আইএইএর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান উত্তর কোরিয়ার
- আপডেট সময় ১২:০৪:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 28
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির সমালোচনা করে প্রস্তাবটি আনা হয়েছিল। শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে তাদের অবস্থান অপরিবর্তনীয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, নিজেদের পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতার মাধ্যমে ওই অবস্থান সুরক্ষিত রাখবে উত্তর কোরিয়া।
কেসিএনএকে দেওয়া পৃথক এক বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং আইএইএর বিরুদ্ধে দ্বৈত মানদণ্ড অনুসরণের অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, সংস্থাটির পক্ষপাতদুষ্ট অবস্থান ও দ্বৈত মানদণ্ডই আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ার অন্যতম কারণ।
কিম ইয়ো জং অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পষ্ট পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের কর্মকাণ্ড’ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ‘পারমাণবিক সাবমেরিন আনার পরিকল্পনা’ নিয়ে আইএইএ নীরব রয়েছে। অথচ উত্তর কোরিয়ার ‘আত্মরক্ষামূলক ও বৈধ পারমাণবিক কর্মকাণ্ডের’ বিরুদ্ধে সংস্থাটি জোর করে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও অভিযোগ করেছে, চলতি সপ্তাহে আইএইএর সাধারণ সম্মেলনে ‘শত্রুতাপূর্ণ শক্তিগুলো’ দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার চেষ্টা করছে।
দেশটির সরকারি নাম ডেমোক্রেটিক পিপলস রিপাবলিক অব কোরিয়া (ডিপিআরকে) উল্লেখ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো এ ধরনের প্রস্তাবের মাধ্যমে পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে ডিপিআরকের অবস্থানে কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না।
এদিকে কেসিএনএ জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে কিম জং উন গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অস্ত্র ও গোলাবারুদ কারখানা পরিদর্শন করেছেন। তিন দিনের ওই সফরে তিনি সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রম দেখেন।
বিশ্লেষকদের বরাতে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হওয়ার পর রাশিয়ার সহায়তায় উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনীতে বড় ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধে মোতায়েন উত্তর কোরিয়ার সেনাদের অর্জিত যুদ্ধের অভিজ্ঞতাও দেশটির সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টায় ভূমিকা রাখছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।
কেসিএনএ জানিয়েছে, শুক্রবার পিয়ংইয়ংয়ে প্রচারকর্মীদের একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন কিম জং উন। সেখানে তিনি আধুনিক ‘আদর্শিক যুদ্ধ’ পরিচালনায় পুরোনো পদ্ধতির পুনরাবৃত্তি না করে উদ্ভাবনী, সৃজনশীল ও আক্রমণাত্মক পদ্ধতি অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে সংলাপে আগ্রহী এবং সম্ভাব্য ওই আলোচনার পথ তৈরি করতে সিউল কাজ করবে।
প্রথম মেয়াদে কিম জং উনের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার আগ্রহের কথা জানিয়ে ট্রাম্প গত মাসে বলেন, ২০২৬ সালের শেষ দিকে উত্তর কোরিয়ার নেতার সঙ্গে সাক্ষাতের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
ট্রাম্প আরও বলেন, কিম জং উনের সঙ্গে ‘ভালো সম্পর্ক রাখা’ গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর দাবি, উত্তর কোরিয়ার কাছে বর্তমানে ৫৭টি ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে।






















