০২:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
কুষ্টিয়ায় বক্তব্যরত অবস্থায় জামায়াতের জেলা আমীরের মৃত্যু বাংলাদেশিদের জন্য ভিসায় বন্ড বাধ্যতামূলক করল যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনী নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য, ডগ স্কোয়াড ও ড্রোন নজরদারি ঘুমের ঘোরে কথা বলা; মনের কথা নাকি মস্তিষ্কের বিশেষ আচরণ? খুলনায় আমির হামজার বিরুদ্ধে মামলা গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিপক্ষে মার্কিন জনগণ স্পেনে দুই হাইস্পিড ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত অন্তত ২১ আলিফ হত্যা মামলার শুনানিতে চিন্ময় কৃষ্ণসহ ২৩ আসামি আদালতে জনসম্মুখে প্রথমবার বক্তব্য রাখলেন জাইমা রহমান হৃদয় ম্যাজিকে রংপুরের জয়, এক ম্যাচে জোড়া সেঞ্চুরি

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টার শোক: জাতি হারাল এক মহান অভিভাবক

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:০২:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 66

ছবি সংগৃহীত

 

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে জাতি তার এক মহান অভিভাবককে হারাল। তাঁর মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী ছিলেন না; তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁর অবদান, দীর্ঘ সংগ্রাম এবং জনগণের আবেগ বিবেচনায় নিয়ে সরকার চলতি মাসে তাঁকে রাষ্ট্রের অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করেছিল।

[bsa_pro_ad_space id=2]

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর আপসহীন নেতৃত্বের ফলে জাতি বারবার গণতন্ত্রহীন অবস্থা থেকে মুক্তির অনুপ্রেরণা পেয়েছে। দেশ ও জাতির প্রতি তাঁর অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

নানা মতপার্থক্য সত্ত্বেও জাতির কল্যাণে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা, গণমুখী নেতৃত্ব এবং দৃঢ় মনোবল সব সময় পথ দেখিয়েছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত রাজনীতিককে হারাল।

শোকবার্তায় প্রফেসর ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন। ১৯৮২ সালে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর গৃহবধূ থেকে রাজনীতির মাঠে এসে তিনি স্বৈরশাসক এরশাদের দীর্ঘ নয় বছরের শাসনের পতনে মুখ্য ভূমিকা রাখেন।

তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার বহু কর্ম ও সিদ্ধান্ত দেশকে এগিয়ে নিয়েছে। মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু করা তাঁর একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ, যা নারী শিক্ষার অগ্রগতিতে মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

রাজনৈতিক জীবনে তাঁর সাফল্যের কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তিনি কখনো কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে পাঁচটি পৃথক সংসদীয় আসন থেকে এবং ২০০৮ সালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তিনটি আসনেই তিনি বিজয়ী হন। ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে অর্থনৈতিক উদারীকরণের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির একটি মজবুত ভিত্তি গড়ে তোলেন।

শেখ হাসিনার শাসনামলে বেগম খালেদা জিয়া সংগ্রাম ও প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে ওঠেন উল্লেখ করে প্রফেসর ইউনূস বলেন, তাঁর আপসহীন ভূমিকা দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে জাতিকে অনুপ্রাণিত করেছে। এসব সাফল্যের কারণেই তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হন এবং মিথ্যা মামলায় দীর্ঘদিন কারাবরণ করতে হয়।

শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বেগম খালেদা জিয়ার শোকসন্তপ্ত পরিবার ও দলের নেতাকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে জাতির এই অপূরণীয় ক্ষতির দিনে দেশবাসীকে শান্ত থাকার ও ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে যার যার অবস্থান থেকে তাঁর আত্মার শান্তির জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করার অনুরোধ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

[bsa_pro_ad_space id=4]

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টার শোক: জাতি হারাল এক মহান অভিভাবক

আপডেট সময় ১১:০২:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

 

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে জাতি তার এক মহান অভিভাবককে হারাল। তাঁর মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী ছিলেন না; তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁর অবদান, দীর্ঘ সংগ্রাম এবং জনগণের আবেগ বিবেচনায় নিয়ে সরকার চলতি মাসে তাঁকে রাষ্ট্রের অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করেছিল।

[bsa_pro_ad_space id=2]

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর আপসহীন নেতৃত্বের ফলে জাতি বারবার গণতন্ত্রহীন অবস্থা থেকে মুক্তির অনুপ্রেরণা পেয়েছে। দেশ ও জাতির প্রতি তাঁর অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

নানা মতপার্থক্য সত্ত্বেও জাতির কল্যাণে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা, গণমুখী নেতৃত্ব এবং দৃঢ় মনোবল সব সময় পথ দেখিয়েছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত রাজনীতিককে হারাল।

শোকবার্তায় প্রফেসর ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন। ১৯৮২ সালে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর গৃহবধূ থেকে রাজনীতির মাঠে এসে তিনি স্বৈরশাসক এরশাদের দীর্ঘ নয় বছরের শাসনের পতনে মুখ্য ভূমিকা রাখেন।

তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার বহু কর্ম ও সিদ্ধান্ত দেশকে এগিয়ে নিয়েছে। মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু করা তাঁর একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ, যা নারী শিক্ষার অগ্রগতিতে মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

রাজনৈতিক জীবনে তাঁর সাফল্যের কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তিনি কখনো কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে পাঁচটি পৃথক সংসদীয় আসন থেকে এবং ২০০৮ সালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তিনটি আসনেই তিনি বিজয়ী হন। ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে অর্থনৈতিক উদারীকরণের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির একটি মজবুত ভিত্তি গড়ে তোলেন।

শেখ হাসিনার শাসনামলে বেগম খালেদা জিয়া সংগ্রাম ও প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে ওঠেন উল্লেখ করে প্রফেসর ইউনূস বলেন, তাঁর আপসহীন ভূমিকা দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে জাতিকে অনুপ্রাণিত করেছে। এসব সাফল্যের কারণেই তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হন এবং মিথ্যা মামলায় দীর্ঘদিন কারাবরণ করতে হয়।

শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বেগম খালেদা জিয়ার শোকসন্তপ্ত পরিবার ও দলের নেতাকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে জাতির এই অপূরণীয় ক্ষতির দিনে দেশবাসীকে শান্ত থাকার ও ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে যার যার অবস্থান থেকে তাঁর আত্মার শান্তির জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করার অনুরোধ করেন।