শিশুকে আছাড় দিয়ে হত্যা, মায়ের অভিযোগে বাবা আটক
- আপডেট সময় ১০:০৭:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
- / 26
ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় দুই মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তার বাবার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিশুটির মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত বাবাকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার, ১১ জুন সন্ধ্যায় উপজেলার ভূমি অফিসসংলগ্ন মোহাম্মদ আলী মেম্বার কলোনি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
নিহত শিশুর নাম জুনায়েদ। তার বাবা মো. সুলতান (৩০) নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি ফুলগাজীতে ধান কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
পরিবারের দাবি, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সুলতান ঘুমন্ত শিশুকে কোলে নেন। কিছু সময় পর শিশুটির অস্বাভাবিক অবস্থা দেখে মা রুনা আক্তার কারণ জানতে চাইলে সুলতান তাকে জানান, শিশু কোল থেকে পড়ে গেছে এবং উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।
রুনা আক্তার অভিযোগ করেন, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তাকে ও সন্তানকে নির্যাতন করতেন। ঘটনার পর সন্তানকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে সুলতান বাধা দেন। এমনকি বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশি জটিলতা হতে পারে বলে ভয় দেখিয়ে তাকে ঘরে আটকে রাখেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পরবর্তীতে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে তাকে ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে রুনা আক্তার পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, তার স্বামী শিশু জুনায়েদকে আছাড় দিয়ে হত্যা করেছেন। তিনি সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচার ও অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
অন্যদিকে অভিযুক্ত সুলতানের দাবি, শিশুকে কোলে নিয়ে খেলার সময় অসাবধানতাবশত হাত থেকে পড়ে গিয়ে সে আঘাত পায়।
ফেনী জেনারেল হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ মেহেদী হাসান জানান, শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করার পর তার মা হত্যার অভিযোগ করেন। একই সময়ে ফুলগাজী থানা থেকে অভিযুক্তকে আটকের নির্দেশনা আসে। পরে তাকে আটক করে থানাকে অবহিত করা হয়।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তানভীর মাহমুদ বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। শিশুটির মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিশুটির বাবাকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
























