স্বামীকে খুনের পর লাশ ৬ টুকরো করে হাড়-মাংস আলাদা করলেন স্ত্রী
- আপডেট সময় ০২:৩২:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
- / 137
শরীয়তপুর সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে জিয়া সরদার নামে এক মালয়েশিয়া প্রবাসীকে নৃশংসভাবে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রী আসমা আক্তারের বিরুদ্ধে। স্বামীকে হত্যার পর লাশ আড়াল করতে ধারালো ছুরি দিয়ে দেহটি ৬ টুকরো করে হাড় ও মাংস আলাদা করে তিনদিন ধরে ফ্রিজ ও ড্রামে লুকিয়ে রাখেন তিনি। শুক্রবার (১৫ মে) রাতে মাংসের টুকরোগুলো অন্য একটি বাসায় ফ্রিজে রাখতে গেলে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ আসমাকে আটক করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত জিয়া সরদার ও পিরোজপুরের আসমা আক্তারের এটি দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। গত বছর জিয়া মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরে শরীয়তপুর পৌরসভার চন্দ্রপুর বাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় আসমাকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। কিছুদিন ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। এরই জেরে গত ১২ মে রাতে দুজনের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আসমা রড দিয়ে জিয়ার মাথায় আঘাত করলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
জিয়া সরদারের মৃত্যুর পর আসমা তার লাশ গুম করার ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা করেন। তিনি ছুরি দিয়ে লাশ টুকরো টুকরো করে হাড় থেকে মাংস আলাদা করে ফেলেন। এরপর শুক্রবার রাতে একটি অটোরিকশা ভাড়া করে লাশের কিছু অংশ নড়িয়ার মুলফৎগঞ্জ এলাকায় পদ্মা নদীর তীরে এবং কিছু অংশ পৌরসভার আটং এলাকার বৃক্ষতলা এলাকায় ফেলে আসেন। অবশিষ্ট মাংসগুলো তিনি শহরের উত্তর পালং সাবনুর মার্কেট এলাকায় তার আগের ভাড়া বাসার এক বাসিন্দার ফ্রিজে রাখতে যান। এ সময় মাংস থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয়দের সন্দেহ হয় এবং তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিয়ে পুলিশকে জানান।
খবর পেয়ে পালং মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আসমা আক্তারকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের স্বামীকে হত্যার কথা অকপটে স্বীকার করেন। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বৃক্ষতলা এলাকার একটি পুকুর থেকে নিহতের মাথাসহ হাড় এবং নড়িয়ার পদ্মা নদীর তীর থেকে খণ্ডিত হাত-পা উদ্ধার করা হয়।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, অভিযুক্ত নারী তার স্বামীকে হত্যার পর লাশ খণ্ডিত করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। নিহতের খণ্ডিত বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে অধিকতর তদন্ত চলছে। এই ঘটনায় নিহতের পরিবার ও এলাকায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


























