ঢাকা ১০:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ইনিংস ব্যবধানে হার বাংলাদেশের ঘন ঘন পেট খারাপের নেপথ্যে প্রেশার কুকার? র‍্যাব বিলুপ্ত করে ‘এসআরবি’ গঠনের উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর রোববার, থাকছে একাধিক কর্মসূচি হরমুজে বিকল্প করিডর হতে দেবেনা ইরান, যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্কবার্তা শেখ হাসিনার বক্তব্যের সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই: দিল্লি অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে নদীতে ডুবিয়ে হত্যার অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন গ্রেপ্তার নাইটক্লাবে হামলার অভিযোগে ইভান টনির বিরুদ্ধে মামলা শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হোক: আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান

র‍্যাব বিলুপ্ত করে ‘এসআরবি’ গঠনের উদ্যোগ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:৪৭:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / 23

ছবি: সংগৃহীত

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ নামে বাংলাদেশ পুলিশের নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ শীর্ষক একটি খসড়া আইন প্রস্তুত করে জনমতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) প্রকাশিত খসড়া আইনে নতুন বাহিনীর কাঠামো, দায়িত্ব, ক্ষমতা, প্রশাসন এবং জবাবদিহির বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

খসড়া অনুযায়ী, এসআরবি বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কাজ করবে। এর সদর দপ্তর ঢাকায় থাকবে। তবে সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে দেশের অন্য এলাকাতেও ইউনিট স্থাপন করা যাবে। বাহিনীর মহাপরিচালক হিসেবে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন  র‍্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করল মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

নতুন ইউনিটের দায়িত্বের মধ্যে সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, সংঘবদ্ধ অপরাধ, মাদক, অবৈধ অস্ত্র, বিস্ফোরক এবং অন্যান্য গুরুতর অপরাধ দমন ও তদন্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশে বিশেষ ধরনের মামলার তদন্ত ও পরিচালনার দায়িত্বও পালন করতে পারবে এসআরবি।

খসড়া আইনে বলা হয়েছে, শুধু পুলিশ নয়, অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকেও সদস্যদের প্রেষণে এনে এ ইউনিটে নিয়োগ দেওয়া যাবে। প্রেষণে নিয়োগের ন্যূনতম মেয়াদ দুই বছর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আইন কার্যকর হলে নির্ধারিত বিধিমালার আওতায় এসআরবির সদস্যরা অস্ত্র বহন, তল্লাশি, জব্দ এবং গ্রেপ্তারের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। এছাড়া ইউনিটের নিজস্ব হেফাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ স্থাপনেরও বিধান রাখা হয়েছে। যেসব বিষয়ে পৃথক বিধান থাকবে না, সেসব ক্ষেত্রে প্রচলিত ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করা হবে।

খসড়ায় বাহিনীর সদস্যদের জন্য পৃথক শৃঙ্খলা ও আচরণবিধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। কর্তব্যে অবহেলা, অসদাচরণ বা আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিধানও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

জবাবদিহি নিশ্চিত করতে খসড়া আইনে একটি অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। কমিটির সভাপতি হবেন এসআরবির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক। সদস্য হিসেবে থাকবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, পুলিশ সদর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা, পরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া) এবং মানবাধিকার, আইন বা বিচার প্রশাসনে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সরকার মনোনীত একজন ব্যক্তি।

খসড়া অনুযায়ী, কমিটি নাগরিকদের অভিযোগ তদন্ত করতে পারবে। প্রয়োজনে পৃথক অনুসন্ধান দল গঠন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করার ক্ষমতাও থাকবে। বাহিনীর কার্যক্রমে অনিয়ম, হয়রানি বা বিধিবহির্ভূত প্রভাবের অভিযোগও কমিটি পর্যালোচনা করতে পারবে।

এছাড়া কোনো সদস্য শৃঙ্খলাভঙ্গ বা অন্য কোনো ফৌজদারি অপরাধ করে পলাতক হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক তাকে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেবেন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অনুরোধ পাঠানো হবে এবং সেটি আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার সমতুল্য হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জনমত ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়-বিভাগের মতামত পর্যালোচনার পর খসড়াটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। সেখানে অনুমোদন পেলে পরে জাতীয় সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে।

