ঢাকা ১১:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেসেজে ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’, কুবি শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শিক্ষকের অভিযোগ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:২২:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 18

ছবি সংগৃহীত

 

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) মার্কেটিং বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শিক্ষকের মেসেজে ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই প্রতিক্রিয়াকে অশোভন ও অসম্মানজনক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করে শিক্ষকের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর সার্টিফিকেট আটকে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন শিক্ষার্থী। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জানিয়েছেন, কোনো তদন্ত কমিটির সুপারিশ ছাড়া সার্টিফিকেট আটকে রাখার সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন  'বিশ্বজুড়ে বর্জ্যের সভ্যতা, আত্মবিনাশের পথে মানবজাতি': কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ে ড. ইউনূস

অভিযোগকারী শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমান মার্কেটিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের এমবিএর শিক্ষার্থী।
মুজিবুর রহমানের অভিযোগ, ইন্টার্নশিপের ফলাফল নিয়ে তিনি শিক্ষককে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি মেসেজ দেন। পরে শিক্ষক ওই মেসেজের উত্তর দেন। সেই উত্তরে তিনি ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়।

গত ২৫ আগস্ট মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহের নিগারের স্বাক্ষরে রেজিস্ট্রার দপ্তরে একটি অভিযোগ দেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়, মুজিবুর রহমান ইন্টার্নশিপে যথেষ্ট মনোযোগ দেননি। তিনি নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে ইন্টার্নশিপের প্রতিবেদন জমা দেন। তবে তার শিক্ষাজীবনের বিষয়টি বিবেচনা করে প্রতিবেদন গ্রহণ করা হয় এবং নিয়ম অনুযায়ী তাকে নম্বর দেওয়া হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ফল প্রকাশের পর মুজিবুর রহমান শিক্ষককে জানান যে তিনি ইন্টার্নশিপে পাস করেছেন। এ সময় তিনি শিক্ষককে ধন্যবাদ জানান। পরে শিক্ষক তার মেসেজের উত্তর দিলে তিনি সেখানে ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেন। শিক্ষক এটিকে অসম্মানজনক আচরণ হিসেবে অভিযোগ করেন।

অভিযোগকারী শিক্ষক মাশিয়াত যাহিন বলেন, “আমার সঙ্গে যে ঘটনাটি ঘটেছে, আমার মনে হয়েছে বিষয়টি যথাযথভাবে জানানো উচিত। তাই বিভাগীয় প্রধানের মাধ্যমে রেজিস্ট্রারকে বিষয়টি জানিয়েছি। এরপর কী হয়েছে, তা আমি জানি না।”

অন্যদিকে শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমান বলেন, “আমি সার্টিফিকেট নিতে বিভাগে আসার পর অফিস থেকে ফোন করে বলা হয়, আমি যেন সার্টিফিকেট না তুলি। বিভাগের সঙ্গে বিষয়টি ঠিক না হওয়া পর্যন্ত সার্টিফিকেট দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “আমি একটি মেসেজে শিক্ষককে ধন্যবাদ দিয়েছি। তিনি রিপ্লাই দেওয়ার পর আমি সেখানে ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দিয়েছি। এখন একটি ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’-এর জন্য আমার সার্টিফিকেট আটকে রাখা যায় কি না, সেটাই জানতে চাই।”

মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহের নিগার বলেন, “ওনার বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো, কোর্স শিক্ষকের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন। কী ঘটেছে, তা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকই ভালো বলতে পারবেন। রেজিস্ট্রার দপ্তরে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। সার্টিফিকেট আটকে রাখা হয়েছে কি না, তা আমি জানি না।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরী বলেন, “এভাবে সার্টিফিকেট আটকানো যায় না। যদি কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, তারা সাময়িকভাবে সার্টিফিকেট আটকে রাখার সুপারিশ করতে পারেন।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মজিবুর রহমান মজুমদার বলেন, “আমরা এমন একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি উপ-উপাচার্যের কাছে পাঠানো হবে। তিনি বিষয়টি দেখবেন।”

