রূপপুরে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং শুরু: বিদ্যুৎ খাতের নতুন যুগে বাংলাদেশ
- আপডেট সময় ০৬:২৫:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
- / 26
বাংলাদেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় সূচিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে (ইউনিট-১) আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়াম লোডিং শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমেই বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে আনুষ্ঠানিকভাবে পরমাণু শক্তি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিচালন পর্বে প্রবেশ করার গৌরব অর্জন করল।

প্রকল্প এলাকা সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বেলা ৩টার পর রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ দল এবং দেশীয় দক্ষ প্রকৌশলীদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে রিঅ্যাক্টর কোরে ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি স্থাপনের কাজ শুরু হয়।
দীর্ঘ এক দশকের অবকাঠামো নির্মাণ ও জটিল সব কারিগরি ধাপ পেরিয়ে এই মাইলফলক স্পর্শ করল বাংলাদেশ। রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই মেগাপ্রকল্পটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে জানান, প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী জুলাইয়ের শেষ বা আগস্টের শুরুর দিকেই এই ইউনিট থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
চলতি বছরের শেষ নাগাদ বা আগামী বছরের শুরুর দিকে প্রথম ইউনিটটি তার পূর্ণ সক্ষমতায় অর্থাৎ ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে।

এর আগে এই ঐতিহাসিক কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল নিয়ে ঢাকা পৌঁছান। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছালে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী কার্যক্রম শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামসহ রাশিয়া ও বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত এই কেন্দ্রে দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর ব্যবহার করা হয়েছে। প্রকল্পের দুটি ইউনিট পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে গেলে জাতীয় গ্রিডে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশেরও বেশি পূরণ করবে। পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি দীর্ঘমেয়াদে দেশের শিল্প ও আবাসিক খাতে বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।






