উল্লেখ্য, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ২০০৪ সালে তৎকালীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের উদ্যোগে পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে গঠিত হয়। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস দমন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের লক্ষ্যেই বাহিনীটির কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

র‍্যাব বিলুপ্ত করে ‘এসআরবি’ গঠনের উদ্যোগ

আপডেট সময় ০৮:৪৭:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ নামে বাংলাদেশ পুলিশের নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ শীর্ষক একটি খসড়া আইন প্রস্তুত করে জনমতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) প্রকাশিত খসড়া আইনে নতুন বাহিনীর কাঠামো, দায়িত্ব, ক্ষমতা, প্রশাসন এবং জবাবদিহির বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

খসড়া অনুযায়ী, এসআরবি বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কাজ করবে। এর সদর দপ্তর ঢাকায় থাকবে। তবে সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে দেশের অন্য এলাকাতেও ইউনিট স্থাপন করা যাবে। বাহিনীর মহাপরিচালক হিসেবে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন  র‍্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করল মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

নতুন ইউনিটের দায়িত্বের মধ্যে সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, সংঘবদ্ধ অপরাধ, মাদক, অবৈধ অস্ত্র, বিস্ফোরক এবং অন্যান্য গুরুতর অপরাধ দমন ও তদন্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশে বিশেষ ধরনের মামলার তদন্ত ও পরিচালনার দায়িত্বও পালন করতে পারবে এসআরবি।

খসড়া আইনে বলা হয়েছে, শুধু পুলিশ নয়, অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকেও সদস্যদের প্রেষণে এনে এ ইউনিটে নিয়োগ দেওয়া যাবে। প্রেষণে নিয়োগের ন্যূনতম মেয়াদ দুই বছর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আইন কার্যকর হলে নির্ধারিত বিধিমালার আওতায় এসআরবির সদস্যরা অস্ত্র বহন, তল্লাশি, জব্দ এবং গ্রেপ্তারের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। এছাড়া ইউনিটের নিজস্ব হেফাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ স্থাপনেরও বিধান রাখা হয়েছে। যেসব বিষয়ে পৃথক বিধান থাকবে না, সেসব ক্ষেত্রে প্রচলিত ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করা হবে।

খসড়ায় বাহিনীর সদস্যদের জন্য পৃথক শৃঙ্খলা ও আচরণবিধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। কর্তব্যে অবহেলা, অসদাচরণ বা আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিধানও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

জবাবদিহি নিশ্চিত করতে খসড়া আইনে একটি অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। কমিটির সভাপতি হবেন এসআরবির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক। সদস্য হিসেবে থাকবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, পুলিশ সদর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা, পরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া) এবং মানবাধিকার, আইন বা বিচার প্রশাসনে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সরকার মনোনীত একজন ব্যক্তি।

খসড়া অনুযায়ী, কমিটি নাগরিকদের অভিযোগ তদন্ত করতে পারবে। প্রয়োজনে পৃথক অনুসন্ধান দল গঠন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করার ক্ষমতাও থাকবে। বাহিনীর কার্যক্রমে অনিয়ম, হয়রানি বা বিধিবহির্ভূত প্রভাবের অভিযোগও কমিটি পর্যালোচনা করতে পারবে।

এছাড়া কোনো সদস্য শৃঙ্খলাভঙ্গ বা অন্য কোনো ফৌজদারি অপরাধ করে পলাতক হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক তাকে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেবেন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অনুরোধ পাঠানো হবে এবং সেটি আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার সমতুল্য হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জনমত ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়-বিভাগের মতামত পর্যালোচনার পর খসড়াটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। সেখানে অনুমোদন পেলে পরে জাতীয় সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে।

উল্লেখ্য, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ২০০৪ সালে তৎকালীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের উদ্যোগে পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে গঠিত হয়। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস দমন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের লক্ষ্যেই বাহিনীটির কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।