০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
কুষ্টিয়ায় বক্তব্যরত অবস্থায় জামায়াতের জেলা আমীরের মৃত্যু বাংলাদেশিদের জন্য ভিসায় বন্ড বাধ্যতামূলক করল যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনী নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য, ডগ স্কোয়াড ও ড্রোন নজরদারি ঘুমের ঘোরে কথা বলা; মনের কথা নাকি মস্তিষ্কের বিশেষ আচরণ? খুলনায় আমির হামজার বিরুদ্ধে মামলা গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিপক্ষে মার্কিন জনগণ স্পেনে দুই হাইস্পিড ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত অন্তত ২১ আলিফ হত্যা মামলার শুনানিতে চিন্ময় কৃষ্ণসহ ২৩ আসামি আদালতে জনসম্মুখে প্রথমবার বক্তব্য রাখলেন জাইমা রহমান হৃদয় ম্যাজিকে রংপুরের জয়, এক ম্যাচে জোড়া সেঞ্চুরি

গাজায় ‘ক্ষুধার্ত মানুষের দল’ হামলা চালিয়ে খাদ্যসামগ্রী লুট করেছে: ডাব্লিউএফপি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৩৯:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫
  • / 92

ছবি সংগৃহীত

 

 

গাজার মধ্যাঞ্চলের দেইর আল-বালাহ শহরের একটি খাদ্য গুদামে ‘ক্ষুধার্ত মানুষের দল’ হামলা চালিয়ে খাদ্যসামগ্রী লুট করেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডাব্লিউএফপি)। এই ঘটনায় গুলির শব্দ শোনা যায় এবং অন্তত দুইজন নিহত ও কয়েকজন আহত হন। তবে গুলির উৎস সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।

[bsa_pro_ad_space id=2]

এএফপি প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, আল-ঘাফারি গুদামে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢুকে পড়ে। তারা ময়দার বস্তা ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী বহন করে নিয়ে যেতে দেখা যায়। ডাব্লিউএফপি জানায়, গুদামটি থেকে নিয়মিতভাবে খাদ্য বিতরণের পরিকল্পনা ছিল, তবে দীর্ঘমেয়াদি অবরোধের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।

গত তিন মাসের বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলি অবরোধের ফলে গাজা এক ভয়াবহ মানবিক সংকটে নিপতিত হয়েছে। সম্প্রতি অবরোধ কিছুটা শিথিল করা হলেও খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রীর প্রবেশ এখনও অত্যন্ত সীমিত। ডাব্লিউএফপি এক বিবৃতিতে বলেছে, “গাজায় জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য সহায়তা বাড়ানো প্রয়োজন। একমাত্র দ্রুত সহায়তা বৃদ্ধি করলেই মানুষকে অনাহার থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।”

সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছিল যে, সাহায্যের পরিমাণ সীমিত রাখা হলে তা একটি বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে। এই আশঙ্কাই বাস্তবে রূপ নিচ্ছে—ক্ষুধার্ত মানুষ লুটপাটে নামতে বাধ্য হচ্ছে।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানায়, বুধবার তারা ১২১টি ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেয়, যার মধ্যে ছিল ময়দা ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী। তবে জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্য দূত সিগ্রিদ কাগ এই সহায়তা সম্পর্কে মন্তব্য করেন, “ডুবে যাওয়া জাহাজে লাইফবোট ছোড়া হয়েছে মাত্র।” তিনি বলেন, গাজার মানুষ এখন কার্যত দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমর্থিত ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)’ নামে একটি বিতর্কিত ত্রাণ বিতরণ নেটওয়ার্ক গঠিত হয়েছে, যা জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে মার্কিন নিরাপত্তা ঠিকাদারদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। জাতিসংঘ এই উদ্যোগকে ‘অকার্যকর ও নীতিবিরোধী’ বলে অভিহিত করেছে।

জিএইচএফ গাজার দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে চারটি বিতরণ কেন্দ্র স্থাপন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দাবি, এই কেন্দ্রগুলো হামাসকে ত্রাণ লুটপাট থেকে বিরত রাখতে সাহায্য করছে। তবে হামাস এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর জানিয়েছে, রাফাহ শহরের একটি জিএইচএফ বিতরণ কেন্দ্রে উদ্বোধনের দিনেই ভিড়ের চাপে ৪৭ জন আহত হন। অপর এক জাতিসংঘ কর্মকর্তা জানান, স্থানীয় জনগণ জাতিসংঘের ট্রাক থেকে সরাসরি ত্রাণসামগ্রী লুট করে নিচ্ছে।

জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি অঞ্চল বিষয়ক মানবিক প্রধান জোনাথন হুইটল জানান, হামাসের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের ত্রাণ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কোনো প্রমাণ নেই। বরং গাজার কেরেম শালোম সীমান্তে কিছু অপরাধী গোষ্ঠী ইসরায়েলি বাহিনীর ছত্রছায়ায় এই লুটপাট চালাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

