সুন্দরবনে ২ দিনে ২২ জেলে অপহরণ, উপকূলজুড়ে আতঙ্ক
- আপডেট সময় ০৪:১০:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
- / 86
সুন্দরবনের পশ্চিম অংশে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য। গত দুই দিনে সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকা থেকে অন্তত ২২ জন জেলেকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে আলিম ও নানাভাই বাহিনীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় সুন্দরবনসংলগ্ন জনপদে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
রোববার (৩ মে) সকাল থেকে সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যা পর্যন্ত চুনকুড়ি, মালঞ্চ নদীর আগা, চালতেবেড়ে, মাইটভাঙা ও পশুরতলা খাল এলাকা থেকে এই জেলেদের তুলে নিয়ে যায় জলদস্যুরা। অপহৃতরা মূলত শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ, রমজাননগর ও ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা।
ফিরে আসা জেলেরা জানান, বন বিভাগের কদমতলা ও কৈখালী স্টেশন থেকে বৈধ অনুমতিপত্র নিয়ে তারা সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলেন। এ সময় দস্যুরা বিভিন্ন খালে অভিযান চালিয়ে ২৮ থেকে ৩০ জনকে তুলে নেয়, যার মধ্যে ২২ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।
অপহৃতদের মধ্যে পাঁচজনকে মারধরের পর মুক্তিপণ আনার শর্তে ছেড়ে দেওয়া হলেও বাকিদের এখনো জিম্মি করে রাখা হয়েছে। হরিনগর বাজার থেকে মাত্র ১০–১২ মিনিটের নৌপথ দূরত্বের লোকালয়ের কাছাকাছি এলাকা থেকেও জেলেদের অপহরণের ঘটনা ঘটছে। স্বজনরা জানান, এখনো মুক্তিপণের নির্দিষ্ট অঙ্ক না জানালেও, নেটওয়ার্কের আওতায় এলে দস্যুরা যোগাযোগ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সহকারী বন সংরক্ষক: সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মশিউর রহমান জানান, জেলেদের অপহরণের বিষয়টি কোস্টগার্ডকে জানানো হয়েছে। শ্যামনগর থানা: শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো ভুক্তভোগী পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর তৎপরতার অভাবই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। দ্রুত যৌথ অভিযান চালিয়ে অপহৃত জেলেদের উদ্ধার ও দস্যুদের কঠোর হাতে দমন করার দাবি জানিয়েছেন তারা।






















