ঢাকা ০৭:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
দিল্লি পুলিশকে ‘গুন্ডা’ বললেন নাসিরুদ্দিন শাহ জ্বালানিখাতের সংকট উত্তরণে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে আলোচনা এলএনজি টার্মিনাল বন্ধে গ্যাস সরবরাহ কমেছে, বিদ্যুৎ সংকটের আশঙ্কা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিটিএমএর সৌজন্য সাক্ষাৎ উত্তপ্ত দিল্লি, বন্ধ মেট্রো: তেলাপোকা দমনে কঠোর পুলিশ, ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ইউপি চেয়ারম্যান পদে স্নাতক যোগ্যতা চেয়ে হাইকোর্টের রুল চট্টগ্রামে অপহরণের দুই দিন পর শিশুকে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩ তেলাপোকার আন্দোলনের সমর্থনে গানের মুক্তি পেছালেন গায়ক আরমান মালিক তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি, প্লাবনের শঙ্কায় নিম্নাঞ্চল

শ্যাম্পুর চাকরির প্রলোভনে যুদ্ধের ময়দানে পাঠানো হচ্ছে আফ্রিকান যুবকদের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৪৯:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ জুন ২০২৫
  • / 451

ছবি সংগৃহীত

 

আফ্রিকান দরিদ্র কৃষক ও যুবকদের ‘শ্যাম্পু কারখানায় চাকরি’ দেওয়ার নাম করে ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার একটি মানবপাচার চক্র আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে ছদ্মবেশে ‘চাকরির এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করছে। তারা স্থানীয় বেকার তরুণদের রাশিয়ার নামী প্রসাধনী কোম্পানিতে কাজের লোভ দেখিয়ে আকর্ষণ করে। বলা হয়, মাসে মোটা অঙ্কের বেতন, থাকা-খাওয়ার সুবিধা এবং বৈধ কাজের কাগজ মিলবে।

আরও পড়ুন  হুথির যুদ্ধ ঘোষণা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা

তবে বাস্তব চিত্র একেবারে ভিন্ন। রাশিয়ায় পৌঁছেই ওইসব যুবকদের ‘চাকরি’ নামক স্বপ্নে ছেদ পড়ে। তাদের জোর করে নিয়ে যাওয়া হয় সামরিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে। শুরু হয় অস্ত্র চালনা ও রণকৌশলের কড়া প্রশিক্ষণ। এরপর এক সময় তাদের পাঠানো হয় ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখভাগে যেখানে তারা জীবন হারাচ্ছেন বা ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর হাতে বন্দি হচ্ছেন।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এটি একেবারে নতুন রকমের মানবপাচার কৌশল, যেখানে যুদ্ধ ব্যবস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়ে পরিচালিত হচ্ছে প্রতারণামূলক নিয়োগ কার্যক্রম। চাকরির নাম করে মানুষকে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘জীবন্ত ঢাল’ হিসেবে। আর এর নেপথ্যে কাজ করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সমর্থনপুষ্ট একটি শক্তিশালী চক্র।

এদিকে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীও জানিয়েছে, তারা যুদ্ধের ময়দানে বহু আফ্রিকান তরুণকে পেয়েছে যাদের যুদ্ধের কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। অধিকাংশই জানেন না কেন বা কী উদ্দেশ্যে তারা এখানে পাঠানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত রাশিয়া এখন জনবলের সংকটে পড়ায় নানা কৌশলে সেনা সংগ্রহে নামছে। আর এরই ধারাবাহিকতায় আফ্রিকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে বেছে নেওয়া হয়েছে সহজ টার্গেট হিসেবে।

এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক আদালতের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে।

তবে এখন পর্যন্ত রাশিয়ার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

শ্যাম্পুর চাকরির প্রলোভনে যুদ্ধের ময়দানে পাঠানো হচ্ছে আফ্রিকান যুবকদের

আপডেট সময় ০১:৪৯:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ জুন ২০২৫

 

আফ্রিকান দরিদ্র কৃষক ও যুবকদের ‘শ্যাম্পু কারখানায় চাকরি’ দেওয়ার নাম করে ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার একটি মানবপাচার চক্র আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে ছদ্মবেশে ‘চাকরির এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করছে। তারা স্থানীয় বেকার তরুণদের রাশিয়ার নামী প্রসাধনী কোম্পানিতে কাজের লোভ দেখিয়ে আকর্ষণ করে। বলা হয়, মাসে মোটা অঙ্কের বেতন, থাকা-খাওয়ার সুবিধা এবং বৈধ কাজের কাগজ মিলবে।

আরও পড়ুন  সস্তা ড্রোনে বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের সমীকরণ: ব্যয়ের অসমতায় চাপে প্রচলিত শক্তি

তবে বাস্তব চিত্র একেবারে ভিন্ন। রাশিয়ায় পৌঁছেই ওইসব যুবকদের ‘চাকরি’ নামক স্বপ্নে ছেদ পড়ে। তাদের জোর করে নিয়ে যাওয়া হয় সামরিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে। শুরু হয় অস্ত্র চালনা ও রণকৌশলের কড়া প্রশিক্ষণ। এরপর এক সময় তাদের পাঠানো হয় ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখভাগে যেখানে তারা জীবন হারাচ্ছেন বা ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর হাতে বন্দি হচ্ছেন।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এটি একেবারে নতুন রকমের মানবপাচার কৌশল, যেখানে যুদ্ধ ব্যবস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়ে পরিচালিত হচ্ছে প্রতারণামূলক নিয়োগ কার্যক্রম। চাকরির নাম করে মানুষকে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘জীবন্ত ঢাল’ হিসেবে। আর এর নেপথ্যে কাজ করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সমর্থনপুষ্ট একটি শক্তিশালী চক্র।

এদিকে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীও জানিয়েছে, তারা যুদ্ধের ময়দানে বহু আফ্রিকান তরুণকে পেয়েছে যাদের যুদ্ধের কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। অধিকাংশই জানেন না কেন বা কী উদ্দেশ্যে তারা এখানে পাঠানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত রাশিয়া এখন জনবলের সংকটে পড়ায় নানা কৌশলে সেনা সংগ্রহে নামছে। আর এরই ধারাবাহিকতায় আফ্রিকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে বেছে নেওয়া হয়েছে সহজ টার্গেট হিসেবে।

এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক আদালতের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে।

তবে এখন পর্যন্ত রাশিয়ার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।