ঢাকা ০৬:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :

ইবোলায় বিশ্বজুড়ে ‘আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা’ জারি করল ডব্লিউএইচও

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৪০:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
  • / 90

ছবি সংগৃহীত

 

আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো) এবং উগান্ডায় প্রাণঘাতী ও অত্যন্ত সংক্রামক রোগ ‘ইবোলা’ নতুন করে ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি করেছে জাতিসংঘের বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত অঙ্গসংগঠন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
সোমবার (১৮ মে) সকালে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। ডব্লিউএইচও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, বর্তমানে ল্যাবগুলোতে যে সংখ্যার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে, বাস্তব ক্ষেত্রে আক্রান্তের সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি এবং এটি আঞ্চলিক গণ্ডি পেরিয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, ডিআর কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৪৬টি সন্দেহভাজন সংক্রমণ এবং ৮০ জনের মৃত্যুর খবর রেকর্ড করা হয়েছে। এবারের বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য মূলত দায়ী ‘বুন্ডিবুগিও’ নামের একটি বিশেষ ধরনের ইবোলা ভাইরাস।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ভাইরাসের এই নির্দিষ্ট ধরনটির বিরুদ্ধে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এখনো কোনো অনুমোদিত ওষুধ বা কার্যকর প্রতিষেধক টিকা আবিষ্কার বা সার্টিফাইড করা নেই। ইবোলার প্রাথমিক উপসর্গের মধ্যে রয়েছে তীব্র জ্বর, পেশিতে প্রচণ্ড ব্যথা, ক্লান্তি, মাথাব্যথা ও গলাব্যথা; যা পরবর্তী সময়ে বমি, ডায়রিয়া, শরীরে র‍্যাশ এবং অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক রক্তক্ষরণে রূপ নেয়।

আরও পড়ুন  মাদকবিরোধী অভিযানে মানবতাবিরোধী অপরাধের সব দায় নিলেন দুতার্তে, আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

প্রতিবেদনে বলা হয়, কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়া এবং স্বর্ণখনি অধ্যুষিত মংগওয়ালু ও রোয়ামপারা এলাকায় বহু মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এমনকি দেশটির রাজধানী কিনশাসাতেও একজন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন, যিনি ইতুরি থেকে ফেরার পর সংক্রমিত হন।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী এম২৩ নিয়ন্ত্রিত গোমা শহরেও ইবোলার সংক্রমণ মিলেছে। এদিকে কঙ্গোর বাইরে প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও ইতিমধ্যে দুইজনের সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে, যার মধ্যে গত বৃহস্পতিবার এক কঙ্গোলিজ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ডিআর কঙ্গোতে অন্তত ছয়জন মার্কিন নাগরিক ইবোলার সরাসরি সংস্পর্শে এসেছেন। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা সিডিসি (CDC) কঙ্গো ও উগান্ডায় অতিরিক্ত স্বাস্থ্যকর্মী ও বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে এবং মার্কিন নাগরিকদের ইতুরি প্রদেশে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সম্ভাব্য সংক্রমণ দ্রুত রুখতে কঙ্গোর প্রতিবেশী দেশ রুয়ান্ডা তাদের সীমান্তে কঠোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও নজরদারি জোরদার করেছে।

ডব্লিউএইচও আক্রান্ত দেশগুলোকে জরুরি অপারেশন সেন্টার চালু, রোগী আলাদা রাখা (আইসোলেশন) এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। তবে সংস্থাটি স্পষ্ট করে বলেছে, আতঙ্কের বশে হুট করে আন্তর্জাতিক সীমান্ত সম্পূর্ণ বন্ধ করা বা কঠোর ভ্রমণ-ব্যবসায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বা যৌক্তিকতা নেই।
উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালে প্রথম ডিআর কঙ্গোতে বাদুড় থেকে ছড়ানো এই ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হয়, যার ফলে গত ৫০ বছরে আফ্রিকায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষ মারা গেছেন। এর আগে ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে কঙ্গোয় ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাবে প্রায় ২ হাজার ৩০০ মানুষের করুণ মৃত্যু হয়েছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইবোলায় বিশ্বজুড়ে ‘আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা’ জারি করল ডব্লিউএইচও

