ঢাকা ০৮:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করার ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নরসিংদীতে ছুরিকাঘাতে পিতাকে হত্যা, অভিযুক্ত ছেলে পলাতক নিখোঁজের চার দিন পর খালে বৃদ্ধার মরদেহ মাদক মামলার বিচার দ্রুত করতে ২২ ট্রাইব্যুনাল গঠন আমাদের বোমায় নারী-শিশু নিহত হচ্ছে, ট্রাম্পের সমালোচনায় মার্কিন কংগ্রেস সদস্য জনস্বার্থের প্রকল্পে নতুন অর্থের উৎস খুঁজছে সরকার: অর্থমন্ত্রী গ্যাস-বিদ্যুৎ নিয়ে পরামর্শ দিন, রাজপথে হুমকি নয়: রিজভী ‘যৌনাঙ্গ চুরি’র গুজবে আফ্রিকায় ৮০ জনের বেশি নিহত সাংবাদিকদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করছে সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী ধর্মঘট প্রত্যাহার ভারতীয়দের, শনিবার থেকে হিলি বন্দরে বাণিজ্য শুরু

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় এবছর ইইউ’র ৬৮ মিলিয়ন ইউরো সহায়তা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৫৮:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ মার্চ ২০২৫
  • / 444

ছবি সংগৃহীত

 

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগণের সংকট মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এ বছর ৬৮ মিলিয়ন ইউরো সহায়তা ঘোষণা করেছে। বিশেষ করে, মিয়ানমারের পশ্চিম রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার শিকার মানুষের জন্য এই সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে, যাতে মানবিক সংকটের তীব্রতা কমানো যায়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের কমিশনার হাজা লাহবিব সম্প্রতি ঢাকা সফরে এসে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তিনি রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য এই আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেন। তবে, ইইউ কমিশনার মন্তব্য করেন যে, সহায়তার পরিমাণ গত বছরের অনুদানের তুলনায় বেশি হলেও রোহিঙ্গা শিবিরে মানবিক পরিস্থিতি উন্নত করার জন্য তা যথেষ্ট নয়।

আরও পড়ুন  রাখাইন সীমান্তে মানবিক করিডর নিয়ে শঙ্কা, বাড়ছে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ

অধ্যাপক ইউনূস রোহিঙ্গা সংকটের প্রতি বাংলাদেশের দীর্ঘকালীন প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘এটি বাংলাদেশের একটি বড় সমস্যা, এবং বছরের পর বছর ধরে চলছে। তবে, এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই সংকটের গুরুত্ব বোঝাতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

ইইউ কমিশনার শান্তির প্রতি জোর দিয়ে বলেন, ‘এই সংকটের একমাত্র সমাধান শান্তি। আমাদের সবাইকে দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, এবং ভুল তথ্য (ডিসইনফরমেশন) ছড়ানোও এক ধরনের দুর্যোগ।’

এছাড়া, বৈঠকে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে জলবিদ্যুৎ আমদানির সম্ভাবনা, জ্বালানি সংযোগ এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আরও সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়। অধ্যাপক ইউনূস নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসঙ্গে বলেন, ‘নেপাল ও ভুটান আমাদের কাছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিক্রিতে আগ্রহী, যা বাংলাদেশে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাবে।’

ইইউ কমিশনার বাংলাদেশ সরকারের সংস্কার কার্যক্রম এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আরও সহযোগিতার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রস্তুত।’

নিউজটি শেয়ার করুন

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় এবছর ইইউ’র ৬৮ মিলিয়ন ইউরো সহায়তা

আপডেট সময় ১১:৫৮:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ মার্চ ২০২৫

 

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগণের সংকট মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এ বছর ৬৮ মিলিয়ন ইউরো সহায়তা ঘোষণা করেছে। বিশেষ করে, মিয়ানমারের পশ্চিম রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার শিকার মানুষের জন্য এই সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে, যাতে মানবিক সংকটের তীব্রতা কমানো যায়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের কমিশনার হাজা লাহবিব সম্প্রতি ঢাকা সফরে এসে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তিনি রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য এই আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেন। তবে, ইইউ কমিশনার মন্তব্য করেন যে, সহায়তার পরিমাণ গত বছরের অনুদানের তুলনায় বেশি হলেও রোহিঙ্গা শিবিরে মানবিক পরিস্থিতি উন্নত করার জন্য তা যথেষ্ট নয়।

আরও পড়ুন  রোহিঙ্গাদের রেশন সংকট: জাতিসংঘের বরাদ্দ অর্ধেকে নামছে

অধ্যাপক ইউনূস রোহিঙ্গা সংকটের প্রতি বাংলাদেশের দীর্ঘকালীন প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘এটি বাংলাদেশের একটি বড় সমস্যা, এবং বছরের পর বছর ধরে চলছে। তবে, এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই সংকটের গুরুত্ব বোঝাতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

ইইউ কমিশনার শান্তির প্রতি জোর দিয়ে বলেন, ‘এই সংকটের একমাত্র সমাধান শান্তি। আমাদের সবাইকে দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, এবং ভুল তথ্য (ডিসইনফরমেশন) ছড়ানোও এক ধরনের দুর্যোগ।’

এছাড়া, বৈঠকে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে জলবিদ্যুৎ আমদানির সম্ভাবনা, জ্বালানি সংযোগ এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আরও সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়। অধ্যাপক ইউনূস নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসঙ্গে বলেন, ‘নেপাল ও ভুটান আমাদের কাছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিক্রিতে আগ্রহী, যা বাংলাদেশে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাবে।’

ইইউ কমিশনার বাংলাদেশ সরকারের সংস্কার কার্যক্রম এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আরও সহযোগিতার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রস্তুত।’