ঢাকা ১০:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :

ইসলাম ব্যবসার ক্ষেত্রে অতিমুনাফাকে সমর্থন করে না: পরিবেশ উপদেষ্টা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:০৩:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫
  • / 486

ছবি সংগৃহীত

 

 

ইসলাম ব্যবসার ক্ষেত্রে অতিমুনাফাকে সমর্থন করে না এমন মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

আরও পড়ুন  সুন্দরবন রক্ষায় একটি সুনির্দিষ্ট কনক্রিট কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে: পরিবেশ উপদেষ্টা

শনিবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল সোস্যাল বিজনেস সামিটে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘কোরআন এবং সহি হাদিসের নির্দেশনা মেনে চলা মুসলিম বিশ্বের কর্তব্য। অতিমুনাফা ইসলামি আদর্শের পরিপন্থী।’’

রিজওয়ানা হাসান মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘‘মুসলিম বিশ্বের মধ্যে প্রকৃত ঐক্যই বড় পরিবর্তন আনতে পারে। রোহিঙ্গা, ফিলিস্তিনের নির্যাতিত মানুষসহ বিশ্বের নানা প্রান্তের মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য আমরা এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারিনি। এটি আমাদের দায়িত্ব।’’

তিনি শুধুমাত্র মুসলমানদের অধিকার নয়, বরং সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের অধিকার রক্ষার দিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘‘মানবাধিকার রক্ষায় মুসলিম বিশ্বকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা সবাই মিলে কাজ করলে বিশ্বের দরিদ্র, নির্যাতিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব হবে।’’

পরিবেশ উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, ‘‘মুসলিম বিশ্ব থ্রি-জিরো তত্ত্বের (শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব, শূন্য কার্বন নিঃসরণ) অনুসরণ করে আগামীতে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’’

রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন, ‘‘কর ব্যবস্থার সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করে দরিদ্র মানুষের কল্যাণে তা ব্যবহার করতে হবে। সামাজিক ব্যবসা ও ন্যায়ভিত্তিক অর্থনীতি নিশ্চিত করতে হলে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’’

তিনি মনে করেন, ইসলাম সমাজে সমতা, ন্যায় এবং সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়। তাই মুসলিম বিশ্বের উচিত হবে এই মূল্যবোধগুলোকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা এবং সর্বস্তরের মানুষের কল্যাণে তা কাজে লাগানো।

সামিটে অন্যান্য বক্তারাও সামাজিক ব্যবসার বিভিন্ন সম্ভাবনা, জলবায়ু পরিবর্তন রোধ এবং ন্যায্য বণ্টন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে বৈষম্য দূরীকরণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।

সমাপনী বক্তব্যে রিজওয়ানা হাসান আশা প্রকাশ করেন, ‘‘মুসলিম দেশগুলো বৈশ্বিক দায়িত্ববোধের অংশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করবে এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে নেতৃত্ব দেবে।’’

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসলাম ব্যবসার ক্ষেত্রে অতিমুনাফাকে সমর্থন করে না: পরিবেশ উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৩:০৩:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫

 

 

ইসলাম ব্যবসার ক্ষেত্রে অতিমুনাফাকে সমর্থন করে না এমন মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

আরও পড়ুন  রমজানের জুমা ইবাদত ও মাগফিরাত অর্জনের অনন্য সময়

শনিবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল সোস্যাল বিজনেস সামিটে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘কোরআন এবং সহি হাদিসের নির্দেশনা মেনে চলা মুসলিম বিশ্বের কর্তব্য। অতিমুনাফা ইসলামি আদর্শের পরিপন্থী।’’

রিজওয়ানা হাসান মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘‘মুসলিম বিশ্বের মধ্যে প্রকৃত ঐক্যই বড় পরিবর্তন আনতে পারে। রোহিঙ্গা, ফিলিস্তিনের নির্যাতিত মানুষসহ বিশ্বের নানা প্রান্তের মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য আমরা এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারিনি। এটি আমাদের দায়িত্ব।’’

তিনি শুধুমাত্র মুসলমানদের অধিকার নয়, বরং সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের অধিকার রক্ষার দিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘‘মানবাধিকার রক্ষায় মুসলিম বিশ্বকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা সবাই মিলে কাজ করলে বিশ্বের দরিদ্র, নির্যাতিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব হবে।’’

পরিবেশ উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, ‘‘মুসলিম বিশ্ব থ্রি-জিরো তত্ত্বের (শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব, শূন্য কার্বন নিঃসরণ) অনুসরণ করে আগামীতে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’’

রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন, ‘‘কর ব্যবস্থার সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করে দরিদ্র মানুষের কল্যাণে তা ব্যবহার করতে হবে। সামাজিক ব্যবসা ও ন্যায়ভিত্তিক অর্থনীতি নিশ্চিত করতে হলে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’’

তিনি মনে করেন, ইসলাম সমাজে সমতা, ন্যায় এবং সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়। তাই মুসলিম বিশ্বের উচিত হবে এই মূল্যবোধগুলোকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা এবং সর্বস্তরের মানুষের কল্যাণে তা কাজে লাগানো।

সামিটে অন্যান্য বক্তারাও সামাজিক ব্যবসার বিভিন্ন সম্ভাবনা, জলবায়ু পরিবর্তন রোধ এবং ন্যায্য বণ্টন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে বৈষম্য দূরীকরণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।

সমাপনী বক্তব্যে রিজওয়ানা হাসান আশা প্রকাশ করেন, ‘‘মুসলিম দেশগুলো বৈশ্বিক দায়িত্ববোধের অংশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করবে এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে নেতৃত্ব দেবে।’’