ঢাকা ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বারংবার অনুরোধেও ট্রাম্পের সাড়া পাচ্ছেন না সৌদি যুবরাজ!

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:১৬:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 25

ছবি সংগৃহীত

 

ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনীর অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সামরিক পদক্ষেপ নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্যক্তিগতভাবে চাপ দিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। তবে বারবার অনুরোধের পরও এখন পর্যন্ত সরাসরি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে অভিযানে যুক্ত করতে রাজি হননি ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র।

সূত্রগুলো জানায়, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইয়েমেনের পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজের মধ্যে একাধিকবার কথা হয়েছে। হুথিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রিয়াদ মার্কিন সামরিক সহায়তা চাইলেও ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি।

আরও পড়ুন  মহারাষ্ট্রের স্বার্থই মুখ্য, প্রয়োজনে ট্রাম্পকেও সমর্থন দেব: রাজ ঠাকরে

এর পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ এবং সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। সংবেদনশীল আলোচনা হওয়ায় তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য দিয়েছেন।

একটি সূত্রের ভাষ্য, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাডলি কুপার সমন্বয় নিয়ে আলোচনার জন্য সৌদি আরবে ছিলেন। তবে সেন্টকমের এক মুখপাত্র তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

পরিস্থিতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি বলেন, হুথিদের বিরুদ্ধে একটি জোট গঠন এবং সম্ভাব্য ইরানি পাল্টা হামলা থেকে সৌদি আরবকে সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যেই রিয়াদ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চাইছে। হুথিদের ওপর হামলা হলে ইরান সৌদি আরবের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে।

ওই ব্যক্তি আরও বলেন, ইরান বর্তমানে বিভিন্ন উপগোষ্ঠীর কাছ থেকে চাপের মুখে রয়েছে। তাদের অভিযোগ, ইরান হিজবুল্লাহ ও হামাসকে ছেড়ে দিয়েছে। ফলে হুথিদের বিরুদ্ধে হামলা হলে তেহরান কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে এবং সৌদি আরবে পাল্টা হামলা করবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ কারণেই সম্ভাব্য ইরানি হামলার ক্ষেত্রে সৌদি আরবকে সুরক্ষা দিতে একটি জোট গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সৌদি আরব সামরিক সংঘাতে জড়ালে যুক্তরাষ্ট্রও তাদের পাশে থাকবে—এমন প্রত্যাশা রিয়াদের রয়েছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, হুথিদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের আলোচনা এখনও পরিবর্তনশীল পর্যায়ে রয়েছে। এর আগে অ্যাক্সিওস প্রথম সৌদি যুবরাজের সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ এবং হুথিদের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের জন্য রিয়াদের চাপের খবর প্রকাশ করে।

এদিকে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হুথিরা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মোখা বন্দর দখল করেছে। এতে বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।

ইয়েমেন সরকার শুক্রবার জানিয়েছে, প্রণালিতে হুথিদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা সর্বশেষ দুটি দ্বীপও তারা দখল করেছে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে হুথিদের প্রভাব ও দর-কষাকষির ক্ষমতা আরও বেড়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

বারংবার অনুরোধেও ট্রাম্পের সাড়া পাচ্ছেন না সৌদি যুবরাজ!

আপডেট সময় ০২:১৬:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনীর অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সামরিক পদক্ষেপ নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্যক্তিগতভাবে চাপ দিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। তবে বারবার অনুরোধের পরও এখন পর্যন্ত সরাসরি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে অভিযানে যুক্ত করতে রাজি হননি ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র।

সূত্রগুলো জানায়, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইয়েমেনের পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজের মধ্যে একাধিকবার কথা হয়েছে। হুথিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রিয়াদ মার্কিন সামরিক সহায়তা চাইলেও ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি।

আরও পড়ুন  "গাজা কেনার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ" -ট্রাম্প

এর পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ এবং সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। সংবেদনশীল আলোচনা হওয়ায় তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য দিয়েছেন।

একটি সূত্রের ভাষ্য, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাডলি কুপার সমন্বয় নিয়ে আলোচনার জন্য সৌদি আরবে ছিলেন। তবে সেন্টকমের এক মুখপাত্র তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

পরিস্থিতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি বলেন, হুথিদের বিরুদ্ধে একটি জোট গঠন এবং সম্ভাব্য ইরানি পাল্টা হামলা থেকে সৌদি আরবকে সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যেই রিয়াদ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চাইছে। হুথিদের ওপর হামলা হলে ইরান সৌদি আরবের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে।

ওই ব্যক্তি আরও বলেন, ইরান বর্তমানে বিভিন্ন উপগোষ্ঠীর কাছ থেকে চাপের মুখে রয়েছে। তাদের অভিযোগ, ইরান হিজবুল্লাহ ও হামাসকে ছেড়ে দিয়েছে। ফলে হুথিদের বিরুদ্ধে হামলা হলে তেহরান কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে এবং সৌদি আরবে পাল্টা হামলা করবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ কারণেই সম্ভাব্য ইরানি হামলার ক্ষেত্রে সৌদি আরবকে সুরক্ষা দিতে একটি জোট গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সৌদি আরব সামরিক সংঘাতে জড়ালে যুক্তরাষ্ট্রও তাদের পাশে থাকবে—এমন প্রত্যাশা রিয়াদের রয়েছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, হুথিদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের আলোচনা এখনও পরিবর্তনশীল পর্যায়ে রয়েছে। এর আগে অ্যাক্সিওস প্রথম সৌদি যুবরাজের সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ এবং হুথিদের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের জন্য রিয়াদের চাপের খবর প্রকাশ করে।

এদিকে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হুথিরা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মোখা বন্দর দখল করেছে। এতে বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।

ইয়েমেন সরকার শুক্রবার জানিয়েছে, প্রণালিতে হুথিদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা সর্বশেষ দুটি দ্বীপও তারা দখল করেছে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে হুথিদের প্রভাব ও দর-কষাকষির ক্ষমতা আরও বেড়েছে।