আপডেট সময় ১২:৪০:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

 

আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো) এবং উগান্ডায় প্রাণঘাতী ও অত্যন্ত সংক্রামক রোগ ‘ইবোলা’ নতুন করে ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি করেছে জাতিসংঘের বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত অঙ্গসংগঠন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
সোমবার (১৮ মে) সকালে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। ডব্লিউএইচও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, বর্তমানে ল্যাবগুলোতে যে সংখ্যার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে, বাস্তব ক্ষেত্রে আক্রান্তের সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি এবং এটি আঞ্চলিক গণ্ডি পেরিয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, ডিআর কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৪৬টি সন্দেহভাজন সংক্রমণ এবং ৮০ জনের মৃত্যুর খবর রেকর্ড করা হয়েছে। এবারের বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য মূলত দায়ী ‘বুন্ডিবুগিও’ নামের একটি বিশেষ ধরনের ইবোলা ভাইরাস।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ভাইরাসের এই নির্দিষ্ট ধরনটির বিরুদ্ধে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এখনো কোনো অনুমোদিত ওষুধ বা কার্যকর প্রতিষেধক টিকা আবিষ্কার বা সার্টিফাইড করা নেই। ইবোলার প্রাথমিক উপসর্গের মধ্যে রয়েছে তীব্র জ্বর, পেশিতে প্রচণ্ড ব্যথা, ক্লান্তি, মাথাব্যথা ও গলাব্যথা; যা পরবর্তী সময়ে বমি, ডায়রিয়া, শরীরে র‍্যাশ এবং অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক রক্তক্ষরণে রূপ নেয়।

আরও পড়ুন  সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ বাতিল, নতুন অধ্যাদেশ জারি করল সরকার

প্রতিবেদনে বলা হয়, কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়া এবং স্বর্ণখনি অধ্যুষিত মংগওয়ালু ও রোয়ামপারা এলাকায় বহু মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এমনকি দেশটির রাজধানী কিনশাসাতেও একজন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন, যিনি ইতুরি থেকে ফেরার পর সংক্রমিত হন।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী এম২৩ নিয়ন্ত্রিত গোমা শহরেও ইবোলার সংক্রমণ মিলেছে। এদিকে কঙ্গোর বাইরে প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও ইতিমধ্যে দুইজনের সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে, যার মধ্যে গত বৃহস্পতিবার এক কঙ্গোলিজ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ডিআর কঙ্গোতে অন্তত ছয়জন মার্কিন নাগরিক ইবোলার সরাসরি সংস্পর্শে এসেছেন। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা সিডিসি (CDC) কঙ্গো ও উগান্ডায় অতিরিক্ত স্বাস্থ্যকর্মী ও বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে এবং মার্কিন নাগরিকদের ইতুরি প্রদেশে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সম্ভাব্য সংক্রমণ দ্রুত রুখতে কঙ্গোর প্রতিবেশী দেশ রুয়ান্ডা তাদের সীমান্তে কঠোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও নজরদারি জোরদার করেছে।

ডব্লিউএইচও আক্রান্ত দেশগুলোকে জরুরি অপারেশন সেন্টার চালু, রোগী আলাদা রাখা (আইসোলেশন) এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। তবে সংস্থাটি স্পষ্ট করে বলেছে, আতঙ্কের বশে হুট করে আন্তর্জাতিক সীমান্ত সম্পূর্ণ বন্ধ করা বা কঠোর ভ্রমণ-ব্যবসায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বা যৌক্তিকতা নেই।
উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালে প্রথম ডিআর কঙ্গোতে বাদুড় থেকে ছড়ানো এই ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হয়, যার ফলে গত ৫০ বছরে আফ্রিকায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষ মারা গেছেন। এর আগে ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে কঙ্গোয় ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাবে প্রায় ২ হাজার ৩০০ মানুষের করুণ মৃত্যু হয়েছিল।