ঢাকা ১২:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরানের বন্দর শহীদ রাজাইয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ৪০, আহত ১২০০

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৫৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৫
  • / 491

ছবি সংগৃহীত

 

 

ইরানের বৃহত্তম বাণিজ্যিক বন্দর শহীদ রাজাইয়ে শনিবার ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৪০ জন নিহত এবং ১২০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ঘটনাটিকে ‘হৃদয়বিদারক’ বলে অভিহিত করে সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি নিরাপত্তা ও বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন  চীন থেকে যুদ্ধবিমান কেনার খবর ভিত্তিহীন, ইরানের কড়া প্রতিবাদ

বিস্ফোরণের পর হরমুজগান প্রদেশে তিন দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি, সোমবার দেশব্যাপী জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করেছে সরকার।

বন্দর এলাকার দমবন্ধ ধোঁয়া ও বায়ুদূষণের কারণে হরমুজগান প্রদেশের রাজধানী বন্দর আব্বাসের সব স্কুল ও অফিস রবিবার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জনগণকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঘরের বাইরে না যাওয়ার এবং সুরক্ষামূলক মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলের এই শহীদ রাজাই বন্দর হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত। উল্লেখ্য, এই প্রণালির মধ্য দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।

নিউইয়র্ক টাইমস-এর খবরে বলা হয়েছে, ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, বিস্ফোরিত পদার্থ ছিল সোডিয়াম পারক্লোরেট, যা কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অন্যতম উপাদান। তবে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালাই-নিক রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানান, বন্দর এলাকায় কোনো সামরিক জ্বালানি বা সামরিক কার্গো ছিল না।

বন্দরের কাস্টমস অফিস জানিয়েছে, সম্ভবত বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ সংরক্ষিত একটি গুদামে আগুন লাগার পর এই বিস্ফোরণ ঘটে। এক আঞ্চলিক জরুরি কর্মকর্তা বলেন, কয়েকটি কনটেইনার বিস্ফোরিত হয়েছে এবং এর ফলে বিশাল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

আয়াতুল্লাহ খামেনি দেশের সব কর্মকর্তাকে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সকলের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

বিস্ফোরণের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। জরুরি বিভাগের কর্মীরা এখনও উদ্ধার ও সহায়তা কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরানের বন্দর শহীদ রাজাইয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ৪০, আহত ১২০০

আপডেট সময় ১১:৫৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৫

 

 

ইরানের বৃহত্তম বাণিজ্যিক বন্দর শহীদ রাজাইয়ে শনিবার ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৪০ জন নিহত এবং ১২০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ঘটনাটিকে ‘হৃদয়বিদারক’ বলে অভিহিত করে সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি নিরাপত্তা ও বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন  চকরিয়ায় বাস দুর্ঘটনা: নিহত ২, আহত ৫

বিস্ফোরণের পর হরমুজগান প্রদেশে তিন দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি, সোমবার দেশব্যাপী জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করেছে সরকার।

বন্দর এলাকার দমবন্ধ ধোঁয়া ও বায়ুদূষণের কারণে হরমুজগান প্রদেশের রাজধানী বন্দর আব্বাসের সব স্কুল ও অফিস রবিবার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জনগণকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঘরের বাইরে না যাওয়ার এবং সুরক্ষামূলক মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলের এই শহীদ রাজাই বন্দর হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত। উল্লেখ্য, এই প্রণালির মধ্য দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।

নিউইয়র্ক টাইমস-এর খবরে বলা হয়েছে, ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, বিস্ফোরিত পদার্থ ছিল সোডিয়াম পারক্লোরেট, যা কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অন্যতম উপাদান। তবে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালাই-নিক রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানান, বন্দর এলাকায় কোনো সামরিক জ্বালানি বা সামরিক কার্গো ছিল না।

বন্দরের কাস্টমস অফিস জানিয়েছে, সম্ভবত বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ সংরক্ষিত একটি গুদামে আগুন লাগার পর এই বিস্ফোরণ ঘটে। এক আঞ্চলিক জরুরি কর্মকর্তা বলেন, কয়েকটি কনটেইনার বিস্ফোরিত হয়েছে এবং এর ফলে বিশাল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

আয়াতুল্লাহ খামেনি দেশের সব কর্মকর্তাকে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সকলের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

বিস্ফোরণের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। জরুরি বিভাগের কর্মীরা এখনও উদ্ধার ও সহায়তা কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।