ঢাকা ০৮:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

ইরাকে মার্কিন সামরিক বিমান ভূপাতিত

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:২০:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
  • / 136

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরাকি প্রতিরোধ যোদ্ধারা পশ্চিম ইরাকে একটি মার্কিন সামরিক বিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে। তাদের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই দাবি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে জানিয়েছে, বিমানটি কোনো শত্রুপক্ষের হামলায় ভূপাতিত হয়নি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, পশ্চিম ইরাকে একটি মার্কিন কেসি-১৩৫ আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে একই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত আরেকটি বিমান নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে।

ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক সদর দপ্তর খাতামুল আম্বিয়ার মুখপাত্র বৃহস্পতিবার রাতে জানান, পশ্চিম ইরাকের প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মার্কিন সামরিক জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানটি ভূপাতিত হয়েছে। এতে বিমানে থাকা ছয়জন ক্রু সদস্যের সবাই নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  ভারত মহাসাগর দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পথে মার্কিন রণতরী

এ বিষয়ে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর জনসংযোগ বিভাগও একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রতিরোধ ফ্রন্টের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে একটি জ্বালানি সরবরাহকারী সামরিক বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। হামলার সময় বিমানটি একটি আক্রমণকারী যুদ্ধবিমানে জ্বালানি সরবরাহ করছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনায় ছয়জন ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়।

ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র জোট ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও আকাশসীমা রক্ষার জন্য বিমানটি গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে ব্যবহৃত এই ধরনের জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান মার্কিন সামরিক বাহিনীর দীর্ঘপাল্লার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাধারণত এসব বিমানে তিনজন ক্রু সদস্য থাকে—একজন পাইলট, একজন সহ-পাইলট এবং একজন অপারেটর, যিনি অন্য বিমানে জ্বালানি সরবরাহের কাজ নিয়ন্ত্রণ করেন।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরান ও ইরাকি গোষ্ঠীগুলোর এই দাবি জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা বিমানটি হারানোর বিষয়ে অবগত রয়েছে, তবে এই ঘটনা কোনো শত্রুপক্ষের হামলা কিংবা নিজেদের ভুলবশত হামলার কারণে ঘটেনি।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত সাতজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভেতরে ছয় হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরাকে মার্কিন সামরিক বিমান ভূপাতিত

আপডেট সময় ১১:২০:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরাকি প্রতিরোধ যোদ্ধারা পশ্চিম ইরাকে একটি মার্কিন সামরিক বিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে। তাদের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই দাবি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে জানিয়েছে, বিমানটি কোনো শত্রুপক্ষের হামলায় ভূপাতিত হয়নি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, পশ্চিম ইরাকে একটি মার্কিন কেসি-১৩৫ আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে একই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত আরেকটি বিমান নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে।

ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক সদর দপ্তর খাতামুল আম্বিয়ার মুখপাত্র বৃহস্পতিবার রাতে জানান, পশ্চিম ইরাকের প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মার্কিন সামরিক জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানটি ভূপাতিত হয়েছে। এতে বিমানে থাকা ছয়জন ক্রু সদস্যের সবাই নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  ট্রাম্পের শুল্কনীতিতে বিপর্যস্ত মার্কিন অর্থনীতি, ছাঁটাই-ব্যয় সংকটে ব্যবসা খাত

এ বিষয়ে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর জনসংযোগ বিভাগও একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রতিরোধ ফ্রন্টের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে একটি জ্বালানি সরবরাহকারী সামরিক বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। হামলার সময় বিমানটি একটি আক্রমণকারী যুদ্ধবিমানে জ্বালানি সরবরাহ করছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনায় ছয়জন ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়।

ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র জোট ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও আকাশসীমা রক্ষার জন্য বিমানটি গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে ব্যবহৃত এই ধরনের জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান মার্কিন সামরিক বাহিনীর দীর্ঘপাল্লার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাধারণত এসব বিমানে তিনজন ক্রু সদস্য থাকে—একজন পাইলট, একজন সহ-পাইলট এবং একজন অপারেটর, যিনি অন্য বিমানে জ্বালানি সরবরাহের কাজ নিয়ন্ত্রণ করেন।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরান ও ইরাকি গোষ্ঠীগুলোর এই দাবি জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা বিমানটি হারানোর বিষয়ে অবগত রয়েছে, তবে এই ঘটনা কোনো শত্রুপক্ষের হামলা কিংবা নিজেদের ভুলবশত হামলার কারণে ঘটেনি।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত সাতজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভেতরে ছয় হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।