শাহবাজের অনুরোধে জামায়াতের লংমার্চ স্থগিত
- আপডেট সময় ০৪:৪৬:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 25
পেট্রোলিয়াম লেভির বিরুদ্ধে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদমুখী লংমার্চ স্থগিত করেছে জামায়াতে ইসলামী (জেআই)। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দলটির আমির হাফিজ নাঈমুর রহমানকে ফোন করে লংমার্চ ও অবস্থান কর্মসূচি স্থগিতের অনুরোধ জানানোর পর মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মুলতানে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির হাফিজ নাঈমুর রহমান এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সোমবার রাতে তাকে ফোন করে লংমার্চ স্থগিত করার অনুরোধ জানান। এরপর দলের নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
হাফিজ নাঈমুর রহমান বলেন, তারা প্রতিবাদ বা লংমার্চ থেকে পিছিয়ে যাচ্ছেন না। তবে প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মতো সরাসরি বিষয়টিতে যুক্ত হওয়ায় সরকারকে একটি সুযোগ দিতে চান তারা। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে তার বক্তব্য শুনবেন এবং নিজেদের দাবিগুলো তুলে ধরবেন।
জামায়াত আমির বলেন, বৈঠকের দিন প্রধানমন্ত্রী যদি পেট্রোলিয়াম লেভি নিয়ে জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার ঘোষণা দেন, তাহলে বিষয়টির সমাধান হবে। অন্যথায় অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে একই শক্তিতে লংমার্চ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক না হওয়া পর্যন্ত জামায়াতের কর্মীরা মাঠে থাকবেন বলে জানান হাফিজ নাঈমুর রহমান। এ সময় বিক্ষোভ ক্যাম্প ও অবস্থান কর্মসূচিও চলবে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শাহবাজ শরিফ যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফেরার পর বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনার জন্য দুই নেতা বৈঠক করবেন।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে জামায়াত আমির বলেন, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম এবং ‘অন্যায্য’ পেট্রোলিয়াম লেভির বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন চলছে। গত ৭ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এ আন্দোলনে দেশজুড়ে ৫১০টি স্থানে বিক্ষোভ এবং ৪২টি স্থানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
পেট্রোলিয়াম লেভি কমানোর বিষয়ে সরকারের সঙ্গে পাঁচ দফা আলোচনা হয়েছে বলেও জানান হাফিজ নাঈমুর রহমান। তবে তার দাবি, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপের কারণে সরকার জামায়াতের প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারেনি।
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত এজেন্ডা নেই। এটি পাকিস্তানের ২৫ কোটি মানুষের সমস্যা।’ তার দাবি, জ্বালানির দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতি বাড়ে এবং এতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
১৭ সেপ্টেম্বর চালু হওয়া প্রধানমন্ত্রী ফুয়েল রিলিফ স্কিমেরও সমালোচনা করেন তিনি। এ কর্মসূচির আওতায় দুই ও তিন চাকার যানবাহনের জন্য প্রতি লিটারে ১০০ রুপি ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে।
হাফিজ নাঈমুর রহমানের দাবি, সরকার এক মাসের জন্য ২৫ বিলিয়ন রুপি ত্রাণের ঘোষণা দিলেও প্রতি মাসে জ্বালানির দামের সঙ্গে ১৫০ বিলিয়ন রুপি লেভি আদায় করছে।
এদিকে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) ইসলামাবাদমুখী মার্চ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করা দলটির সাংবিধানিক অধিকার।
সূত্র: ডন























