সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
- আপডেট সময় ০৩:৩৪:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
- / 18
রোববার (১২ জুলাই): সাবেক স্পিকার, সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।
প্রধানমন্ত্রী এক শোকবার্তায় বলেন, সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সৈনিক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে তিনি গভীর শোক প্রকাশ করছেন। একই সঙ্গে মহান আল্লাহর কাছে তাঁর মাগফিরাত কামনা করেন।
শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির একজন প্রজ্ঞাবান, অভিজ্ঞ, সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সততা, প্রজ্ঞা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে তিনি শিক্ষামন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে সুসংহত করা, সংসদীয় সংস্কৃতির বিকাশ এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি আজীবন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আদর্শে অবিচল ছিলেন। দলের বিভিন্ন প্রতিকূল সময়ে তিনি আদর্শ থেকে বিচ্যুত না হয়ে নিষ্ঠা, প্রজ্ঞা ও দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও শোকবার্তায় উল্লেখ করা হয়।
শোকবার্তায় আরও বলা হয়, দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সাহসিকতা, প্রজ্ঞা ও দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানুষের মৌলিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তাঁর অবদান বিএনপির ইতিহাসের পাশাপাশি দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায়ও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, দক্ষ সংসদীয় ব্যক্তিত্ব, বিচক্ষণ রাষ্ট্রনায়ক এবং প্রকৃত দেশপ্রেমিককে হারাল। তাঁর আদর্শ, প্রজ্ঞা, সততা ও কর্মময় জীবন আগামী প্রজন্মের রাজনীতিকদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
শোকবার্তার শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং মহান আল্লাহর কাছে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করার প্রার্থনা জানান। একই সঙ্গে মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও গুণগ্রাহীদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।





















