সুইজারল্যান্ডে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা, অগ্রগতির দাবি তেহরানের
- আপডেট সময় ০২:১৪:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
- / 19
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতির দাবি করেছে তেহরান। একাধিক দফা আলোচনা সত্ত্বেও চূড়ান্ত সমঝোতা না হলেও মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর উদ্যোগে সুইজারল্যান্ডে নতুন করে আলোচনায় বসেছে দুই পক্ষ। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান, জ্বালানি খাত, অর্থনৈতিক বিষয় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা।
সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ বৈঠকের প্রথম দিনে অংশ নেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, জ্বালানি তেল এবং ইরানের জব্দ করা কিছু সম্পদ সংক্রান্ত আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
পাকিস্তান ও কাতারের যৌথ মধ্যস্থতা উদ্যোগের প্রশংসা করে আব্বাস আরাগচি বলেন, দুই দেশের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে লেবানন পরিস্থিতি নিয়েও ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
পাকিস্তান ও কাতারের প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি রোডম্যাপে সম্মত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। পরে ৮ এপ্রিল দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এরপর ১২ ও ১৩ এপ্রিল পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আলোচনায় কোনো সমঝোতা না এলেও পরবর্তী পর্যায়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকে।
বর্তমানে সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক এলাকায় নতুন দফার কৌশলগত আলোচনা শুরু হয়েছে। সপ্তাহজুড়ে চলা এ আলোচনার প্রধান লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নিরসন এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠা।
এর আগে যুদ্ধ বন্ধে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছিল দুই দেশ। এখন সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকে অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো নিয়ে চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির পথ খোঁজা হচ্ছে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং লেবানন সংশ্লিষ্ট যুদ্ধবিরতির মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো এখনো আলোচনার অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে।
চলমান আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার।
অন্যদিকে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিসহ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন।
মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান ও কাতার সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। সর্বশেষ বৈঠকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান বিন জসিম আল থানি উপস্থিত ছিলেন।

























