ঢাকা ০৪:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

বিমানবন্দরে হুমকির মামলায় জামায়াত নেতা গ্রেফতার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:০২:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
  • / 39

ছবি সংগৃহীত

 

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি এবং নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে জামায়াত নেতা মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের বিষয়টি যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন ডিবি উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. ইলিয়াস কবির।

আরও পড়ুন  মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পেয়ে মুক্তি পেলেন জামায়াত নেতা আজহারুল ইসলাম

এর আগে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করা, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা হয়।

শুক্রবার বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলাটি করেন। বিমানবন্দর থানার ডিউটি অফিসার এসআই জেসমিন যুগান্তরকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলাটির তদন্ত করছেন এসআই মাজেদুল।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ১ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে মদিনা থেকে আসা একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের চাপের কারণে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলির সংকট দেখা দেয়। এতে যাত্রীরা লাগেজ পেতে দেরি হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

এ পরিস্থিতিতে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের আহ্বানে ঘটনাস্থলে যান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগীব সামাদ। তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তার দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে যান বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ সময় নির্বাহী পরিচালককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের পাশাপাশি ‘আমি কিন্তু পিটাবো ধইরা’ এবং ‘ঘাড় ধরে বের করে দিব’ বলে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী সম্পর্কেও অশালীন মন্তব্য করার কথা এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

এজাহার অনুযায়ী, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা প্রটোকল সহকারীরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই) এলাকায় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ শুরু করলে। সেখানে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন ভিডিও ধারণে নিষেধ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আখতারুজ্জামান তাকে গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া অন্য যাত্রীদের ট্রলিতে থাকা জমজমের পানির বোতল ছুড়ে ফেলে ক্ষতিসাধন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগও রয়েছে মামলায়।

বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ডের ফলে বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর ও সংরক্ষিত স্থাপনায় সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

প্রতিবেদনে আখতারুজ্জামানের অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও উল্লেখ করা হয়েছে। তার সাবেক রাজনৈতিক দল বিএনপি থেকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে মোট পাঁচবার বহিষ্কৃত হওয়ার তথ্য দেওয়া হয়েছে। বারবার শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগে দলটির প্রাথমিক সদস্যপদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

তবে বিমানবন্দরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলার অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিমানবন্দরে হুমকির মামলায় জামায়াত নেতা গ্রেফতার

আপডেট সময় ০৭:০২:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

 

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি এবং নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে জামায়াত নেতা মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের বিষয়টি যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন ডিবি উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. ইলিয়াস কবির।

আরও পড়ুন  ‘জামায়াতকে এদেশের মানুষ কোনো দিন ক্ষমতায় আনবে না’: মির্জা ফখরুল

এর আগে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করা, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা হয়।

শুক্রবার বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলাটি করেন। বিমানবন্দর থানার ডিউটি অফিসার এসআই জেসমিন যুগান্তরকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলাটির তদন্ত করছেন এসআই মাজেদুল।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ১ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে মদিনা থেকে আসা একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের চাপের কারণে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলির সংকট দেখা দেয়। এতে যাত্রীরা লাগেজ পেতে দেরি হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

এ পরিস্থিতিতে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের আহ্বানে ঘটনাস্থলে যান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগীব সামাদ। তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তার দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে যান বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ সময় নির্বাহী পরিচালককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের পাশাপাশি ‘আমি কিন্তু পিটাবো ধইরা’ এবং ‘ঘাড় ধরে বের করে দিব’ বলে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী সম্পর্কেও অশালীন মন্তব্য করার কথা এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

এজাহার অনুযায়ী, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা প্রটোকল সহকারীরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই) এলাকায় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ শুরু করলে। সেখানে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন ভিডিও ধারণে নিষেধ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আখতারুজ্জামান তাকে গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া অন্য যাত্রীদের ট্রলিতে থাকা জমজমের পানির বোতল ছুড়ে ফেলে ক্ষতিসাধন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগও রয়েছে মামলায়।

বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ডের ফলে বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর ও সংরক্ষিত স্থাপনায় সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

প্রতিবেদনে আখতারুজ্জামানের অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও উল্লেখ করা হয়েছে। তার সাবেক রাজনৈতিক দল বিএনপি থেকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে মোট পাঁচবার বহিষ্কৃত হওয়ার তথ্য দেওয়া হয়েছে। বারবার শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগে দলটির প্রাথমিক সদস্যপদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

তবে বিমানবন্দরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলার অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন।