ঢাকা ১১:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

গরু কিনে বাড়ি ফেরা হলো না, মাদারীপুরে বাবা-ছেলেসহ ৫ জন নিহত

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৪৫:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ জুন ২০২৫
  • / 457

ছবি সংগৃহীত

 

 

ঈদের আগে গরু কিনতে গিয়ে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বাবা-ছেলে ও ভাগনেসহ একই পরিবারের তিনজনের। বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মাদারীপুরের ভাঙ্গা-টেকেরহাট মহাসড়কের বাবলাতলা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন ও পরে হাসপাতালে আরও একজনের মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন  ঈদের দিনে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: জামালপুরে ভেঙে পড়ল ড্রাম ব্রিজ, নিহত ৫

নিহতরা হলেন শিবচরের ডাইয়ার চর গ্রামের ইব্রাহিম সরদার (৬৫), তাঁর ছেলে মনির সরদার (৩৬), ভাগনে তারা মিয়া শেখ (৪২) এবং আরও দুইজন—যাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

জানা গেছে, ইব্রাহিম সরদার ও তাঁর পরিবার নিয়মিত হাট-বাজার থেকে ছোট গরু কিনে স্থানীয় হাটে বিক্রি করতেন। এদিনও তাঁরা টেকেরহাট গরুর হাটে যাচ্ছিলেন একটি মাহিন্দ্রা (থ্রি-হুইলার) ভ্যানে করে। পথে ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদী বাবলাতলা এলাকায় রাস্তার পাশে থামানো মাহিন্দ্রায় বরিশাল থেকে ঢাকাগামী ‘মিজান পরিবহনের’ একটি দ্রুতগতির বাস এসে ধাক্কা দেয়। এতে মাহিন্দ্রা উল্টে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়।

আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজন মারা যান।

শিবচরের ডাইয়ার চর গ্রামে নিহত মনির সরদারের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে শোকের মাতম। একই সঙ্গে বাবা-ছেলেকে হারিয়ে শোকাহত পরিবার, কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী ও সন্তানরা। মনিরের এক মেয়ে এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। তার দুই ছোট ছেলেও রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ফয়েজ চৌধুরী বলেন, “মনির আমার ছোটবেলার বন্ধু। তারা গরু কিনে হাটে বিক্রি করত। ঈদের আগেই ওদের পরিবার ধ্বংস হয়ে গেল।”

আরেক প্রতিবেশী বলেন, “দুদিন পর ঈদ, অথচ এ বাড়িতে এখন কেবল শোক আর কান্না। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে কতগুলো স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল।”

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি মো. রকিবুজ্জামান বলেন, “দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছায়। নিহতদের মধ্যে তিনজন একই পরিবারের। মৃতদেহগুলো আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাসটি আটক করা হয়েছে, চালক পলাতক রয়েছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।”

স্থানীয়রা দুর্ঘটনার জন্য দ্রুতগতির বাস চলাচল এবং নিরাপত্তার অভাবকেই দায়ী করেছেন। একই সঙ্গে নিহত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

গরু কিনে বাড়ি ফেরা হলো না, মাদারীপুরে বাবা-ছেলেসহ ৫ জন নিহত

আপডেট সময় ০৭:৪৫:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ জুন ২০২৫

 

 

ঈদের আগে গরু কিনতে গিয়ে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বাবা-ছেলে ও ভাগনেসহ একই পরিবারের তিনজনের। বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মাদারীপুরের ভাঙ্গা-টেকেরহাট মহাসড়কের বাবলাতলা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন ও পরে হাসপাতালে আরও একজনের মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন  ভূমিকম্পে ঢাকায় অন্তত ৩ জন নিহত

নিহতরা হলেন শিবচরের ডাইয়ার চর গ্রামের ইব্রাহিম সরদার (৬৫), তাঁর ছেলে মনির সরদার (৩৬), ভাগনে তারা মিয়া শেখ (৪২) এবং আরও দুইজন—যাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

জানা গেছে, ইব্রাহিম সরদার ও তাঁর পরিবার নিয়মিত হাট-বাজার থেকে ছোট গরু কিনে স্থানীয় হাটে বিক্রি করতেন। এদিনও তাঁরা টেকেরহাট গরুর হাটে যাচ্ছিলেন একটি মাহিন্দ্রা (থ্রি-হুইলার) ভ্যানে করে। পথে ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদী বাবলাতলা এলাকায় রাস্তার পাশে থামানো মাহিন্দ্রায় বরিশাল থেকে ঢাকাগামী ‘মিজান পরিবহনের’ একটি দ্রুতগতির বাস এসে ধাক্কা দেয়। এতে মাহিন্দ্রা উল্টে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়।

আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজন মারা যান।

শিবচরের ডাইয়ার চর গ্রামে নিহত মনির সরদারের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে শোকের মাতম। একই সঙ্গে বাবা-ছেলেকে হারিয়ে শোকাহত পরিবার, কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী ও সন্তানরা। মনিরের এক মেয়ে এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। তার দুই ছোট ছেলেও রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ফয়েজ চৌধুরী বলেন, “মনির আমার ছোটবেলার বন্ধু। তারা গরু কিনে হাটে বিক্রি করত। ঈদের আগেই ওদের পরিবার ধ্বংস হয়ে গেল।”

আরেক প্রতিবেশী বলেন, “দুদিন পর ঈদ, অথচ এ বাড়িতে এখন কেবল শোক আর কান্না। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে কতগুলো স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল।”

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি মো. রকিবুজ্জামান বলেন, “দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছায়। নিহতদের মধ্যে তিনজন একই পরিবারের। মৃতদেহগুলো আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাসটি আটক করা হয়েছে, চালক পলাতক রয়েছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে।”

স্থানীয়রা দুর্ঘটনার জন্য দ্রুতগতির বাস চলাচল এবং নিরাপত্তার অভাবকেই দায়ী করেছেন। একই সঙ্গে নিহত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।