ঢাকা ০৮:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
রামেক হাসপাতালে রোগীদের ভোগান্তি কমাতে বসছে একক ‘অ্যাম্বুলেন্স সেন্টার’ বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ আজ নাটোরে ৪৫ টাকা চা বিলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১২ মধুখালীতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে সুপারভাইজার নিহত, আহত ১৫ শাহজালাল বিমানবন্দরে আনসার সদস্যদের যাতায়াত সহজে বিশেষ বাস সেবা চালু ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হবে পরিকল্পনার মাধ্যমে: প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ: বাণিজ্যমন্ত্রী কলকাতা ভ্রমণে বাংলাদেশিদের জন্য উপহাইকমিশনের সতর্কবার্তা নেপালের ভয়াবহ দুর্যোগে সহায়তার হাত বাড়াল বাংলাদেশ ছিনতাইয়ের ঘটনায় শিক্ষিকার মৃত্যু: উদ্ধার বাইক নিয়ে প্রশ্ন, ডিবির ছায়া তদন্ত

ফোনে পরিচয়, দেখা করতে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার চার সন্তানের জননী, গ্রেপ্তার ১

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:০৩:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
  • / 166

ছবি: সংগৃহীত

 

নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় মোবাইলফোনে পরিচয়ের সূত্র ধরে দেখা করতে গিয়ে চার সন্তানের জননী এক নারী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে ভুক্তভোগী নারী মাধবদী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার পর পুলিশ প্রধান অভিযুক্ত রিদয় মিয়া (৩২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে এবং অন্য অভিযুক্তদের শনাক্ত করে তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।

আরও পড়ুন  হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে মাধবদী থানার কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খামারদী পদ্মারকান্দা এলাকার একটি মাছের খামারের পুকুরপাড়ে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার গোপালদী গ্রামের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে তিনি নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার মেন্ডাতলা এলাকায় বসবাস করছেন।

এজাহারে উল্লেখ আছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই নারী তার মেয়েকে নিয়ে আড়াইহাজার পৌরসভা এলাকার একটি মার্কেটে ঈদের কেনাকাটা করতে যান। পরে মেয়েকে জামা কিনে দিয়ে ইফতারের আগেই তাকে বাসায় পাঠিয়ে দেন।

পরিবারের দাবি, কয়েকদিন আগে কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খরিয়া গ্রামের বাসিন্দা রিদয় মিয়ার সঙ্গে ওই নারীর মোবাইল ফোনে পরিচয় হয়। ওই নারী আড়াইহাজার মার্কেটে রয়েছেন জানতে পেরে রিদয় তাকে দেখা করার প্রস্তাব দেন। পরে রাতে ওই নারী অটোরিকশায় করে মাধবদীর কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খামারদী পদ্মারকান্দা এলাকায় যান বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, সেখানে রাস্তায় কথা বলার একপর্যায়ে রিদয় ওই নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে রাজি না হলে তাকে জোরপূর্বক পুকুরপাড়ের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় আগে থেকে সেখানে অবস্থান করা আরও তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন ও টাকা নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বলেন। পরে তিনি কাছাকাছি একটি পাওয়ার লুম কারখানায় গিয়ে আশ্রয় নেন এবং সেখানে কর্মরতদের বিষয়টি জানান বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী মাধবদী থানায় অভিযোগ জানালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়েরের পর মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে রিদয় মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মাধবদী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলটি নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। প্রথমে বিষয়টি আড়াইহাজার থানাকে জানানো হলে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং পরে ঘটনাটি নরসিংদীর এলাকায় হওয়ায় মাধবদী থানাকে অবহিত করে।

তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগী প্রাথমিকভাবে অন্য অভিযুক্তদের নাম বলতে পারেননি। তবে মোবাইল নম্বরের সূত্রে প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী নারীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ফোনে পরিচয়, দেখা করতে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার চার সন্তানের জননী, গ্রেপ্তার ১

আপডেট সময় ১২:০৩:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

 

নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় মোবাইলফোনে পরিচয়ের সূত্র ধরে দেখা করতে গিয়ে চার সন্তানের জননী এক নারী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে ভুক্তভোগী নারী মাধবদী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার পর পুলিশ প্রধান অভিযুক্ত রিদয় মিয়া (৩২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে এবং অন্য অভিযুক্তদের শনাক্ত করে তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।

আরও পড়ুন  রাজস্ব খাতে চাকরির দাবিতে আন্দোলনে ‘তথ্য আপা’দের সরিয়ে দিল পুলিশ

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে মাধবদী থানার কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খামারদী পদ্মারকান্দা এলাকার একটি মাছের খামারের পুকুরপাড়ে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার গোপালদী গ্রামের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে তিনি নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার মেন্ডাতলা এলাকায় বসবাস করছেন।

এজাহারে উল্লেখ আছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই নারী তার মেয়েকে নিয়ে আড়াইহাজার পৌরসভা এলাকার একটি মার্কেটে ঈদের কেনাকাটা করতে যান। পরে মেয়েকে জামা কিনে দিয়ে ইফতারের আগেই তাকে বাসায় পাঠিয়ে দেন।

পরিবারের দাবি, কয়েকদিন আগে কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খরিয়া গ্রামের বাসিন্দা রিদয় মিয়ার সঙ্গে ওই নারীর মোবাইল ফোনে পরিচয় হয়। ওই নারী আড়াইহাজার মার্কেটে রয়েছেন জানতে পেরে রিদয় তাকে দেখা করার প্রস্তাব দেন। পরে রাতে ওই নারী অটোরিকশায় করে মাধবদীর কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খামারদী পদ্মারকান্দা এলাকায় যান বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, সেখানে রাস্তায় কথা বলার একপর্যায়ে রিদয় ওই নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে রাজি না হলে তাকে জোরপূর্বক পুকুরপাড়ের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় আগে থেকে সেখানে অবস্থান করা আরও তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন ও টাকা নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বলেন। পরে তিনি কাছাকাছি একটি পাওয়ার লুম কারখানায় গিয়ে আশ্রয় নেন এবং সেখানে কর্মরতদের বিষয়টি জানান বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী মাধবদী থানায় অভিযোগ জানালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়েরের পর মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে রিদয় মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মাধবদী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলটি নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। প্রথমে বিষয়টি আড়াইহাজার থানাকে জানানো হলে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং পরে ঘটনাটি নরসিংদীর এলাকায় হওয়ায় মাধবদী থানাকে অবহিত করে।

তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগী প্রাথমিকভাবে অন্য অভিযুক্তদের নাম বলতে পারেননি। তবে মোবাইল নম্বরের সূত্রে প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী নারীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।