ঢাকা ০৭:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
রামেক হাসপাতালে রোগীদের ভোগান্তি কমাতে বসছে একক ‘অ্যাম্বুলেন্স সেন্টার’ বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ আজ নাটোরে ৪৫ টাকা চা বিলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১২ মধুখালীতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে সুপারভাইজার নিহত, আহত ১৫ শাহজালাল বিমানবন্দরে আনসার সদস্যদের যাতায়াত সহজে বিশেষ বাস সেবা চালু ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হবে পরিকল্পনার মাধ্যমে: প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ: বাণিজ্যমন্ত্রী কলকাতা ভ্রমণে বাংলাদেশিদের জন্য উপহাইকমিশনের সতর্কবার্তা নেপালের ভয়াবহ দুর্যোগে সহায়তার হাত বাড়াল বাংলাদেশ ছিনতাইয়ের ঘটনায় শিক্ষিকার মৃত্যু: উদ্ধার বাইক নিয়ে প্রশ্ন, ডিবির ছায়া তদন্ত

বজ্রপাতে নিহত, লাশ চুরির আতঙ্কে রাত জেগে সন্তানের কবর পাহারা দিচ্ছেন বৃদ্ধ বাবা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:০৭:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • / 122

ছবি: সংগৃহীত

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে বজ্রপাতে নিহত সন্তানের মরদেহ চুরির আশঙ্কায় এক বৃদ্ধ বাবা রাত জেগে কবর পাহারা দিচ্ছেন। গত বৃহস্পতিবার দাফনের পর থেকেই উপজেলার কামারখাড়া সামাজিক কবরস্থানে এই করুণ দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। অসুস্থ শরীর নিয়েও কুসংস্কার ও দুষ্কৃতিকারীদের ভয়ে ঋণ করে লোক রেখে সন্তানের শেষ শয্যা রক্ষা করছেন বাবা জসিম খান।

সরেজমিনে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, কবরের পাশে নিঃসঙ্গ বসে আছেন জসিম খান। গত বৃহস্পতিবার উপজেলার হাইয়ার পার এলাকায় গরুর ঘাস আনতে গিয়ে বজ্রপাতে মৃত্যু হয় তাঁর ছেলে দর্জি শ্রমিক আরাফাতের। স্থানীয়দের মধ্যে প্রচলিত আছে যে, বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তির মরদেহের প্রতি দুষ্কৃতিকারীদের বিশেষ লালসা থাকে এবং তা চুরির ঝুঁকি বেশি। এই উদ্বেগ থেকেই পাহারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবারটি।

অশ্রুভেজা চোখে জসিম খান বলেন, “ছেলেটা দর্জির কাজ করে আমাদের সংসার চালাত। এখন সে নেই, তার ওপর অনেকের কাছে শুনেছি বজ্রপাতে মারা যাওয়া মানুষের লাশ চুরি হয়ে যায়। আমি অসুস্থ মানুষ, সারারাত থাকতে পারি না বলে ধারদেনা করে লোক রেখেছি পাহারা দেওয়ার জন্য। নিজের সংসার চালাতেই কষ্ট হচ্ছে, তার ওপর প্রতিদিন এই বাড়তি খরচ মেটানো আমার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রশাসন যদি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করত, তবে একটু নিশ্চিন্ত হতে পারতাম।”

আরও পড়ুন  সারা দেশে বজ্রবৃষ্টির আভাস, কমতে পারে রাতের তাপমাত্রা

স্থানীয় বাসিন্দা বিপু মাতব্বর জানান, এলাকায় ইতিপূর্বে মরদেহ চুরির কিছু ঘটনা শোনা গেছে। দুষ্কৃতিকারীরা বিশেষ করে বজ্রপাতে নিহতদের মরদেহ উচ্চমূল্যে বিক্রির আশায় টার্গেট করে থাকে। এমন আতঙ্কে পরিবারটির ওপর মানসিক ও আর্থিক যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তা অত্যন্ত অমানবিক।

বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কবরস্থানের নিরাপত্তা জোরদার এবং এই অসহায় পরিবারটিকে দুশ্চিন্তামুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

বজ্রপাতে নিহত, লাশ চুরির আতঙ্কে রাত জেগে সন্তানের কবর পাহারা দিচ্ছেন বৃদ্ধ বাবা

আপডেট সময় ১০:০৭:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে বজ্রপাতে নিহত সন্তানের মরদেহ চুরির আশঙ্কায় এক বৃদ্ধ বাবা রাত জেগে কবর পাহারা দিচ্ছেন। গত বৃহস্পতিবার দাফনের পর থেকেই উপজেলার কামারখাড়া সামাজিক কবরস্থানে এই করুণ দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। অসুস্থ শরীর নিয়েও কুসংস্কার ও দুষ্কৃতিকারীদের ভয়ে ঋণ করে লোক রেখে সন্তানের শেষ শয্যা রক্ষা করছেন বাবা জসিম খান।

সরেজমিনে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, কবরের পাশে নিঃসঙ্গ বসে আছেন জসিম খান। গত বৃহস্পতিবার উপজেলার হাইয়ার পার এলাকায় গরুর ঘাস আনতে গিয়ে বজ্রপাতে মৃত্যু হয় তাঁর ছেলে দর্জি শ্রমিক আরাফাতের। স্থানীয়দের মধ্যে প্রচলিত আছে যে, বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তির মরদেহের প্রতি দুষ্কৃতিকারীদের বিশেষ লালসা থাকে এবং তা চুরির ঝুঁকি বেশি। এই উদ্বেগ থেকেই পাহারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবারটি।

অশ্রুভেজা চোখে জসিম খান বলেন, “ছেলেটা দর্জির কাজ করে আমাদের সংসার চালাত। এখন সে নেই, তার ওপর অনেকের কাছে শুনেছি বজ্রপাতে মারা যাওয়া মানুষের লাশ চুরি হয়ে যায়। আমি অসুস্থ মানুষ, সারারাত থাকতে পারি না বলে ধারদেনা করে লোক রেখেছি পাহারা দেওয়ার জন্য। নিজের সংসার চালাতেই কষ্ট হচ্ছে, তার ওপর প্রতিদিন এই বাড়তি খরচ মেটানো আমার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রশাসন যদি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করত, তবে একটু নিশ্চিন্ত হতে পারতাম।”

আরও পড়ুন  মাজার ভাঙা ও লাশ পুড়িয়ে দেওয়া রাসুলের শিক্ষা নয় : রিজভী

স্থানীয় বাসিন্দা বিপু মাতব্বর জানান, এলাকায় ইতিপূর্বে মরদেহ চুরির কিছু ঘটনা শোনা গেছে। দুষ্কৃতিকারীরা বিশেষ করে বজ্রপাতে নিহতদের মরদেহ উচ্চমূল্যে বিক্রির আশায় টার্গেট করে থাকে। এমন আতঙ্কে পরিবারটির ওপর মানসিক ও আর্থিক যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তা অত্যন্ত অমানবিক।

বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কবরস্থানের নিরাপত্তা জোরদার এবং এই অসহায় পরিবারটিকে দুশ্চিন্তামুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।