ওমানে প্রাণ হারানো ৪ ভাইয়ের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হচ্ছে আজ
- আপডেট সময় ১২:১১:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
- / 87
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে একটি প্রাইভেটকারের ভেতর এসি থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে একসঙ্গে প্রাণ হারানো চট্টগ্রামের আপন চার প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ অবশেষে দেশে পৌঁছেছে।
বুধবার (২০ মে) সকালে চার প্রবাসীর কফিনবন্দি মরদেহ তাঁদের নিজ জেলা চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়। এর আগে মঙ্গলবার (১৯ মে) রাত ৮টা ১৫ মিনিটে বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে মরদেহগুলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।
ঢাকার বিমানবন্দরে নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী।
চার ভাইয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মরদেহগুলো দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ওমানে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।
এ সময় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে লাশ পরিবহন ও দাফন-কাফনের খরচ বাবদ নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারের হাতে তাৎক্ষণিকভাবে ৩৫ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ বুধবার বেলা ১১টায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বন্দারাজারপাড়া এলাকায় নিজ গ্রামে নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে এই চার ভাইকে পাশাপাশি দাফন করার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৩ মে রাতে ওমানের আল মুলাদ্দাহ (আল মোছানা স্টেট অব আল বাতিনাহ) এলাকায় কেনাকাটা করতে গিয়ে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলেন—মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম (৩৫), সাহেদুল ইসলাম (৩২), মোহাম্মদ সিরাজ (২৭) ও মোহাম্মদ শহীদ (২৪)। তাঁরা সবাই রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বাসিন্দা এবং জীবিকার তাগিদে ওমানে কর্মরত ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বড় ভাই রাশেদ ও মেজো ভাই শাহেদ বিবাহিত হলেও ছোট দুই ভাই সিরাজ ও শহীদের দেশে ফিরে বিয়ে করার কথা প্রায় চূড়ান্ত ছিল। বিয়ের কেনাকাটা শেষ করে গত ১৩ মে রাতের ফ্লাইটেই তাঁদের বাংলাদেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু রয়্যাল ওমান পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেনাকাটা শেষে রাতে ক্লান্তিজনিত কারণে গাড়িটি চালু রেখে ভেতরেই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন তাঁরা।
এর ফলে গাড়ির এসির এগজস্ট থেকে নির্গত হওয়া মারাত্মক কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘুমন্ত অবস্থাতেই শ্বাস বন্ধ হয়ে চার ভাইয়ের করুণ মৃত্যু হয়। স্বজনদের শেষ দেখার অপেক্ষায় থাকা পুরো পরিবারটিতে এখন শুধুই কান্নার রোল।























