বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানের প্রয়াণ
- আপডেট সময় ১০:২৭:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
- / 17
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বিসিএস ১৩তম ব্যাচের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান আর নেই। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ভোর ৬টা ২৫ মিনিটে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর। সরকারের জ্যেষ্ঠ এই কর্মকর্তার অকাল প্রয়াণে প্রশাসন ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ এপ্রিল রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা তার শরীরে ম্যালেরিয়া রোগ শনাক্ত করেন। চার দিন ধরে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকার পর আজ ভোরে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান।
মাহবুবুর রহমানের পেশাগত জীবন ছিল অত্যন্ত বর্ণাঢ্য ও সাফল্যমণ্ডিত। ১৯৯৪ সালের এপ্রিলে ১৩তম বিসিএস (কাস্টমস ও এক্সাইজ) ক্যাডারের মাধ্যমে তিনি সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের অধীন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) সহকারী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দীর্ঘ তিন দশকের ক্যারিয়ারে তিনি রাজস্ব প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন। ২০১০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি দেশের বিভিন্ন কাস্টম হাউস, কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট এবং এনবিআরে ডেপুটি কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার ও অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দক্ষতা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন। তার প্রশাসনিক দক্ষতা তাকে পরবর্তী সময়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নিয়ে আসে।
সচিব হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার আগে তিনি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সেখান থেকে পদোন্নতি ও বদলি সূত্রে ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এই পদেই কর্মরত ছিলেন।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মাহবুবুর রহমান কেবল একজন দক্ষ প্রশাসকই ছিলেন না, বরং অধস্তন কর্মকর্তাদের কাছে একজন নীতিবান ও জনপ্রিয় মেন্টর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যুতে সরকারের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো বলে মনে করছেন সহকর্মীরা।
মরহুমের জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিবারের পক্ষ থেকে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত জানানো হবে। তার সহকর্মী, আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহীরা বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ।






