 

নিউজটি শেয়ার করুন

মেসেজে ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’, কুবি শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শিক্ষকের অভিযোগ

আপডেট সময় ১০:২২:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) মার্কেটিং বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শিক্ষকের মেসেজে ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই প্রতিক্রিয়াকে অশোভন ও অসম্মানজনক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করে শিক্ষকের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর সার্টিফিকেট আটকে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন শিক্ষার্থী। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জানিয়েছেন, কোনো তদন্ত কমিটির সুপারিশ ছাড়া সার্টিফিকেট আটকে রাখার সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন  'বিশ্বজুড়ে বর্জ্যের সভ্যতা, আত্মবিনাশের পথে মানবজাতি': কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ে ড. ইউনূস

অভিযোগকারী শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমান মার্কেটিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের এমবিএর শিক্ষার্থী।
মুজিবুর রহমানের অভিযোগ, ইন্টার্নশিপের ফলাফল নিয়ে তিনি শিক্ষককে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি মেসেজ দেন। পরে শিক্ষক ওই মেসেজের উত্তর দেন। সেই উত্তরে তিনি ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়।

গত ২৫ আগস্ট মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহের নিগারের স্বাক্ষরে রেজিস্ট্রার দপ্তরে একটি অভিযোগ দেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়, মুজিবুর রহমান ইন্টার্নশিপে যথেষ্ট মনোযোগ দেননি। তিনি নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে ইন্টার্নশিপের প্রতিবেদন জমা দেন। তবে তার শিক্ষাজীবনের বিষয়টি বিবেচনা করে প্রতিবেদন গ্রহণ করা হয় এবং নিয়ম অনুযায়ী তাকে নম্বর দেওয়া হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ফল প্রকাশের পর মুজিবুর রহমান শিক্ষককে জানান যে তিনি ইন্টার্নশিপে পাস করেছেন। এ সময় তিনি শিক্ষককে ধন্যবাদ জানান। পরে শিক্ষক তার মেসেজের উত্তর দিলে তিনি সেখানে ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেন। শিক্ষক এটিকে অসম্মানজনক আচরণ হিসেবে অভিযোগ করেন।

অভিযোগকারী শিক্ষক মাশিয়াত যাহিন বলেন, “আমার সঙ্গে যে ঘটনাটি ঘটেছে, আমার মনে হয়েছে বিষয়টি যথাযথভাবে জানানো উচিত। তাই বিভাগীয় প্রধানের মাধ্যমে রেজিস্ট্রারকে বিষয়টি জানিয়েছি। এরপর কী হয়েছে, তা আমি জানি না।”

অন্যদিকে শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমান বলেন, “আমি সার্টিফিকেট নিতে বিভাগে আসার পর অফিস থেকে ফোন করে বলা হয়, আমি যেন সার্টিফিকেট না তুলি। বিভাগের সঙ্গে বিষয়টি ঠিক না হওয়া পর্যন্ত সার্টিফিকেট দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “আমি একটি মেসেজে শিক্ষককে ধন্যবাদ দিয়েছি। তিনি রিপ্লাই দেওয়ার পর আমি সেখানে ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দিয়েছি। এখন একটি ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’-এর জন্য আমার সার্টিফিকেট আটকে রাখা যায় কি না, সেটাই জানতে চাই।”

মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহের নিগার বলেন, “ওনার বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো, কোর্স শিক্ষকের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন। কী ঘটেছে, তা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকই ভালো বলতে পারবেন। রেজিস্ট্রার দপ্তরে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। সার্টিফিকেট আটকে রাখা হয়েছে কি না, তা আমি জানি না।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরী বলেন, “এভাবে সার্টিফিকেট আটকানো যায় না। যদি কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, তারা সাময়িকভাবে সার্টিফিকেট আটকে রাখার সুপারিশ করতে পারেন।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মজিবুর রহমান মজুমদার বলেন, “আমরা এমন একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি উপ-উপাচার্যের কাছে পাঠানো হবে। তিনি বিষয়টি দেখবেন।”