেখানে পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন।

এ সময় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতায় প্রস্তুত করা বিভিন্ন ধরনের আনম্যান্ড এরিয়েল ভেহিকেল প্রদর্শন করা হয়। এর মধ্যে ছিল ড্রোন, কামিকাজি ড্রোন, ইন্টারসেপ্টর ড্রোন ও ভিটোল। প্রধানমন্ত্রী একটি কোয়াডকপ্টারের উড্ডয়নও অবলোকন করেন।

নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় এ ধরনের আধুনিক উড্ডয়ন ব্যবস্থা প্রস্তুত করা বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে সকালে অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রী পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান তার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল স্থাপনা পরিদর্শনের সময় তার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, প্রতিরক্ষা সচিবসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।