ঢাকা ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছাত্র বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৩৪:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 24

ছবি : সংগৃহীত

 

দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ এবং ক্রমবর্ধমান জনঅসন্তোষের মুখে পদত্যাগ করেছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তার পদত্যাগের ফলে দেশটিতে নতুন করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পথ তৈরি হয়েছে।

রাজধানী বেলগ্রেডে প্রেসিডেন্টের বাসভবনের বাইরে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ভুচিচ বলেন, তার নয় বছরের শাসনামলে তিনি দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছেন।

আরও পড়ুন  হুথি সংকট সামলানো নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন

গত জুন মাসেই পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। এবার আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনে নিজের দল প্রগ্রেসিভ পার্টির হয়ে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা করছেন ভুচিচ। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করতে পারবেন না।

ভুচিচের শাসনামলে সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে নোভি সাদ রেলস্টেশনের ছাদ ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার পর দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শ্রমিক ও কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, রেলস্টেশন সংস্কারের কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিরোধী দলগুলোও এ ঘটনাকে প্রগ্রেসিভ পার্টির দীর্ঘদিনের শাসনামলের অনিয়মের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করে। আন্দোলনের চাপে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা পদত্যাগ করলেও বিক্ষোভ থামেনি।

পুরো গ্রীষ্মজুড়েই দেশটিতে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে। আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েনের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। আন্দোলনকারীরা ভুচিচ সরকারের পদত্যাগ এবং নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দাবি জানান।

সার্বিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করার তিন মাসের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। আগামী বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করায় দেশটিতে নতুন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হবে।

এদিকে, আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে সার্বিয়ায় সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ভুচিচ জানিয়েছেন, সংসদীয় নির্বাচনের এক মাসের কিছু বেশি সময় পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজন করা হবে। ফলে চলতি বছরেই দেশটির জনগণকে দুইবার ভোট দিতে হতে পারে।

নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন দেশটির সংসদের স্পিকার ও প্রগ্রেসিভ পার্টির নেতা আনা ব্রনাবিচ।

সার্বিয়ার সরকারি গণমাধ্যম আরটিএসের তথ্য অনুযায়ী, পদত্যাগের আগে সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে ৪৯ জনকে ক্ষমা করেছেন ভুচিচ। তাদের মধ্যে ২৩ জন শিক্ষার্থী এবং তার দলের নেতাকর্মীরাও রয়েছেন। ক্ষমা পাওয়া ব্যক্তিদের অনেকের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ ছিল।

আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনে ভুচিচের প্রগ্রেসিভ পার্টির প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছে ‘স্টুডেন্টস উইন’ নামের একটি দল। দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীরা দলটি গঠন করেছেন। এ ছাড়া পশ্চিমাপন্থী বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইউরোপিয়ান সার্বিয়া’ও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে।

২০১৪ সালে সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী হন আলেকজান্ডার ভুচিচ। এর তিন বছর পর, ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তিনি। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন এই নেতা।

ভুচিচ সার্বিয়াকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা এবং চীনা বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার নীতির কথাও বলে আসছেন।

সূত্র: বিবিসি

নিউজটি শেয়ার করুন

ছাত্র বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের

আপডেট সময় ১২:৩৪:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ এবং ক্রমবর্ধমান জনঅসন্তোষের মুখে পদত্যাগ করেছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তার পদত্যাগের ফলে দেশটিতে নতুন করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পথ তৈরি হয়েছে।

রাজধানী বেলগ্রেডে প্রেসিডেন্টের বাসভবনের বাইরে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ভুচিচ বলেন, তার নয় বছরের শাসনামলে তিনি দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছেন।

আরও পড়ুন  কিউবার প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

গত জুন মাসেই পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। এবার আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনে নিজের দল প্রগ্রেসিভ পার্টির হয়ে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা করছেন ভুচিচ। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করতে পারবেন না।

ভুচিচের শাসনামলে সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে নোভি সাদ রেলস্টেশনের ছাদ ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার পর দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শ্রমিক ও কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, রেলস্টেশন সংস্কারের কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিরোধী দলগুলোও এ ঘটনাকে প্রগ্রেসিভ পার্টির দীর্ঘদিনের শাসনামলের অনিয়মের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করে। আন্দোলনের চাপে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা পদত্যাগ করলেও বিক্ষোভ থামেনি।

পুরো গ্রীষ্মজুড়েই দেশটিতে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে। আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েনের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। আন্দোলনকারীরা ভুচিচ সরকারের পদত্যাগ এবং নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দাবি জানান।

সার্বিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করার তিন মাসের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। আগামী বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করায় দেশটিতে নতুন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হবে।

এদিকে, আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে সার্বিয়ায় সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ভুচিচ জানিয়েছেন, সংসদীয় নির্বাচনের এক মাসের কিছু বেশি সময় পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজন করা হবে। ফলে চলতি বছরেই দেশটির জনগণকে দুইবার ভোট দিতে হতে পারে।

নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন দেশটির সংসদের স্পিকার ও প্রগ্রেসিভ পার্টির নেতা আনা ব্রনাবিচ।

সার্বিয়ার সরকারি গণমাধ্যম আরটিএসের তথ্য অনুযায়ী, পদত্যাগের আগে সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে ৪৯ জনকে ক্ষমা করেছেন ভুচিচ। তাদের মধ্যে ২৩ জন শিক্ষার্থী এবং তার দলের নেতাকর্মীরাও রয়েছেন। ক্ষমা পাওয়া ব্যক্তিদের অনেকের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ ছিল।

আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনে ভুচিচের প্রগ্রেসিভ পার্টির প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছে ‘স্টুডেন্টস উইন’ নামের একটি দল। দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীরা দলটি গঠন করেছেন। এ ছাড়া পশ্চিমাপন্থী বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইউরোপিয়ান সার্বিয়া’ও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে।

২০১৪ সালে সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী হন আলেকজান্ডার ভুচিচ। এর তিন বছর পর, ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তিনি। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন এই নেতা।

ভুচিচ সার্বিয়াকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা এবং চীনা বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার নীতির কথাও বলে আসছেন।

সূত্র: বিবিসি