বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় উত্থান: আউন্স ছাড়াল ৪৭০০ ডলার
- আপডেট সময় ১২:৩৯:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
- / 42
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। তেলের দাম কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ও দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ সুদের হার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত হয়েছে, যার সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে মূল্যবান এই ধাতুর ওপর। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) স্পট গোল্ড বা তাৎক্ষণিক স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭৫৪ দশমিক ৮৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে জুন ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৭৭২ দশমিক ৬০ ডলারে উন্নীত হয়েছে।
গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ঘোষণায় জানান, শান্তি আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে তিনি ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়াচ্ছেন। পূর্বনির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে আসা এই ঘোষণাটি বিশ্ববাজারে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এই সিদ্ধান্তটি আপাতত একতরফা বলে মনে করা হচ্ছে এবং ইরান বা ইসরায়েল এই যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মত হবে কি না, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে।
বাজার বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেয়ারের মতে, যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ফলে বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা কমেছে। তবে তিনি সতর্ক করেছেন যে, যদি এই যুদ্ধবিরতি কোনো কারণে ভেঙে যায় এবং পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হয়, তবে ডলারের মান ও সুদের হার বেড়ে যাবে, যা স্বর্ণের দামের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর ইতিমধ্যে বিশ্ব শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে এবং ডলারের বিপরীতে তেলের দাম কিছুটা নিম্নমুখী হয়েছে।
ব্রিটিশ বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড এক নোটে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বাজারে তারল্য প্রবাহের ওপর স্বর্ণের দামের ওঠানামা নির্ভর করছে। যদিও বর্তমানে দাম বাড়ছে, তবে স্বল্পমেয়াদে বাজার সংশোধনের ঝুঁকিও রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণ পুনরায় রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে বলে তারা আভাস দিয়েছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও আজ ঊর্ধ্বমুখী ছিল। স্পট রুপার দাম ১.৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৭.৯৭ ডলার হয়েছে। এছাড়া প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম যথাক্রমে ১.৭ শতাংশ ও ১.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা এখন মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার দিকে নজর রাখছেন।

























