সামরিক জীবনে ধর্মীয় অনুশাসন চর্চার আহ্বান সেনাপ্রধানের
- আপডেট সময় ০৫:৫০:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
- / 12
সামরিক জীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা এবং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেছেন, একজন সেনা সদস্যের আদর্শ, চরিত্র ও পেশাগত উৎকর্ষ গড়ে তুলতে ধর্মীয় মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির (বিএমএ) ৯০তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের অফিসার ক্যাডেটদের কমিশনপ্রাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সেনাপ্রধান বলেন, মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দক্ষ, আধুনিক ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ একটি সেনাবাহিনীর গুরুত্ব অপরিসীম। আর এ বাহিনীর নেতৃত্ব প্রদানের দায়িত্ব মূলত অফিসারদের ওপরই ন্যস্ত।
নবীন অফিসারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রশিক্ষণ শেষে তারা এখন নতুন জীবনে পদার্পণ করছেন, যেখানে দায়িত্ব ও কর্তব্যের পরিধি আরও বিস্তৃত। সামরিক জীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও অনুশাসন অনুসরণ একজন সদস্যকে আদর্শবান, মর্যাদাবান এবং উন্নত চরিত্রের অধিকারী হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির লক্ষ্য হলো নিবেদিতপ্রাণ, দক্ষ, মেধাবী ও আধুনিক নেতৃত্বের উপযোগী সেনা অফিসার তৈরি করা। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অফিসারদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শৃঙ্খলা, আনুগত্য, ন্যায়পরায়ণতা ও কর্তব্যবোধের চর্চার মাধ্যমে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘চির উন্নত মম শির’ মূলমন্ত্র ধারণ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এগিয়ে যাচ্ছে এবং এ ক্ষেত্রে বিএমএর পরিকল্পিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এজন্য একাডেমির অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
সেনাপ্রধান বলেন, শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে নবীন অফিসারদের ওপর দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। এই দায়িত্ব পালনে তাদের সর্বোচ্চ নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্ব প্রদর্শনের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, তিন বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে ৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্স থেকে মোট ১৮৪ জন অফিসার ক্যাডেট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। তাদের মধ্যে ১৬৬ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী অফিসার রয়েছেন।
এছাড়া ফিলিস্তিনের ৪ জন, তানজানিয়ার ১ জন, জাম্বিয়ার ১ জন এবং মালদ্বীপের ১ জন অফিসার ক্যাডেটও বিএমএ থেকে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। তারা নিজ নিজ দেশের সশস্ত্র বাহিনীতে যোগদান করবেন।
কুচকাওয়াজে ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার খায়রুল ইসলাম সেরা চৌকস ক্যাডেট হিসেবে ‘সোর্ড অব অনার’ এবং সামরিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য ‘সেনাবাহিনী প্রধান স্বর্ণপদক’ অর্জন করেন। অন্যদিকে, তানজানিয়ার সার্জেন্ট আবু বকর একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সর্বশ্রেষ্ঠ বিদেশি ক্যাডেট হিসেবে ‘বিএমএ ট্রফি অব এক্সিলেন্স’ লাভ করেন।
পরে প্রশিক্ষণ সমাপনকারী ক্যাডেটরা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত মা-বাবা ও অভিভাবকরা নবীন অফিসারদের র্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সেনাবাহিনী প্রধানকে বিএমএ প্যারেড গ্রাউন্ডে অভ্যর্থনা জানান আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের ভারপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ও কমান্ড্যান্ট, বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি এবং ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ও এরিয়া কমান্ডার, চট্টগ্রাম এরিয়া।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য, দেশি-বিদেশি সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি, অভিভাবক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কুচকাওয়াজ শেষে সেনাবাহিনী প্রধান বিএমএতে ‘২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’ উদ্বোধন করেন। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং প্রশিক্ষণার্থীদের পেশাগত দক্ষতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন এ ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
এছাড়া তিনি নবনির্মিত সিএমএইচ ভাটিয়ারি, বিএমএ পার্ক, বিএমএ সুইমিং পুল এবং এমইএস অফিস কমপ্লেক্স প্রকল্পেরও উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে তিন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।






















