ঢাকা ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশীয় গরুর জাত রক্ষায় জরুরি রোডম্যাপের তাগিদ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:১৮:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫
  • / 265

ছবি সংগৃহীত

 

শুধু মুনাফা নয়, দেশের প্রয়োজনেই কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, “দেশীয় গরুর জাত হারিয়ে ফেলে আধুনিক জাত চেয়ে আমাদের কিছু লাভ নেই। বরং দেশীয় জাত সংরক্ষণ করেই দুধ ও মাংস উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।”

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ‘দেশীয় গবাদিপশুর জাত উন্নয়ন: চ্যালেঞ্জ ও অগ্রগতির পথ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন  ভবিষ্যতে বিদেশে গরুর মাংস রফতানি করাও সরকারের লক্ষ্য: প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

উপদেষ্টা বলেন, “দেশীয় জাতের গবাদিপশু হারিয়ে যাচ্ছে এ ধারণা সঠিক নয়। বরং উন্নত জাতের নামে বিদেশি গরু আনার প্রবণতা প্রশ্নবিদ্ধ। বলা হচ্ছে ফ্রিজিয়ান ও ক্রসব্রিড ছাড়া বিকল্প নেই, অথচ দেশীয় গরুকে বাদ দিয়ে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমাদের একটি জরুরি রোডম্যাপ নিতে হবে যাতে দেশীয় গরু বিলুপ্তির পথ থেকে রক্ষা পায়।”

তিনি জানান, “বিদেশি জাত টেকসই নয়, তবুও সেগুলোর পেছনে সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। অথচ ফলাফল সন্তোষজনক নয়। অন্যদিকে, দেশীয় জাতের গরুতে রয়েছে বিশাল সম্ভাবনা, যা আমরা কাজে লাগাতে পারিনি। যারা বিদেশি জাত প্রমোট করেছেন, তারা দেশীয় গরুকে অবজ্ঞা করেছেন। এখন আবার বলা হচ্ছে খামারিরা কিছু বোঝে না এটা দুঃখজনক।”

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “সিমেন এখন ব্যবসার পণ্যে পরিণত হয়েছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমরা যদি দেশীয় জাত সংরক্ষণে সফল হই, তবে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নামকরণ সার্থক হবে।”

উপদেষ্টা আরও বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ অঞ্চলভেদে ভিন্ন খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত। সেভাবেই প্রাণীদের জিনগত বৈচিত্র্য রয়েছে। সেসব বৈশিষ্ট্য ধরে রেখে জোনভিত্তিক দেশীয় গরুর জাত সংরক্ষণের জন্য আমাদের প্রকল্প নিতে হবে। কৃষকদের দেশীয় জাত পালন উৎসাহিত করতে প্রণোদনা চালু করা প্রয়োজন।”

সেমিনারে উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা বলেন, দেশীয় গবাদিপশুর জিনগত বৈচিত্র্য আমাদের একটি মূল্যবান সম্পদ। এটি ভবিষ্যতের উন্নত জাত তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে যারা তাপ সহনশীল, রোগ প্রতিরোধে সক্ষম এবং প্রতিবছর বাচ্চা দেওয়ার প্রবণতা রাখে এমন গবাদিপশুর বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণে সমন্বিত প্রজনন কৌশল গ্রহণ করা জরুরি।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নীলুফা আক্তার, এবং প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক শাকিলা ফারুক।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কৃত্রিম প্রজনন দপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. সফিকুর রহমান। আলোচনা করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বয়জার রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কৃত্রিম প্রজনন দপ্তরের পরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহজামান খান।

সেমিননে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

দেশীয় গরুর জাত রক্ষায় জরুরি রোডম্যাপের তাগিদ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টার

আপডেট সময় ০৬:১৮:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫

 

শুধু মুনাফা নয়, দেশের প্রয়োজনেই কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, “দেশীয় গরুর জাত হারিয়ে ফেলে আধুনিক জাত চেয়ে আমাদের কিছু লাভ নেই। বরং দেশীয় জাত সংরক্ষণ করেই দুধ ও মাংস উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।”

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ‘দেশীয় গবাদিপশুর জাত উন্নয়ন: চ্যালেঞ্জ ও অগ্রগতির পথ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন  ভবিষ্যতে বিদেশে গরুর মাংস রফতানি করাও সরকারের লক্ষ্য: প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

উপদেষ্টা বলেন, “দেশীয় জাতের গবাদিপশু হারিয়ে যাচ্ছে এ ধারণা সঠিক নয়। বরং উন্নত জাতের নামে বিদেশি গরু আনার প্রবণতা প্রশ্নবিদ্ধ। বলা হচ্ছে ফ্রিজিয়ান ও ক্রসব্রিড ছাড়া বিকল্প নেই, অথচ দেশীয় গরুকে বাদ দিয়ে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমাদের একটি জরুরি রোডম্যাপ নিতে হবে যাতে দেশীয় গরু বিলুপ্তির পথ থেকে রক্ষা পায়।”

তিনি জানান, “বিদেশি জাত টেকসই নয়, তবুও সেগুলোর পেছনে সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। অথচ ফলাফল সন্তোষজনক নয়। অন্যদিকে, দেশীয় জাতের গরুতে রয়েছে বিশাল সম্ভাবনা, যা আমরা কাজে লাগাতে পারিনি। যারা বিদেশি জাত প্রমোট করেছেন, তারা দেশীয় গরুকে অবজ্ঞা করেছেন। এখন আবার বলা হচ্ছে খামারিরা কিছু বোঝে না এটা দুঃখজনক।”

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “সিমেন এখন ব্যবসার পণ্যে পরিণত হয়েছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমরা যদি দেশীয় জাত সংরক্ষণে সফল হই, তবে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নামকরণ সার্থক হবে।”

উপদেষ্টা আরও বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ অঞ্চলভেদে ভিন্ন খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত। সেভাবেই প্রাণীদের জিনগত বৈচিত্র্য রয়েছে। সেসব বৈশিষ্ট্য ধরে রেখে জোনভিত্তিক দেশীয় গরুর জাত সংরক্ষণের জন্য আমাদের প্রকল্প নিতে হবে। কৃষকদের দেশীয় জাত পালন উৎসাহিত করতে প্রণোদনা চালু করা প্রয়োজন।”

সেমিনারে উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা বলেন, দেশীয় গবাদিপশুর জিনগত বৈচিত্র্য আমাদের একটি মূল্যবান সম্পদ। এটি ভবিষ্যতের উন্নত জাত তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে যারা তাপ সহনশীল, রোগ প্রতিরোধে সক্ষম এবং প্রতিবছর বাচ্চা দেওয়ার প্রবণতা রাখে এমন গবাদিপশুর বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণে সমন্বিত প্রজনন কৌশল গ্রহণ করা জরুরি।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নীলুফা আক্তার, এবং প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক শাকিলা ফারুক।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কৃত্রিম প্রজনন দপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. সফিকুর রহমান। আলোচনা করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বয়জার রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কৃত্রিম প্রজনন দপ্তরের পরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহজামান খান।

সেমিননে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।