‘দুর্নীতি না করলেও নৈতিক অপরাধ করেছে নাহিদ ইসলাম: রাশেদ খাঁন
- আপডেট সময় ০৪:৪৮:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
- / 14
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ব্যক্তিগতভাবে দুর্নীতিতে না জড়ালেও বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে নৈতিক অপরাধ করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি নেতা ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন। রাশেদ খাঁন দাবি করেন, দায়িত্ব পালনকালে নিজের মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের প্রশ্রয় দেওয়ার মাধ্যমে নাহিদ ইসলাম নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন।
রাশেদ খাঁন তার পোস্টে উল্লেখ করেন, সংসদে দাঁড়িয়ে নাহিদ ইসলাম দুর্নীতির প্রমাণ চাইলেও তার দায়িত্ব থাকাকালীন সময়ে সরকার ঘনিষ্ঠ অনেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদবির বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষ করে নাহিদ ইসলামের সাবেক ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) আতিক মোর্শেদের কর্মকাণ্ড নিয়ে গণমাধ্যমে আসা অভিযোগের প্রতি ইঙ্গিত করেন তিনি। এছাড়া নিজের নির্দিষ্ট সার্কেলের লোকজনকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো এবং নিজ মন্ত্রণালয়ের বাইরেও অন্য দপ্তরের রদবদলে প্রভাব খাটানোর বিষয়েও এজাহারে উল্লিখিত অভিযোগের মতো সতর্ক দাবি উত্থাপন করেন রাশেদ খাঁন।
তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা নিয়োগ ও আর্থিক সহায়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই বিএনপি নেতা। তিনি লেখেন, নাহিদ ইসলাম নিজেই জানিয়েছিলেন যে কয়েকজন উপদেষ্টার কাছে তিনি প্রতারিত হয়েছেন।
এসব উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের যে অভিযোগ আসছে, তার নিয়োগকর্তা হিসেবে নাহিদ ইসলাম দায় এড়াতে পারেন না বলে পোস্টে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া এনসিপি গঠনে বিভিন্ন ‘ধনী ব্যক্তির’ আর্থিক সহায়তার উৎস এবং বাণিজ্য উপদেষ্টা হিসেবে শেখ বশির উদ্দিনের নিয়োগ নিয়ে জনমনে থাকা প্রশ্নগুলো তিনি পুনরায় সামনে আনেন।
তথ্য মন্ত্রণালয়ের সংস্কার ও নাহিদ ইসলামের পদত্যাগ নিয়েও সমালোচনা করেন রাশেদ খাঁন। তিনি অভিযোগ করেন, তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ১৬ বছরের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশে ব্যর্থ হয়েছেন নাহিদ ইসলাম।
এমনকি তার উত্তরসূরি কর্তৃক বিতর্কিত আইনের অধীনে টেলিভিশন লাইসেন্স প্রদানের দায়ভারও তার ওপর বর্তায় বলে তিনি মনে করেন। রাশেদ খাঁনের দাবি, বিচার ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অঙ্গীকার নিয়ে সরকারে গেলেও সেগুলো বাস্তবায়ন না করেই পদত্যাগ করা বড় ধরনের নৈতিক বিচ্যুতি।
উল্লেখ্য, রাশেদ খাঁনের এই ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ ও রাজনৈতিক অভিযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নানামুখী আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নাহিদ ইসলাম বা এনসিপি’র পক্ষ থেকে এসব দাবির বিপরীতে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
























