ঢাকা ০৮:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
জামালপুরে ভাইয়ের আঘাতে ভাই নিহত আপাতত বিদ্যুতের দাম বাড়াচ্ছে না : জ্বালানিমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব পড়তে পারে রেমিট্যান্সে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল ভারতে গ্রেপ্তার গ্যাস লিকের বিস্ফোরণ, বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গৃহবধূর মৃত্যু হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল ভারতে আদালতে ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল তরুণ ব্যবসায়ীর সৌদি আরবে ইরানি মিসাইল হামলায় বাংলাদেশিসহ নিহত ২, আহত ১২ গোয়েন্দা তথ্যে ভারতে ফয়সাল গ্রেপ্তার, দেশে আনার প্রক্রিয়া শুরু নতুন জাহাজে জ্বালানি এলেও সীমিত বিক্রি অব্যাহত থাকবে

হাতিরঝিলে নির্মাণাধীন ভবনে মিলল শিশুর লাশ: কীভাবে ঘটল রহস্যময় মৃত্যু? থানা ঘেরাওয়ের পর নড়েচড়ে বসে পুলিশ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:১১:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 40

ছবি সংগৃহীত

 

রাজধানীর হাতিরঝিলের পশ্চিম উলন এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের ফাঁকা জায়গা থেকে তাহেদী আক্তার (৬) নামের এক কন্যাশিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

স্বজন ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, শিশুটিকে নিপীড়নের পর হত্যা করে সেখানে ফেলে রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে এবং বিক্ষুব্ধ জনতা হাতিরঝিল থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন।

আরও পড়ুন  ইসরায়েলি হামলায় ইরানের একটি স্কুলের ৫ শিক্ষার্থী নিহত

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার তিতাস উপজেলার আলীরগাঁও এলাকার বাসিন্দা লিটন মিয়ার মেয়ে তাহেদী স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণিতে পড়ত। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পরিবারের সঙ্গে ইফতার সেরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাসার বাইরে খেলতে গিয়ে সে নিখোঁজ হয়। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর গভীর রাতে পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের জন্য রাখা গর্তের জমা পানি থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত শিশুর চাচা স্বপন মিয়ার দাবি, উদ্ধার করার সময় তাহেদীর মুখে বিস্কুটের গুঁড়া পাওয়া গেলেও পেটে কোনো পানি ছিল না। পানিতে ডুবে মৃত্যু হলে পেট ভর্তি পানি থাকার কথা। এই সন্দেহ থেকেই তারা এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ শুরুতে গড়িমসি করে, যার ফলে রাত ৯টার দিকে শত শত এলাকাবাসী থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে পরিস্থিতির চাপে রাত ১১টার দিকে পুলিশ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা গ্রহণ করতে বাধ্য হয়।

এলাকাবাসীর আন্দোলনের মুখে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই নির্মাণাধীন ভবনের দারোয়ানকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। বিক্ষুব্ধ জনতা ‘আমার বোন মরলো কেন, বিচার চাই’ স্লোগান দিয়ে দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তারা মনে করছেন, শিশুটির মুখে বিস্কুট চাপা দিয়ে হত্যার পর লাশ পানিতে ফেলে দেওয়া হতে পারে।

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মর্তুজা জানিয়েছেন, শিশুটির শরীরে কোনো দৃশ্যমান জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে এটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু মনে হলেও বাবার দায়ের করা হত্যা মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে তিনি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

হাতিরঝিলে নির্মাণাধীন ভবনে মিলল শিশুর লাশ: কীভাবে ঘটল রহস্যময় মৃত্যু? থানা ঘেরাওয়ের পর নড়েচড়ে বসে পুলিশ

আপডেট সময় ১০:১১:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

রাজধানীর হাতিরঝিলের পশ্চিম উলন এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের ফাঁকা জায়গা থেকে তাহেদী আক্তার (৬) নামের এক কন্যাশিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

স্বজন ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, শিশুটিকে নিপীড়নের পর হত্যা করে সেখানে ফেলে রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে এবং বিক্ষুব্ধ জনতা হাতিরঝিল থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন।

আরও পড়ুন  পোপ ফ্রান্সিসকে শ্রদ্ধা জানাতে ভ্যাটিকানে প্রধান উপদেষ্টা

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার তিতাস উপজেলার আলীরগাঁও এলাকার বাসিন্দা লিটন মিয়ার মেয়ে তাহেদী স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণিতে পড়ত। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পরিবারের সঙ্গে ইফতার সেরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাসার বাইরে খেলতে গিয়ে সে নিখোঁজ হয়। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর গভীর রাতে পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের জন্য রাখা গর্তের জমা পানি থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত শিশুর চাচা স্বপন মিয়ার দাবি, উদ্ধার করার সময় তাহেদীর মুখে বিস্কুটের গুঁড়া পাওয়া গেলেও পেটে কোনো পানি ছিল না। পানিতে ডুবে মৃত্যু হলে পেট ভর্তি পানি থাকার কথা। এই সন্দেহ থেকেই তারা এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ শুরুতে গড়িমসি করে, যার ফলে রাত ৯টার দিকে শত শত এলাকাবাসী থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে পরিস্থিতির চাপে রাত ১১টার দিকে পুলিশ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা গ্রহণ করতে বাধ্য হয়।

এলাকাবাসীর আন্দোলনের মুখে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই নির্মাণাধীন ভবনের দারোয়ানকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। বিক্ষুব্ধ জনতা ‘আমার বোন মরলো কেন, বিচার চাই’ স্লোগান দিয়ে দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তারা মনে করছেন, শিশুটির মুখে বিস্কুট চাপা দিয়ে হত্যার পর লাশ পানিতে ফেলে দেওয়া হতে পারে।

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মর্তুজা জানিয়েছেন, শিশুটির শরীরে কোনো দৃশ্যমান জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে এটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু মনে হলেও বাবার দায়ের করা হত্যা মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে তিনি জানান।