জাতিসংঘ বলছে, পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতির সময় যে পরিমাণ ত্রাণ প্রবাহ সম্ভব হয়েছিল, বর্তমানেও সেই মাত্রায় সহায়তা পৌঁছাতে পারলে ক্ষুধার্ত মানুষের হাতে খাদ্য পৌঁছানো সম্ভব হবে এবং লুটপাটও প্রতিহত করা যাবে।

সূত্র: বিবিসি

নিউজটি শেয়ার করুন

[bsa_pro_ad_space id=4]

গাজায় ‘ক্ষুধার্ত মানুষের দল’ হামলা চালিয়ে খাদ্যসামগ্রী লুট করেছে: ডাব্লিউএফপি

আপডেট সময় ০৩:৩৯:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫

 

 

গাজার মধ্যাঞ্চলের দেইর আল-বালাহ শহরের একটি খাদ্য গুদামে ‘ক্ষুধার্ত মানুষের দল’ হামলা চালিয়ে খাদ্যসামগ্রী লুট করেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডাব্লিউএফপি)। এই ঘটনায় গুলির শব্দ শোনা যায় এবং অন্তত দুইজন নিহত ও কয়েকজন আহত হন। তবে গুলির উৎস সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।

[bsa_pro_ad_space id=2]

এএফপি প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, আল-ঘাফারি গুদামে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢুকে পড়ে। তারা ময়দার বস্তা ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী বহন করে নিয়ে যেতে দেখা যায়। ডাব্লিউএফপি জানায়, গুদামটি থেকে নিয়মিতভাবে খাদ্য বিতরণের পরিকল্পনা ছিল, তবে দীর্ঘমেয়াদি অবরোধের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।

গত তিন মাসের বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলি অবরোধের ফলে গাজা এক ভয়াবহ মানবিক সংকটে নিপতিত হয়েছে। সম্প্রতি অবরোধ কিছুটা শিথিল করা হলেও খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রীর প্রবেশ এখনও অত্যন্ত সীমিত। ডাব্লিউএফপি এক বিবৃতিতে বলেছে, “গাজায় জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য সহায়তা বাড়ানো প্রয়োজন। একমাত্র দ্রুত সহায়তা বৃদ্ধি করলেই মানুষকে অনাহার থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।”

সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছিল যে, সাহায্যের পরিমাণ সীমিত রাখা হলে তা একটি বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে। এই আশঙ্কাই বাস্তবে রূপ নিচ্ছে—ক্ষুধার্ত মানুষ লুটপাটে নামতে বাধ্য হচ্ছে।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানায়, বুধবার তারা ১২১টি ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেয়, যার মধ্যে ছিল ময়দা ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী। তবে জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্য দূত সিগ্রিদ কাগ এই সহায়তা সম্পর্কে মন্তব্য করেন, “ডুবে যাওয়া জাহাজে লাইফবোট ছোড়া হয়েছে মাত্র।” তিনি বলেন, গাজার মানুষ এখন কার্যত দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমর্থিত ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)’ নামে একটি বিতর্কিত ত্রাণ বিতরণ নেটওয়ার্ক গঠিত হয়েছে, যা জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে মার্কিন নিরাপত্তা ঠিকাদারদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। জাতিসংঘ এই উদ্যোগকে ‘অকার্যকর ও নীতিবিরোধী’ বলে অভিহিত করেছে।

জিএইচএফ গাজার দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে চারটি বিতরণ কেন্দ্র স্থাপন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দাবি, এই কেন্দ্রগুলো হামাসকে ত্রাণ লুটপাট থেকে বিরত রাখতে সাহায্য করছে। তবে হামাস এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর জানিয়েছে, রাফাহ শহরের একটি জিএইচএফ বিতরণ কেন্দ্রে উদ্বোধনের দিনেই ভিড়ের চাপে ৪৭ জন আহত হন। অপর এক জাতিসংঘ কর্মকর্তা জানান, স্থানীয় জনগণ জাতিসংঘের ট্রাক থেকে সরাসরি ত্রাণসামগ্রী লুট করে নিচ্ছে।

জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি অঞ্চল বিষয়ক মানবিক প্রধান জোনাথন হুইটল জানান, হামাসের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের ত্রাণ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কোনো প্রমাণ নেই। বরং গাজার কেরেম শালোম সীমান্তে কিছু অপরাধী গোষ্ঠী ইসরায়েলি বাহিনীর ছত্রছায়ায় এই লুটপাট চালাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

জাতিসংঘ বলছে, পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতির সময় যে পরিমাণ ত্রাণ প্রবাহ সম্ভব হয়েছিল, বর্তমানেও সেই মাত্রায় সহায়তা পৌঁছাতে পারলে ক্ষুধার্ত মানুষের হাতে খাদ্য পৌঁছানো সম্ভব হবে এবং লুটপাটও প্রতিহত করা যাবে।

সূত্র: বিবিসি