স্কুলছাত্রী অদিতা হত্যা মামলার রায়, গৃহশিক্ষক রনির মৃত্যুদণ্ড
- আপডেট সময় ০৬:০৯:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
- / 13
নোয়াখালীর বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রী তাসমিয়া হোসেন অদিতা (১৪) হত্যা মামলায় সাবেক গৃহশিক্ষক আবদুর রহিম রনিকে (৩০) মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে এই রায় ঘোষণা করা হয়।
নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম শিকদার জনাকীর্ণ আদালতে দীর্ঘ শুনানি শেষে এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে অদিতার মা রাজিয়া সুলতানা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি এই রায়ে সন্তুষ্ট। এখন প্রার্থনা করি উচ্চ আদালতেও যেন এই রায় বহাল থাকে এবং দ্রুত কার্যকর হয়।” বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোল্লা হাবিবুর রসুল মামুন বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের পিপি মো. সেলিম শাহী জানান, মোট ৪১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়েছেন। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. জসীম উদ্দিন রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন।
২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর রাতে নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার নিজ বাসা থেকে নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী অদিতার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘাতকরা তার গলা এবং দুই হাত ও পায়ের রগ কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল।
তদন্ত শেষে পুলিশ অদিতার সাবেক গৃহশিক্ষক আবদুর রহিম রনিকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়। পরবর্তীতে রনি ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়।
অদিতা হত্যাকাণ্ডের পর ঘাতকের ফাঁসির দাবিতে নোয়াখালীর সাধারণ শিক্ষার্থী ও আপামর জনতা রাজপথে দীর্ঘ আন্দোলন চালিয়েছিলেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই রায়ে জেলাজুড়ে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

























