ঢাকা ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

চীনের যুগান্তকারী আবিষ্কার: নকলের ভেতর থেকে আসল পারমাণবিক বোমা চিনে ফেলবে AI

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৫৫:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ মে ২০২৫
  • / 336

ছবি সংগৃহীত

 

 

বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক বিশাল অগ্রগতি ঘটিয়েছে চীন। দেশটির সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান চায়না ইনস্টিটিউট অব অ্যাটমিক এনার্জি (China Institute of Atomic Energy) সম্প্রতি একটি অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সিস্টেমের সফল উন্নয়ন ঘটিয়েছে, যা নকলের ভেতর থেকেও সত্যিকারের পারমাণবিক বোমা চিহ্নিত করতে সক্ষম।

আরও পড়ুন  পারমাণবিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব, তেহরানের ‘অবিশ্বাস’ স্পষ্ট

এই প্রযুক্তির কার্যক্রম পুরোপুরি নির্ভর করে AI, গাণিতিক নিরাপত্তা অ্যালগরিদম এবং নিউট্রন বিকিরণের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের ওপর। গবেষকদের দাবি, এটি এমন এক পদ্ধতি যা কোনো গোপন ডিজাইন বা অভ্যন্তরীণ উপাদান না জেনেও একটি বোমা আসল কি না তা শনাক্ত করতে পারে।

এই AI সিস্টেমটিকে প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে লাখ লাখ কম্পিউটার-ভিত্তিক সিমুলেশন। এতে আসল ও নকল পারমাণবিক বোমার আচরণ বিশ্লেষণ করে শেখানো হয়েছে। ফলে সিস্টেমটি এমন সূক্ষ্ম পার্থক্য বুঝতে পারে, যা সাধারণ সেন্সর বা প্রযুক্তি দিয়ে ধরা প্রায় অসম্ভব।

এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় দিক হলো আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি বাস্তবায়নে এটি নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। যেমন, কোনো দেশ যদি দাবি করে যে তারা তাদের পারমাণবিক অস্ত্র ধ্বংস করেছে, তাহলে এই AI প্রযুক্তি যাচাই করতে পারবে সত্যিই তারা ধ্বংস করেছে কি না তাও আবার কোনো গোপন তথ্য প্রকাশ না করেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের পথে নয়, বরং বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য এটি হতে পারে একটি নিরপেক্ষ ও নির্ভরযোগ্য যাচাইয়ের হাতিয়ার।

বর্তমানে এ প্রযুক্তি গবেষণার শেষ ধাপে রয়েছে। ভবিষ্যতে এটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থা ও পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্ব রাজনীতির এমন এক সময়ে, যখন পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক তখনই চীনের এই সাফল্য বৈশ্বিক নিরাপত্তা নীতিকে এক নতুন দিগন্তে পৌঁছে দিতে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের।

নিউজটি শেয়ার করুন

চীনের যুগান্তকারী আবিষ্কার: নকলের ভেতর থেকে আসল পারমাণবিক বোমা চিনে ফেলবে AI

আপডেট সময় ০৪:৫৫:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ মে ২০২৫

 

 

বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক বিশাল অগ্রগতি ঘটিয়েছে চীন। দেশটির সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান চায়না ইনস্টিটিউট অব অ্যাটমিক এনার্জি (China Institute of Atomic Energy) সম্প্রতি একটি অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সিস্টেমের সফল উন্নয়ন ঘটিয়েছে, যা নকলের ভেতর থেকেও সত্যিকারের পারমাণবিক বোমা চিহ্নিত করতে সক্ষম।

আরও পড়ুন  ইরানের বুশেহর পারমাণবিক কমপ্লেক্সের একটি ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলা

এই প্রযুক্তির কার্যক্রম পুরোপুরি নির্ভর করে AI, গাণিতিক নিরাপত্তা অ্যালগরিদম এবং নিউট্রন বিকিরণের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের ওপর। গবেষকদের দাবি, এটি এমন এক পদ্ধতি যা কোনো গোপন ডিজাইন বা অভ্যন্তরীণ উপাদান না জেনেও একটি বোমা আসল কি না তা শনাক্ত করতে পারে।

এই AI সিস্টেমটিকে প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে লাখ লাখ কম্পিউটার-ভিত্তিক সিমুলেশন। এতে আসল ও নকল পারমাণবিক বোমার আচরণ বিশ্লেষণ করে শেখানো হয়েছে। ফলে সিস্টেমটি এমন সূক্ষ্ম পার্থক্য বুঝতে পারে, যা সাধারণ সেন্সর বা প্রযুক্তি দিয়ে ধরা প্রায় অসম্ভব।

এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় দিক হলো আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি বাস্তবায়নে এটি নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। যেমন, কোনো দেশ যদি দাবি করে যে তারা তাদের পারমাণবিক অস্ত্র ধ্বংস করেছে, তাহলে এই AI প্রযুক্তি যাচাই করতে পারবে সত্যিই তারা ধ্বংস করেছে কি না তাও আবার কোনো গোপন তথ্য প্রকাশ না করেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের পথে নয়, বরং বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য এটি হতে পারে একটি নিরপেক্ষ ও নির্ভরযোগ্য যাচাইয়ের হাতিয়ার।

বর্তমানে এ প্রযুক্তি গবেষণার শেষ ধাপে রয়েছে। ভবিষ্যতে এটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থা ও পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্ব রাজনীতির এমন এক সময়ে, যখন পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক তখনই চীনের এই সাফল্য বৈশ্বিক নিরাপত্তা নীতিকে এক নতুন দিগন্তে পৌঁছে দিতে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের।