ঢাকা ১২:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

সফর শেষে মল-মূত্র নিয়েই দেশে ফিরবেন পুতিন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:১৫:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 116

ছবি সংগৃহীত

 

ভারত সফর শেষে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ব্যবহৃত বর্জ্য, এমনকি মল-মূত্রও বিশেষ ব্যবস্থায় সংগ্রহ করে মস্কো নিয়ে যাওয়া হবে বলে এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যাতে তার শারীরিক অবস্থা বা স্বাস্থ্য সম্পর্কে কোনো তথ্য বিশ্লেষণ করতে না পারে, সে কারণেই এই কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

আরও পড়ুন  সিআইএ-র সিনিয়র রাশিয়া বিশেষজ্ঞ বরখাস্ত

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদেশ সফরে পুতিনের বডিগার্ডরা তার ব্যবহৃত বর্জ্য সংগ্রহ করে বিশেষভাবে সিলগালা করা ব্রিফকেসে সংরক্ষণ করেন। সফর শেষে সেটি বিমানে করে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। ২০১৭ সালে ফ্রান্স, ২০১৯ সালে সৌদি আরব এবং যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা সফরের সময়ও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

বিবিসির সাবেক সাংবাদিক ফরিদা রুস্তমোভার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৯৯ সালে রাশিয়ার নেতৃত্বে আসার পর থেকেই পুতিন বিদেশ সফরের সময় এ ধরনের ব্যবস্থা অনুসরণ করে আসছেন। এমনকি সফরে তিনি বহনযোগ্য বিশেষ টয়লেটও ব্যবহার করেন বলে দাবি করা হয়েছে।

পুতিনের বিদেশ সফরে এই অত্যন্ত গোপনীয় ও সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিচালনা করে রাশিয়ার ফেডারেল প্রোটেক্টিভ সার্ভিস (এফএসও)। তার দৃশ্যমান নিরাপত্তারক্ষীদের পাশাপাশি প্রেসিডেন্সিয়াল সিকিউরিটি সার্ভিসের (এসবিপি) বিশেষ প্রশিক্ষিত সদস্যরাও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পুতিনের খাবারে বিষপ্রয়োগ ঠেকাতেও কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। খাবার তৈরির আগে উপাদানগুলো পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হয়। এরপর রাঁধুনিদের তৈরি খাবার পুতিনকে পরিবেশনের আগে নিরাপত্তারক্ষীরা নিজেরা তা পরীক্ষা করে নেন।

পুতিন সাধারণত ফাস্টফুড ও রাতে অতিরিক্ত মাংস খাওয়া এড়িয়ে চলেন। সরকারি অনুষ্ঠানে তিনি আদা কিংবা গোলাপের চা পান করেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিদেশ সফরে পুতিনের যাতায়াতেও নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। তিনি গ্রেনেড-প্রতিরোধী ও জরুরি অক্সিজেন সুবিধাসম্পন্ন ‘রাসায়নিক বুলেটপ্রুফ’ আউরাস সেনাট লিমুজিন ব্যবহার করেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি তার জন্য ‘ডুমসডে প্লেন’ হিসেবে পরিচিত বিশেষ বিমানও প্রস্তুত থাকে।

পুতিনের ব্যবহৃত ইলিউশিন আইএল-৯৬-৩০০পিইউ বিমানে সুরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থা, জিম, মেডিকেল সেন্টারসহ বিভিন্ন আধুনিক সুবিধা রয়েছে। এমনকি পারমাণবিক হামলার নির্দেশ দেওয়ার মতো যোগাযোগ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও এতে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

 

নিউজটি শেয়ার করুন

সফর শেষে মল-মূত্র নিয়েই দেশে ফিরবেন পুতিন

আপডেট সময় ০৩:১৫:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

ভারত সফর শেষে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ব্যবহৃত বর্জ্য, এমনকি মল-মূত্রও বিশেষ ব্যবস্থায় সংগ্রহ করে মস্কো নিয়ে যাওয়া হবে বলে এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যাতে তার শারীরিক অবস্থা বা স্বাস্থ্য সম্পর্কে কোনো তথ্য বিশ্লেষণ করতে না পারে, সে কারণেই এই কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

আরও পড়ুন  ইউক্রেনে ৭২ ড্রোন নিক্ষেপ রাশিয়ার

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদেশ সফরে পুতিনের বডিগার্ডরা তার ব্যবহৃত বর্জ্য সংগ্রহ করে বিশেষভাবে সিলগালা করা ব্রিফকেসে সংরক্ষণ করেন। সফর শেষে সেটি বিমানে করে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। ২০১৭ সালে ফ্রান্স, ২০১৯ সালে সৌদি আরব এবং যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা সফরের সময়ও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

বিবিসির সাবেক সাংবাদিক ফরিদা রুস্তমোভার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৯৯ সালে রাশিয়ার নেতৃত্বে আসার পর থেকেই পুতিন বিদেশ সফরের সময় এ ধরনের ব্যবস্থা অনুসরণ করে আসছেন। এমনকি সফরে তিনি বহনযোগ্য বিশেষ টয়লেটও ব্যবহার করেন বলে দাবি করা হয়েছে।

পুতিনের বিদেশ সফরে এই অত্যন্ত গোপনীয় ও সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিচালনা করে রাশিয়ার ফেডারেল প্রোটেক্টিভ সার্ভিস (এফএসও)। তার দৃশ্যমান নিরাপত্তারক্ষীদের পাশাপাশি প্রেসিডেন্সিয়াল সিকিউরিটি সার্ভিসের (এসবিপি) বিশেষ প্রশিক্ষিত সদস্যরাও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পুতিনের খাবারে বিষপ্রয়োগ ঠেকাতেও কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। খাবার তৈরির আগে উপাদানগুলো পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হয়। এরপর রাঁধুনিদের তৈরি খাবার পুতিনকে পরিবেশনের আগে নিরাপত্তারক্ষীরা নিজেরা তা পরীক্ষা করে নেন।

পুতিন সাধারণত ফাস্টফুড ও রাতে অতিরিক্ত মাংস খাওয়া এড়িয়ে চলেন। সরকারি অনুষ্ঠানে তিনি আদা কিংবা গোলাপের চা পান করেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিদেশ সফরে পুতিনের যাতায়াতেও নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। তিনি গ্রেনেড-প্রতিরোধী ও জরুরি অক্সিজেন সুবিধাসম্পন্ন ‘রাসায়নিক বুলেটপ্রুফ’ আউরাস সেনাট লিমুজিন ব্যবহার করেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি তার জন্য ‘ডুমসডে প্লেন’ হিসেবে পরিচিত বিশেষ বিমানও প্রস্তুত থাকে।

পুতিনের ব্যবহৃত ইলিউশিন আইএল-৯৬-৩০০পিইউ বিমানে সুরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থা, জিম, মেডিকেল সেন্টারসহ বিভিন্ন আধুনিক সুবিধা রয়েছে। এমনকি পারমাণবিক হামলার নির্দেশ দেওয়ার মতো যোগাযোগ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও এতে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি