ঢাকা ০৮:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করার ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নরসিংদীতে ছুরিকাঘাতে পিতাকে হত্যা, অভিযুক্ত ছেলে পলাতক নিখোঁজের চার দিন পর খালে বৃদ্ধার মরদেহ মাদক মামলার বিচার দ্রুত করতে ২২ ট্রাইব্যুনাল গঠন আমাদের বোমায় নারী-শিশু নিহত হচ্ছে, ট্রাম্পের সমালোচনায় মার্কিন কংগ্রেস সদস্য জনস্বার্থের প্রকল্পে নতুন অর্থের উৎস খুঁজছে সরকার: অর্থমন্ত্রী গ্যাস-বিদ্যুৎ নিয়ে পরামর্শ দিন, রাজপথে হুমকি নয়: রিজভী ‘যৌনাঙ্গ চুরি’র গুজবে আফ্রিকায় ৮০ জনের বেশি নিহত সাংবাদিকদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করছে সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী ধর্মঘট প্রত্যাহার ভারতীয়দের, শনিবার থেকে হিলি বন্দরে বাণিজ্য শুরু

বিশ্বব্যাপী ঋণ সংকটের আশঙ্কা: হুঁশিয়ারি দিলেন বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:২১:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৫
  • / 484

ছবি সংগৃহীত

 

বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া এবং বাণিজ্যে মন্দা দেখা দেওয়ায় ঋণ সংকটের ঝুঁকিতে থাকা দেশের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইন্দরমিত গিল জানিয়েছেন, গত এক বছরে এই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫-এ।

তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে যদি প্রবৃদ্ধির গতি কমে, বাণিজ্যের পরিমাণ হ্রাস পায় এবং সুদের হার উচ্চ পর্যায়ে স্থির থাকে, তাহলে বহু দেশ ঋণ সংকটে পড়বে। এমনকি যারা পণ্য রফতানিকারক দেশ বলেও পরিচিত, তারাও এই সংকটের বাইরে থাকবে না।

আরও পড়ুন  রসুনের ভালো ফলনেও লোকসানের শঙ্কায় খানসামার কৃষকরা

বিশ্বব্যাপী এই ঝুঁকির পেছনে মূল কারণ হিসেবে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক মন্দার কথা উল্লেখ করেন। বাণিজ্য যুদ্ধের ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্য হ্রাস পেয়েছে, যা অনেক দেশের অর্থনীতিকে দুর্বল করে তুলেছে। ফলে, এসব দেশের জন্য ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা কমে গেছে।

বিশ্বব্যাংকের মতে, ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার এই আশঙ্কাজনক প্রবণতা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আরও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, তাদের বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা অনেক বেশি। ইন্দরমিত গিলের মতে, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট আরও ঘনীভূত হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘‘বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি খুবই জটিল। অনেক দেশের ঋণের বোঝা বেড়েছে, কিন্তু আয়ের উৎস কমে যাচ্ছে। বাণিজ্য যদি আরও কমে এবং সুদের হার যদি কমানো না হয়, তাহলে এই সমস্যা আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করবে।’’

বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে যেসব দেশ মূলত পণ্য রফতানির ওপর নির্ভরশীল, তারাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ, বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়ার ফলে তাদের রফতানি আয় হ্রাস পাচ্ছে এবং ঋণ পরিশোধে তারা হিমশিম খাচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী ঋণ পরিস্থিতি নিয়ে এই সতর্কবার্তা এমন সময় এলো, যখন অনেক দেশ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। তবে ইন্দরমিত গিলের মতে, সঠিক নীতিমালা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশ্বব্যাপী ঋণ সংকটের আশঙ্কা: হুঁশিয়ারি দিলেন বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ

আপডেট সময় ১১:২১:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৫

 

বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া এবং বাণিজ্যে মন্দা দেখা দেওয়ায় ঋণ সংকটের ঝুঁকিতে থাকা দেশের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইন্দরমিত গিল জানিয়েছেন, গত এক বছরে এই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫-এ।

তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে যদি প্রবৃদ্ধির গতি কমে, বাণিজ্যের পরিমাণ হ্রাস পায় এবং সুদের হার উচ্চ পর্যায়ে স্থির থাকে, তাহলে বহু দেশ ঋণ সংকটে পড়বে। এমনকি যারা পণ্য রফতানিকারক দেশ বলেও পরিচিত, তারাও এই সংকটের বাইরে থাকবে না।

আরও পড়ুন  পোশাক খাতে গত আট মাসে দেশের রপ্তানি আয় হয়েছে ২৬.৭৯ বিলিয়ন ডলার, অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত

বিশ্বব্যাপী এই ঝুঁকির পেছনে মূল কারণ হিসেবে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক মন্দার কথা উল্লেখ করেন। বাণিজ্য যুদ্ধের ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্য হ্রাস পেয়েছে, যা অনেক দেশের অর্থনীতিকে দুর্বল করে তুলেছে। ফলে, এসব দেশের জন্য ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা কমে গেছে।

বিশ্বব্যাংকের মতে, ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার এই আশঙ্কাজনক প্রবণতা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আরও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, তাদের বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা অনেক বেশি। ইন্দরমিত গিলের মতে, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট আরও ঘনীভূত হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘‘বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি খুবই জটিল। অনেক দেশের ঋণের বোঝা বেড়েছে, কিন্তু আয়ের উৎস কমে যাচ্ছে। বাণিজ্য যদি আরও কমে এবং সুদের হার যদি কমানো না হয়, তাহলে এই সমস্যা আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করবে।’’

বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে যেসব দেশ মূলত পণ্য রফতানির ওপর নির্ভরশীল, তারাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ, বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়ার ফলে তাদের রফতানি আয় হ্রাস পাচ্ছে এবং ঋণ পরিশোধে তারা হিমশিম খাচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী ঋণ পরিস্থিতি নিয়ে এই সতর্কবার্তা এমন সময় এলো, যখন অনেক দেশ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। তবে ইন্দরমিত গিলের মতে, সঠিক নীতিমালা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে।