‘হাসিনা আসুক, মানুষ তার বিচার দেখতে চায়’: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম
- আপডেট সময় ০৬:৩০:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
- / 20
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে মানুষ তার বিচার দেখতে পারবে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনাকে মাঝেমধ্যে দেশে ফেরার হুমকি দিতে দেখা গেলেও বাস্তবে তার আর ফেরা হয় না।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের রাধাকান্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মীর শাহে আলম বলেন, “আমরাও চাই, তিনি দেশে ফিরে আসুক। কারণ, দেশের মানুষ তার বিচার দেখতে অপেক্ষা করছে।” তারেক রহমানের দেশে ফেরার সময় বিপুলসংখ্যক মানুষের ঢাকায় সমবেত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একদিকে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনে মানুষের উপস্থিতি, অন্যদিকে শেখ হাসিনার দেশত্যাগ—দুটি ঘটনা জনগণের ভালোবাসা ও জনসমর্থনের পার্থক্য তুলে ধরে।
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না, সত্যকে আড়াল করেও রাখা সম্ভব নয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ যতই চেষ্টা করুক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক—এই ইতিহাস পরিবর্তন করা যাবে না। মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া আমৃত্যু আপসহীন ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার রাজনৈতিক অবস্থানও কেউ বদলে দিতে পারবে না।
মীর শাহে আলম বলেন, শহীদ জিয়ার প্রতিষ্ঠিত বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে। দলটির নেতাকর্মীরা গর্ব করে বলতে পারেন, তারা শহীদ জিয়ার আদর্শের অনুসারী। জনগণের ভালোবাসা ও আস্থাই বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি।
জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তারা বেহেশতের নিশ্চয়তা দিতে না পারলেও উন্নয়নের নিশ্চয়তা দিতে চান। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী বড় বড় কথা বললেও ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের মাসিক সম্মানীর ব্যবস্থা করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। সরকারের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে অনুপ্রাণিত হয়ে আগে জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের বিএনপির পতাকাতলে আসার আহ্বানও জানান প্রতিমন্ত্রী।
মোকামতলাকে নতুন উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এটি বিএনপি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। মোকামতলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন উপজেলার অবকাঠামো উন্নয়নসহ বাকি কাজগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও কল্যাণ কামনায় উপস্থিত সবার কাছে দোয়া চান প্রতিমন্ত্রী।
মোকামতলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান তৌফিকের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এসএম তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওহাব, মোকামতলা উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব রোকন-উদ-দৌলা রুবেল, শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম এবং শিবগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি খালিদ হাসান আরমানসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারা।
























