ঢাকা ০৪:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন নৌপথের উদ্যোগ, মাসকাটে আরব পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৩৪:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 31

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ওমানের রাজধানী মাসকাটে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের আট দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

বৈঠকে ইরান ও ওমানের উদ্যোগে প্রস্তাবিত একটি নতুন নৌপথ নিয়ে চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর বিষয়টি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)-কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান জানান, নতুন নেভিগেশন রুট চালুর বিষয়ে মাসকাটের বৈঠকে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতিনিধিরা এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করবেন।

আরও পড়ুন  জাতিসংঘের মহাসচিবের সঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বৈঠক: ভবিষ্যত পরিকল্পনা ও চ্যালেঞ্জ

ইরানের প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে যেসব দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করা হয়েছে, সেই দেশগুলোর প্রতিনিধিরাও বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। ফলে হরমুজ প্রণালি ঘিরে নিরাপদ বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও নৌ-অবরোধ প্রসঙ্গে পেজেশকিয়ান বলেন, সামরিক সংঘাতে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে ইরানকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। তবে তার দাবি, ইরানের অর্থনীতি কেবল সমুদ্রপথের বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল নয়। ফলে অবরোধ আরোপ করে দেশটিকে পুরোপুরি থামিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে না।
তবে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার বিষয়ে একটি শর্তের কথাও জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে হামলা ও অবরোধ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে, তাহলে ইরানও হরমুজ প্রণালি আবার উন্মুক্ত করে দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তুত থাকবে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি জানিয়েছেন, মাসকাটের বৈঠকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের আটটি দেশ অংশ নেবে। বাণিজ্যিক জাহাজগুলো কীভাবে নিরাপদে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারে, মূলত সে বিষয়েই আলোচনা হবে।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চয়তা দেওয়া কঠিন বলেও সতর্ক করেছেন বাকায়ি। তার মতে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও অবরোধ অব্যাহত থাকলে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জিং হবে।

এর আগে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রস্তাবিত নতুন নৌপথের নিয়ন্ত্রণ ও চলাচলের বিষয়ে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। এখন মাসকাটের বৈঠক থেকে কী ধরনের সিদ্ধান্ত আসে, সেটিই দেখার বিষয়। তবে বৈঠকের বিষয়ে ওমান সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেয়নি।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

নিউজটি শেয়ার করুন

হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন নৌপথের উদ্যোগ, মাসকাটে আরব পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

আপডেট সময় ১২:৩৪:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ওমানের রাজধানী মাসকাটে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের আট দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

বৈঠকে ইরান ও ওমানের উদ্যোগে প্রস্তাবিত একটি নতুন নৌপথ নিয়ে চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর বিষয়টি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)-কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান জানান, নতুন নেভিগেশন রুট চালুর বিষয়ে মাসকাটের বৈঠকে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতিনিধিরা এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করবেন।

আরও পড়ুন  জাতিসংঘের মহাসচিবের সঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বৈঠক: ভবিষ্যত পরিকল্পনা ও চ্যালেঞ্জ

ইরানের প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে যেসব দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করা হয়েছে, সেই দেশগুলোর প্রতিনিধিরাও বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। ফলে হরমুজ প্রণালি ঘিরে নিরাপদ বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও নৌ-অবরোধ প্রসঙ্গে পেজেশকিয়ান বলেন, সামরিক সংঘাতে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে ইরানকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। তবে তার দাবি, ইরানের অর্থনীতি কেবল সমুদ্রপথের বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল নয়। ফলে অবরোধ আরোপ করে দেশটিকে পুরোপুরি থামিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে না।
তবে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার বিষয়ে একটি শর্তের কথাও জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে হামলা ও অবরোধ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে, তাহলে ইরানও হরমুজ প্রণালি আবার উন্মুক্ত করে দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তুত থাকবে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি জানিয়েছেন, মাসকাটের বৈঠকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের আটটি দেশ অংশ নেবে। বাণিজ্যিক জাহাজগুলো কীভাবে নিরাপদে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারে, মূলত সে বিষয়েই আলোচনা হবে।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চয়তা দেওয়া কঠিন বলেও সতর্ক করেছেন বাকায়ি। তার মতে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও অবরোধ অব্যাহত থাকলে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জিং হবে।

এর আগে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রস্তাবিত নতুন নৌপথের নিয়ন্ত্রণ ও চলাচলের বিষয়ে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। এখন মাসকাটের বৈঠক থেকে কী ধরনের সিদ্ধান্ত আসে, সেটিই দেখার বিষয়। তবে বৈঠকের বিষয়ে ওমান সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেয়নি।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি