ঢাকা ০৭:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করার ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নরসিংদীতে ছুরিকাঘাতে পিতাকে হত্যা, অভিযুক্ত ছেলে পলাতক নিখোঁজের চার দিন পর খালে বৃদ্ধার মরদেহ মাদক মামলার বিচার দ্রুত করতে ২২ ট্রাইব্যুনাল গঠন আমাদের বোমায় নারী-শিশু নিহত হচ্ছে, ট্রাম্পের সমালোচনায় মার্কিন কংগ্রেস সদস্য জনস্বার্থের প্রকল্পে নতুন অর্থের উৎস খুঁজছে সরকার: অর্থমন্ত্রী গ্যাস-বিদ্যুৎ নিয়ে পরামর্শ দিন, রাজপথে হুমকি নয়: রিজভী ‘যৌনাঙ্গ চুরি’র গুজবে আফ্রিকায় ৮০ জনের বেশি নিহত সাংবাদিকদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করছে সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী ধর্মঘট প্রত্যাহার ভারতীয়দের, শনিবার থেকে হিলি বন্দরে বাণিজ্য শুরু

গাজায় পোলিও টিকাদান স্থগিত, ৬ লাখ শিশু ঝুঁকিতে

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:১০:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৫
  • / 473

ছবি সংগৃহীত

গাজা উপত্যকা ইসরায়েলি আগ্রাসনে পরিণত হয়েছে এক বিপর্যস্ত ধ্বংসস্তূপে। ধ্বংস হয়েছে ঘরবাড়ি, স্কুল, হাসপাতালসহ সমস্ত জীবনযাপনের অবকাঠামো। ইতোমধ্যে প্রাণ হারিয়েছে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। অবরোধের কারণে ত্রাণ প্রবেশ না করায় ভয়াবহ খাদ্য সংকটে দিন কাটাচ্ছে গাজার বাসিন্দারা। এরমধ্যে বিভিন্ন রোগের আশঙ্কাও বাড়ছে।

এই সংকটময় পরিস্থিতিতে গাজায় পোলিও টিকাদান কর্মসূচি স্থগিত হওয়ায় নতুন করে বিপদের মুখে পড়েছে হাজার হাজার শিশু। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র খলিল দেকরান সতর্ক করে বলেছেন, অবিলম্বে টিকাদান শুরু না হলে এটি এক ভয়াবহ স্বাস্থ্য বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।

আল জাজিরার বরাতে জানা যায়, বুধবার এক বিবৃতিতে খলিল দেকরান বলেন, “পোলিও ভ্যাকসিন সকল শিশুর কাছে দ্রুত পৌঁছানো না গেলে আমরা সামনে একটি বাস্তব বিপর্যয় দেখবো। শিশুদের জীবন রাজনৈতিক চাপে ব্যবহারের জায়গা হতে পারে না।”

আরও পড়ুন  গাজায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে চলেছে: ধ্বংসস্তূপে আরও ২২ লাশ উদ্ধার

তিনি জানান, গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলের কঠোর অবরোধের কারণে গাজায় কোনো ধরনের চিকিৎসা সামগ্রী প্রবেশ করতে পারছে না। এতে প্রায় ৬ লাখ ২ হাজার শিশু পোলিওর মতো মারাত্মক রোগে স্থায়ী পক্ষাঘাত ও দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক অক্ষমতার ঝুঁকিতে পড়েছে।

গাজায় দুই দশকের বেশি সময় পর গত বছর প্রথমবারের মতো পোলিও রোগ ফিরে আসে। সে সময় এক ১০ মাস বয়সী শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয়। এরপর জাতিসংঘ, ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন সংস্থার যৌথ উদ্যোগে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিন দফা টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হয়।

কিন্তু চলমান যুদ্ধ ও অবরোধের ফলে এই কার্যক্রম আবারও থেমে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পোলিওসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়বে।

গাজার শিশুদের জীবন রক্ষায় আন্তর্জাতিক সহায়তা এবং টিকাদান কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার দাবি জানিয়েছেন মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজায় পোলিও টিকাদান স্থগিত, ৬ লাখ শিশু ঝুঁকিতে

আপডেট সময় ১১:১০:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৫

গাজা উপত্যকা ইসরায়েলি আগ্রাসনে পরিণত হয়েছে এক বিপর্যস্ত ধ্বংসস্তূপে। ধ্বংস হয়েছে ঘরবাড়ি, স্কুল, হাসপাতালসহ সমস্ত জীবনযাপনের অবকাঠামো। ইতোমধ্যে প্রাণ হারিয়েছে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। অবরোধের কারণে ত্রাণ প্রবেশ না করায় ভয়াবহ খাদ্য সংকটে দিন কাটাচ্ছে গাজার বাসিন্দারা। এরমধ্যে বিভিন্ন রোগের আশঙ্কাও বাড়ছে।

এই সংকটময় পরিস্থিতিতে গাজায় পোলিও টিকাদান কর্মসূচি স্থগিত হওয়ায় নতুন করে বিপদের মুখে পড়েছে হাজার হাজার শিশু। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র খলিল দেকরান সতর্ক করে বলেছেন, অবিলম্বে টিকাদান শুরু না হলে এটি এক ভয়াবহ স্বাস্থ্য বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।

আল জাজিরার বরাতে জানা যায়, বুধবার এক বিবৃতিতে খলিল দেকরান বলেন, “পোলিও ভ্যাকসিন সকল শিশুর কাছে দ্রুত পৌঁছানো না গেলে আমরা সামনে একটি বাস্তব বিপর্যয় দেখবো। শিশুদের জীবন রাজনৈতিক চাপে ব্যবহারের জায়গা হতে পারে না।”

আরও পড়ুন  গাজায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে চলেছে: ধ্বংসস্তূপে আরও ২২ লাশ উদ্ধার

তিনি জানান, গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলের কঠোর অবরোধের কারণে গাজায় কোনো ধরনের চিকিৎসা সামগ্রী প্রবেশ করতে পারছে না। এতে প্রায় ৬ লাখ ২ হাজার শিশু পোলিওর মতো মারাত্মক রোগে স্থায়ী পক্ষাঘাত ও দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক অক্ষমতার ঝুঁকিতে পড়েছে।

গাজায় দুই দশকের বেশি সময় পর গত বছর প্রথমবারের মতো পোলিও রোগ ফিরে আসে। সে সময় এক ১০ মাস বয়সী শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয়। এরপর জাতিসংঘ, ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন সংস্থার যৌথ উদ্যোগে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিন দফা টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হয়।

কিন্তু চলমান যুদ্ধ ও অবরোধের ফলে এই কার্যক্রম আবারও থেমে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পোলিওসহ অন্যান্য সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়বে।

গাজার শিশুদের জীবন রক্ষায় আন্তর্জাতিক সহায়তা এবং টিকাদান কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার দাবি জানিয়েছেন মানবাধিকার সংস্থাগুলো।