মিথ্যা ও কল্পকাহিনি প্রচারের অভিযোগ, সিএনএনসহ ৩ সংবাদমাধ্যম নিষিদ্ধের ঘোষণা
- আপডেট সময় ১১:২০:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 24
সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউস থেকে ‘অবিলম্বে’ নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে তার প্রশাসন নিয়ে ‘কল্পকাহিনি বা মিথ্যা’ প্রচারের অভিযোগ করেন। তবে এ দাবির সমর্থনে কোনো নির্দিষ্ট সংবাদ বা প্রতিবেদনের উদাহরণ দেননি তিনি।
ট্রাম্প পরে এ পদক্ষেপকে ‘খুবই সাধারণ একটি নিষেধাজ্ঞা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে নিষেধাজ্ঞাটি কীভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি। সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে প্রবেশে বাধা দেওয়া হবে কি না, সেটিও স্পষ্ট করা হয়নি।
ট্রাম্পের ঘোষণার পর সিএনএন দ্রুত এর প্রতিবাদ জানিয়ে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞাকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর ‘অবৈধ আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছে। একই সঙ্গে এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জের প্রস্তুতি নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘোষণার কিছুক্ষণ পরও সিএনএন ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে অবস্থান করতে দেখা যায়। সিএনএনের একটি দল ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে আইওয়ায় একটি অনুষ্ঠানে যাওয়া-আসা করছিল।
এক বিবৃতিতে সিএনএন জানায়, তারা হোয়াইট হাউসের নিজস্ব টিম এবং ন্যায্য ও সঠিক সংবাদ পরিবেশনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মার্কিন সংবিধানের অধীনে বাধা বা সরকারের হস্তক্ষেপ ছাড়া সংবাদ প্রতিবেদন করার অধিকার সংবাদমাধ্যমটির রয়েছে। ট্রাম্প ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হলে সেটি ওই সাংবিধানিক অধিকারের ওপর অবৈধ আক্রমণ হবে বলে মন্তব্য করেছে সিএনএন।
পলিটিকোও এক বিবৃতিতে জানায়, তারা বর্তমান ও ভবিষ্যতের হোয়াইট হাউস নিয়ে ন্যায্যভাবে সংবাদ প্রকাশ করে যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে থাকা অধিকার সীমিত করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তারা লড়বে বলেও জানায় সংবাদমাধ্যমটি।
আগে এমএসএনবিসি নামে পরিচিত এমএস নাও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প আরও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট, তার প্রশাসন কিংবা যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে এসব সংবাদমাধ্যমকে নিয়মিত ‘কল্পকাহিনি ও মিথ্যা’ প্রকাশ বা প্রচারের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। ভবিষ্যতে আরও সংবাদমাধ্যমকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।
তবে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেওয়ার সময় ট্রাম্প কোনো নির্দিষ্ট প্রতিবেদন বা সংবাদকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেননি।
হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট জ্যাকি হাইনরিশ বলেন, দায়িত্ব পালনের কারণে যারা আলাদাভাবে নিশানা হচ্ছেন, তাদের পক্ষে সহকর্মীরা অবস্থান করছেন।
ফক্স নিউজের এই সাংবাদিক আরও বলেন, বিষয়টি শুধু সাংবাদিকদের অধিকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে যে ব্যক্তিই থাকুন না কেন, তাঁর কর্মকাণ্ড, নীতি ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তথ্য পাওয়াও মার্কিন জনগণের অধিকার।






















