ঢাকা ০২:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
সব ধর্মের মানুষকে একসঙ্গে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসের তালিকা করবে গোয়েন্দা সংস্থা: আইজিপি পদত্যাগের পর হাসিমুখে পূজামণ্ডপে ইশরাক সৌদি আরবে নিহত নুরুল হকের পরিবার পেলেন ক্ষতিপূরণ বিচ্ছেদের পর নতুন রূপে শেহতাজ রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব আতাউর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা কমছে নেতানিয়াহুর, খুঁজছেন নতুন মিত্র সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুজনের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে পাঁচ বিষয়ে অগ্রাধিকার ববি হাজ্জাজের

ফরিদপুরে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যা, স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৪৫:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ মে ২০২৫
  • / 717

ছবি সংগৃহীত

 

 

ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যা করার দায়ে আসাদ শেখ ওরফে বাচ্চু শেখ (৪৩) নামের এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন  বাবাকে হত্যায় ছেলে ও ভাইপোর মৃত্যুদণ্ড

রায় ঘোষণার সময় একমাত্র আসামি আসাদ শেখ আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁকে পুলিশি পাহারায় জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুলাই মাসে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ভাটিকান্দি গ্রামের মৃত মতিয়ার শেখের মেয়ে শান্তার সঙ্গে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার কানাই মাতুব্বরের বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ছাত্তার শেখের ছেলে আসাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর এই দম্পতি ফরিদপুর সদরের অম্বিকাপুর ইউনিয়নের দিরাজতুল্লা মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের ইদ্রিসের অ্যাগ্রো ফার্মে কাজ করতেন। শান্তা সেখানে শ্রমিক এবং আসাদ ছিলেন সুপারভাইজার। তাঁরা ফার্মের একটি আবাসিক কক্ষে বসবাস করতেন।

২০২২ সালের ২৬ মে বেলা ১১টার দিকে সেই কক্ষ থেকেই শান্তার মরদেহ উদ্ধার করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার পুলিশ। ঘটনার পরপরই আসাদ পলাতক হন।

দুই দিন পর, ২৮ মে শান্তার মা জরিনা বেগম বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় যৌতুকের জন্য নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে আসাদ শেখের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে এবং তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১৬ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ আদালত আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।

ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, “আদালতের এ রায় একটি যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত। এর মাধ্যমে সমাজে যৌতুকের দাবিতে নারী নির্যাতন ও হত্যার প্রবণতা কমবে বলে আমরা আশা করি। এ রায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সমাজের শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

জানা গেছে, নিহত শান্তা ছিলেন আসাদের তৃতীয় স্ত্রী। এর আগেও আসাদের বিরুদ্ধে তাঁর প্রথম স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। সেই ঘটনায় রাজবাড়ী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আরেকটি হত্যা মামলা বিচারাধীন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ফরিদপুরে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যা, স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় ০৫:৪৫:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ মে ২০২৫

 

 

ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যা করার দায়ে আসাদ শেখ ওরফে বাচ্চু শেখ (৪৩) নামের এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন  ফরিদপুরের সোনালি আঁশের বাম্পার ফলনের আশা, পানি সংকটে দুশ্চিন্তায় চাষিরা

রায় ঘোষণার সময় একমাত্র আসামি আসাদ শেখ আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁকে পুলিশি পাহারায় জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুলাই মাসে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ভাটিকান্দি গ্রামের মৃত মতিয়ার শেখের মেয়ে শান্তার সঙ্গে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার কানাই মাতুব্বরের বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ছাত্তার শেখের ছেলে আসাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর এই দম্পতি ফরিদপুর সদরের অম্বিকাপুর ইউনিয়নের দিরাজতুল্লা মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের ইদ্রিসের অ্যাগ্রো ফার্মে কাজ করতেন। শান্তা সেখানে শ্রমিক এবং আসাদ ছিলেন সুপারভাইজার। তাঁরা ফার্মের একটি আবাসিক কক্ষে বসবাস করতেন।

২০২২ সালের ২৬ মে বেলা ১১টার দিকে সেই কক্ষ থেকেই শান্তার মরদেহ উদ্ধার করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার পুলিশ। ঘটনার পরপরই আসাদ পলাতক হন।

দুই দিন পর, ২৮ মে শান্তার মা জরিনা বেগম বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় যৌতুকের জন্য নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে আসাদ শেখের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে এবং তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১৬ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ আদালত আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।

ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, “আদালতের এ রায় একটি যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত। এর মাধ্যমে সমাজে যৌতুকের দাবিতে নারী নির্যাতন ও হত্যার প্রবণতা কমবে বলে আমরা আশা করি। এ রায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সমাজের শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

জানা গেছে, নিহত শান্তা ছিলেন আসাদের তৃতীয় স্ত্রী। এর আগেও আসাদের বিরুদ্ধে তাঁর প্রথম স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। সেই ঘটনায় রাজবাড়ী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আরেকটি হত্যা মামলা বিচারাধীন।