ঢাকা ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

গাজায় ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৭৬, আহত ১৮৫

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:২২:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ মে ২০২৫
  • / 465

ছবি সংগৃহীত

 

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর লাগাতার হামলা আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ মে) সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার (২৩ মে) সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বর হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭৬ জন ফিলিস্তিনি। নিহতদের মধ্যে ৫০ জনই গাজার উত্তরাঞ্চলের জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দা ছিলেন।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ সময় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৮৫ জন। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ চাপা পড়ে আছেন, ফলে নিহত ও আহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

আরও পড়ুন  গাজায় একদিনে ইসরায়েলি হামলায় নিহত আরও ৩৯

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজার শাসকগোষ্ঠী হামাস ইসরায়েলে অতর্কিত হামলা চালায়। ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন ইসরায়েলি নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল পরদিন থেকেই গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে।

১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা অভিযানে গাজায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৫৩ হাজার ৮২২ জন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৩৮২ জন। নিহত ও আহতদের মধ্যে ৫৬ শতাংশই নারী ও শিশু।

চলমান আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইসরায়েল চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে, ১৮ মার্চ থেকে ফের গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ)। এই দ্বিতীয় দফার অভিযানে গত আড়াই মাসে নিহত হয়েছেন আরও ৩ হাজার ৬৭৩ জন ফিলিস্তিনি, আহত হয়েছেন ১০ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি।

অন্যদিকে, হামাসের হাতে বন্দি থাকা ২৫১ জন জিম্মির মধ্যে এখনো অন্তত ৩৫ জন জীবিত রয়েছে বলে ধারণা করছে ইসরায়েল। তাদের উদ্ধারে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আইডিএফ।

দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সংঘাতে গাজা পরিণত হয়েছে এক মৃত্যুকূপে। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও তা উপেক্ষিতই থেকে যাচ্ছে।

এই ধ্বংসযজ্ঞে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ, বিশেষত নারী ও শিশুরা। মানবিক সহায়তার অভাবে গাজা উপত্যকার পরিস্থিতি আরও করুণ হয়ে উঠছে দিনদিন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজায় ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৭৬, আহত ১৮৫

আপডেট সময় ১০:২২:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ মে ২০২৫

 

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর লাগাতার হামলা আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ মে) সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার (২৩ মে) সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বর হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭৬ জন ফিলিস্তিনি। নিহতদের মধ্যে ৫০ জনই গাজার উত্তরাঞ্চলের জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দা ছিলেন।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ সময় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৮৫ জন। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ চাপা পড়ে আছেন, ফলে নিহত ও আহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

আরও পড়ুন  ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এ স্থায়ী আসন পেতে দিতে হবে ১ বিলিয়ন ডলার।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজার শাসকগোষ্ঠী হামাস ইসরায়েলে অতর্কিত হামলা চালায়। ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন ইসরায়েলি নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল পরদিন থেকেই গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে।

১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা অভিযানে গাজায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৫৩ হাজার ৮২২ জন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৩৮২ জন। নিহত ও আহতদের মধ্যে ৫৬ শতাংশই নারী ও শিশু।

চলমান আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইসরায়েল চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে, ১৮ মার্চ থেকে ফের গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ)। এই দ্বিতীয় দফার অভিযানে গত আড়াই মাসে নিহত হয়েছেন আরও ৩ হাজার ৬৭৩ জন ফিলিস্তিনি, আহত হয়েছেন ১০ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি।

অন্যদিকে, হামাসের হাতে বন্দি থাকা ২৫১ জন জিম্মির মধ্যে এখনো অন্তত ৩৫ জন জীবিত রয়েছে বলে ধারণা করছে ইসরায়েল। তাদের উদ্ধারে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আইডিএফ।

দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সংঘাতে গাজা পরিণত হয়েছে এক মৃত্যুকূপে। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও তা উপেক্ষিতই থেকে যাচ্ছে।

এই ধ্বংসযজ্ঞে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ, বিশেষত নারী ও শিশুরা। মানবিক সহায়তার অভাবে গাজা উপত্যকার পরিস্থিতি আরও করুণ হয়ে উঠছে দিনদিন।