ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে লুটের অভিযোগ
- আপডেট সময় ১১:১৭:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
- / 26
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ডিবি পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে এক কাপড় ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা, তল্লাশির নামে আসবাবপত্র ভাঙচুর এবং নগদ অর্থ লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার (২২ জুন) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বুরুমদী গ্রামের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী রিয়াদ কবিরের বাড়িতে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয়ে প্রবেশ করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় পিয়ার হোসেন, মাসুম, শফিকুল ইসলাম, আল-আমিন (৪৮), লিটন হোসেন, ফর্মা হোসেনসহ আরও ৪ থেকে ৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন।
এজাহারসদৃশ অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা রিয়াদ কবিরকে মারধর করেন এবং বাড়িতে মাদক রয়েছে দাবি করে বিভিন্ন কক্ষ তল্লাশি চালান। এ সময় ঘরের আসবাবপত্র তছনছ করা হয়। অভিযোগে আরও উল্লেখ আছে, তল্লাশির একপর্যায়ে ঘরে থাকা নগদ ৪ লাখ টাকা নিয়ে যান তারা। পরে মামলা ও গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
অভিযোগকারী দাবি করেন, চলে যাওয়ার সময় হামলাকারীরা একটি পরিচয়পত্র ফেলে যান। সেখানে অজয় কুমার জয় নামে একজনের নাম, ‘সেপয়’ পদবি, ‘ডিপার্টমেন্ট অব নারকোটিক্স কন্ট্রোল বাংলাদেশ’ এবং একটি পরিচয় নম্বর উল্লেখ ছিল। পাশাপাশি একটি জাতীয় পরিচয়পত্রও পাওয়া গেছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে রিয়াদ কবির বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
রিয়াদ কবিরের দাবি, পূর্ব শত্রুতার জেরে একটি চক্র পুলিশের সোর্স ব্যবহার করে তার পরিবারকে হয়রানির চেষ্টা করছে। মাদক উদ্ধারের অজুহাতে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আসবাবপত্র নষ্ট করা হয় এবং নগদ অর্থ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নিরাপত্তাহীনতা ও ভবিষ্যৎ হয়রানির আশঙ্কা থেকেই তিনি থানার শরণাপন্ন হয়েছেন বলে জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত পিয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তার দাবি, ঘটনার আগের তিন দিন তিনি ওই এলাকায় যাননি এবং কেউ তাকে সেখানে দেখেছে—এমন প্রমাণ দিতে পারবে না।
তবে তিনি শুনেছেন, প্রশাসনের কিছু লোককে রিয়াদ কবির ও তার পরিবারের সদস্যরা মারধর করেছেন।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ডিবি পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে কাউকে হয়রানি করা গুরুতর অপরাধ। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে তদন্ত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
























