ইউক্রেনকে ক্ষমা চাইতে বলল দক্ষিণ কোরিয়া
- আপডেট সময় ০২:৫৪:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 34
উত্তর কোরিয়ার দুই যুদ্ধবন্দিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় হস্তান্তরের তথ্য প্রকাশ এবং এ বিষয়ে গোপনীয়তার কোনো চুক্তি ছিল না—ইউক্রেনের এমন বক্তব্যের জেরে দেশটির কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ও ক্ষমা চেয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং প্রয়োজন হলে আরও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানায়।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের জনসংযোগবিষয়ক জ্যেষ্ঠ সচিব সং ঘি-হং এক বিবৃতিতে বলেন, গোপনীয়তা বজায় রাখার বিষয়ে দুই পক্ষের সমঝোতা থাকা সত্ত্বেও ইউক্রেন একতরফাভাবে তথ্য প্রকাশ করেছে। পরে এ ধরনের কোনো গোপনীয়তা চুক্তি ছিল না বলে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যেও সিউল ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সং ঘি-হংয়ের ভাষ্য, যুদ্ধবন্দিদের দক্ষিণ কোরিয়ায় হস্তান্তরের বিষয়টি গোপন রাখার অনুরোধ ইউক্রেনের পক্ষ থেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে বারবার করা হয়েছিল। প্রকাশ্যে এ তথ্য জানানো হলে বন্দিদের ইউক্রেনীয় বন্দিদের সঙ্গে বিনিময়ের সুযোগ ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে কিয়েভকে নিজ দেশে সমালোচনার মুখে পড়তে হতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও ইউক্রেনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
দক্ষিণ কোরিয়া নিরাপত্তা, কূটনৈতিক ও মানবিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে হস্তান্তরের তথ্য গোপন রাখতে সম্মত হয়েছিল। বিশেষ করে যুদ্ধবন্দি ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টি এতে বিবেচনা করা হয়েছিল বলে সিউলের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে।
তবে গত সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার সময় আটক হওয়া উত্তর কোরিয়ার দুই সেনাকে দক্ষিণ কোরিয়ায় হস্তান্তর করেছে ইউক্রেন।
এর পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং বিষয়টি প্রকাশ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গোপনীয়তা বজায় রাখার বিষয়ে সমঝোতার পরও তথ্য প্রকাশ করায় তিনি গভীরভাবে দুঃখিত।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় বলেছে, ইউক্রেনের পরবর্তী বক্তব্য দুই দেশের সরকারের মধ্যে আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং এর কারণে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করা হয়েছে। ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র দিমিত্রো লিতভিন গোপনীয়তা চুক্তি থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছেন, এ ধরনের কোনো চুক্তি হয়নি।
ইউক্রেন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চল থেকে উত্তর কোরিয়ার ওই দুই সেনাকে জীবিত আটক করেছিল। পরে তারা দক্ষিণ কোরিয়ায় যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে তাদের হস্তান্তর নিয়ে সিউল ও কিয়েভের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়।
দুই দেশের বক্তব্যে গোপনীয়তা চুক্তি নিয়ে ভিন্নতা থাকায় বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া বলছে, হস্তান্তরের বিষয়টি গোপন রাখার সমঝোতা ছিল; অন্যদিকে ইউক্রেন সেই সমঝোতার অস্তিত্ব অস্বীকার করছে। এ অবস্থায় সিউল বিষয়টি নিয়ে আরও কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

























