ঢাকা ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ

ইউক্রেনকে সহায়তায় অটল যুক্তরাজ্য, পুতিনকে আলোচনার টেবিলে আনতে চাপ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৩০:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ মার্চ ২০২৫
  • / 213

ছবি সংগৃহীত

 

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে চাপের মুখে আলোচনার টেবিলে আনতে হবে। এজন্য নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখার গুরুত্ব অপরিসীম বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিটে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে স্টারমার বলেন, রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়িয়ে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা তৈরি করতে হবে। ইউক্রেন ইতোমধ্যে ৩০ দিনের নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, যা তাদের শান্তি প্রতিষ্ঠার সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু পুতিন তা দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছেন।

আরও পড়ুন  সৌদির কাছে চাইবে ১ ট্রিলিয়ন ডলার, কমাতে বলবে তেলের দামও!

ওই বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁসহ ২৬টি দেশের নেতারা অংশ নেন। স্টারমার বলেন, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা জোরদার করা, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা এবং মস্কোর ওপর চাপ অব্যাহত রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘যদি পুতিন সত্যিই শান্তিতে আগ্রহী হন, তাহলে তার উচিত ইউক্রেনের ওপর হামলা বন্ধ করা এবং যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়া।’ 

বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে স্টারমার বলেন, ‘বিশ্ব শুধু কথার ফুলঝুরি দেখতে চায় না, তারা বাস্তব পদক্ষেপ প্রত্যাশা করে।’ তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার আক্রমণের ফলে যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় এবং জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে, যা সামগ্রিকভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

‘কোয়ালিশন অব উইলিং’ নামক জোট প্রসঙ্গে স্টারমার জানান, এই জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জাপানসহ একাধিক দেশকে একত্রিত করেছে। তিনি বলেন, ‘শান্তিচুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার এখনই সময়। বৃহস্পতিবার সামরিক বাহিনী যুদ্ধবিরতির সম্ভাব্য সমর্থনে বৈঠক করবে।’

স্টারমার আরও বলেন, ‘আমাদের সম্মিলিত সংকল্প দৃঢ়, এবং আমরা দ্রুত রাজনৈতিক ও সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। রাশিয়ার ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের এখনই সময়।’ শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন প্রসঙ্গে তিনি জানান, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে ইউক্রেনে শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে সামরিক প্রধানরা বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যে বৈঠক করবেন।

এদিকে, রাশিয়ার জব্দকৃত সম্পদ নিয়ে স্টারমার বলেন, ‘এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার উপায় খুঁজছি, এবং জব্দকৃত সম্পদ ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।’ অন্যদিকে, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি জানিয়েছেন, তার দেশ ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে না।

স্টারমারের বার্তা স্পষ্ট শান্তি অর্জনের জন্য রাশিয়ার ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে হবে, যাতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ইউক্রেনের জনগণ নিরাপদে বসবাস করতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ

ইউক্রেনকে সহায়তায় অটল যুক্তরাজ্য, পুতিনকে আলোচনার টেবিলে আনতে চাপ

আপডেট সময় ১১:৩০:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ মার্চ ২০২৫

 

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে চাপের মুখে আলোচনার টেবিলে আনতে হবে। এজন্য নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখার গুরুত্ব অপরিসীম বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিটে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে স্টারমার বলেন, রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়িয়ে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা তৈরি করতে হবে। ইউক্রেন ইতোমধ্যে ৩০ দিনের নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, যা তাদের শান্তি প্রতিষ্ঠার সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু পুতিন তা দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছেন।

আরও পড়ুন  পশ্চিমা সহায়তা বন্ধ হলে দুই মাসেই শেষ ইউক্রেন যুদ্ধ: ভ্লাদিমির পুতিন

ওই বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁসহ ২৬টি দেশের নেতারা অংশ নেন। স্টারমার বলেন, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা জোরদার করা, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা এবং মস্কোর ওপর চাপ অব্যাহত রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘যদি পুতিন সত্যিই শান্তিতে আগ্রহী হন, তাহলে তার উচিত ইউক্রেনের ওপর হামলা বন্ধ করা এবং যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়া।’ 

বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে স্টারমার বলেন, ‘বিশ্ব শুধু কথার ফুলঝুরি দেখতে চায় না, তারা বাস্তব পদক্ষেপ প্রত্যাশা করে।’ তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার আক্রমণের ফলে যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় এবং জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে, যা সামগ্রিকভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

‘কোয়ালিশন অব উইলিং’ নামক জোট প্রসঙ্গে স্টারমার জানান, এই জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জাপানসহ একাধিক দেশকে একত্রিত করেছে। তিনি বলেন, ‘শান্তিচুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার এখনই সময়। বৃহস্পতিবার সামরিক বাহিনী যুদ্ধবিরতির সম্ভাব্য সমর্থনে বৈঠক করবে।’

স্টারমার আরও বলেন, ‘আমাদের সম্মিলিত সংকল্প দৃঢ়, এবং আমরা দ্রুত রাজনৈতিক ও সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। রাশিয়ার ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের এখনই সময়।’ শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন প্রসঙ্গে তিনি জানান, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে ইউক্রেনে শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে সামরিক প্রধানরা বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যে বৈঠক করবেন।

এদিকে, রাশিয়ার জব্দকৃত সম্পদ নিয়ে স্টারমার বলেন, ‘এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার উপায় খুঁজছি, এবং জব্দকৃত সম্পদ ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।’ অন্যদিকে, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি জানিয়েছেন, তার দেশ ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে না।

স্টারমারের বার্তা স্পষ্ট শান্তি অর্জনের জন্য রাশিয়ার ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে হবে, যাতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ইউক্রেনের জনগণ নিরাপদে বসবাস করতে পারে।