সালমান শাহ হ/ত্যা মা/ম/লায় গ্রে/প্তার ডনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ
- আপডেট সময় ০৬:৪০:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
- / 13
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অভিনেতা আশরাফুল হক ডনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (৯ আগস্ট) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এ আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই শাহ আলম বিষয়টি জানিয়েছেন। এর আগে রোববার ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আরিফুর রহমান তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, মামলার বাদীর এজাহারে ডনসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগ করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত চলমান এবং ডন দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী ডনকে কারাগারে রাখার পক্ষে শুনানি করেন। তবে আদালতে ডনের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।
রোববার বিকাল পৌনে ৩টার দিকে ডনকে আদালতে হাজির করা হয়। তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। পরে বিকাল ৫টার দিকে নিরাপত্তার মধ্যে তাকে এজলাসে তোলা হয়।
বিচারক জুয়েল রানা বিকাল ৫টা ৮ মিনিটের দিকে এজলাসে ওঠেন এবং ডনের পক্ষে কোনো আইনজীবী আছেন কি না জানতে চান। প্রসিকিউশন বিভাগ থেকে জানানো হয়, তার পক্ষে কোনো আইনজীবী নেই।
পরে প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী ডনকে কারাগারে রাখার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মামলাটি আলোচিত এবং দীর্ঘদিন পর নতুন পর্যায়ে এসেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ডন বিদেশে যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন থেকে আটক হন এবং পরে তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ সালমান শাহর মৃত্যুকে ঘিরে পুরোনো মামলা ও তদন্তের বিভিন্ন তথ্যও তুলে ধরে। প্রসিকিউটর বলেন, সালমান শাহর পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে হত্যার অভিযোগে মামলা করা হয়েছিল এবং ওই মামলার একজন আসামি রিজভী ওরফে ফরহাদের জবানবন্দির কথাও তদন্তে এসেছে।
এ সময় ডন তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত একটি বক্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষ তাকে জামিন দেওয়া হলে পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে উল্লেখ করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানায়।
শুনানি শেষে আদালত ডনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালতে ডনের সঙ্গে একজন আইনজীবী কথা বললেও তার পক্ষে আইনজীবী আছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি অল্প সময় আগে এসেছেন এবং তার ভাইসহ অন্যরা আসার কথা রয়েছে।
সালমান শাহ হত্যা মামলায় গত বছরের ২০ অক্টোবর তার মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মামলা করেন।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের একটি ফ্ল্যাটে চিত্রনায়ক সালমান শাহর লাশ পাওয়া যায়। ওই সময় দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে তার জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে।
ছেলের মৃত্যুর পর তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী প্রথমে একটি অপমৃত্যুর মামলা করেন। পরে সালমানকে হত্যা করা হয়েছে—এমন অভিযোগে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করেন তিনি।
এরপর অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যার অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের জন্য আদালত সিআইডিকে নির্দেশ দেয়। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সিআইডি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে জানায়, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিলেন।
ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে কমরউদ্দিন চৌধুরী রিভিশন মামলা করলে ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠানো হয়। দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট মহানগর হাকিম ইমদাদুল হক ওই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। সেখানেও হত্যার অভিযোগ নাকচ করা হয়।
তবে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী মামলাটি চালিয়ে যান। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে নারাজি দেন। একই সঙ্গে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে তাদের ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন।
এরপর মামলাটির তদন্তভার র্যাবের কাছে যায়। রাষ্ট্রপক্ষ আপত্তি জানালে ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক ইমরুল কায়েশ র্যাবকে মামলাটির তদন্ত থেকে বিরত থাকার আদেশ দেন।
পরে তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। চার বছর তদন্তের পর ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিবিআই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার সময় উপস্থিত ও ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ৫৪ জন সাক্ষীর বক্তব্য এবং জব্দ করা আলামত পর্যালোচনা করে সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে সালমান শাহর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়কে তার মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করা হয় এবং মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে বর্ণনা করা হয়।
ওই প্রতিবেদনেও অসন্তুষ্টি জানিয়ে নীলা চৌধুরী ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে আরও তদন্তের আবেদন করেন। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর পিবিআইয়ের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আসামিদের অব্যাহতির আদেশ দেন।
এরপর সালমান শাহর পরিবারের পক্ষ থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশনের আবেদন করা হয়। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক ওই রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করেন।
সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিনের অভিযোগ এবং মামলায় জড়িত রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের জবানবন্দি সংযুক্ত করে হত্যা মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের আদেশ দেওয়া হয়।
পিবিআইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের পর ২০২০ সালে ডন বলেছিলেন, সালমান শাহকে হত্যার মিথ্যা অভিযোগ থেকে তিনি মুক্ত হয়েছেন। দীর্ঘদিন বন্ধুকে হত্যার অভিযোগ বহন করার কথাও সে সময় জানিয়েছিলেন তিনি।
সেই বক্তব্যের ছয় বছর পর সালমান শাহ হত্যা মামলাতেই গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেলেন আশরাফুল হক ডন।
























