ঢাকা ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রথমার্ধে গোলশূন্য; রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত আর্জেন্টিনা ‎বিতর্ক এড়াতে ফাইনালে সাত দেশের রেফারি জুলাই সনদ বিতর্কের ইতি টানার উচিত: মির্জা ফখরুলের ‎শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে ৫৮ নিহতের পরিচয় শনাক্ত: চিফ প্রসিকিউটর জিম্বাবুয়েকে ১৪৩ রানে থামাল বাংলাদেশ, লক্ষ্য ১৪৪ রাজনৈতিক পক্ষপাত ছাড়াই দায়িত্ব পালনের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‎গণমাধ্যমের তোষামোদী সংস্কৃতি এখনো রয়ে গেছে— মির্জা ফখরুল ‎সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টস হেরে বোলিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে দুই পরিবর্তন জুলাই বিপ্লবে বিএনপির ১৭ বছরের আন্দোলন সফল হয়েছে: রিজভী জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর নতুন দাবি তেহরানের

ময়মনসিংহে ‘কিশোর গ্যাং’–এর কবলে পড়া শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:১৪:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 144

ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহ আনন্দ মোহন কলেজের দুই শিক্ষার্থী ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে বেড়াতে গিয়ে ‘কিশোর গ্যাং’–এর কবলে পড়েন। ব্রহ্মপুত্র নদ সাঁতরে একজন বেঁচে ফিরলেও গত শুক্রবার রাতে নূরুল্লাহ শাওন (২৬) নামের অন্যজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত পাঁচ কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনায় জেলা ডিবি ও কোতোয়ালি মডেল থানার একাধিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালায়। গতকাল শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে নেত্রকোনার সাপতাই এলাকা থেকে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর, ঈশ্বরগঞ্জের ভারতী বাজার এলাকা থেকে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর এবং ময়মনসিংহ নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৩, ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী আরও তিন কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, নিহত নূরুল্লাহ শাওন আনন্দ মোহন কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার চর জাকালিয়া গ্রামে।

আরও পড়ুন  মোহাম্মদপুরে চাঞ্চল্যকর মুন্না হত্যার আসামি ইসমাইল হোসেন র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার

গত বুধবার বিকেলে জয়নুল আবেদিন উদ্যান এলাকা থেকে নূরুল্লাহ শাওন ও তাঁর বন্ধু মঞ্জুরুল আহসান (রিয়াদ) ব্রহ্মপুত্র নদের বিপরীত পারে বেড়াতে যান। এ সময় সাতজনের একটি কিশোর ছিনতাইকারী দলের কবলে পড়েন তাঁরা। একপর্যায়ে নূরুল্লাহ প্রতিবাদ করলে তাঁকে বেদম মারধর করা হয়। তখন দুই বন্ধু দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। চারজন শাওনের পিছু নেয় এবং তিনজন মঞ্জুরুলের পিছু নেয়। মঞ্জুরুল ব্রহ্মপুত্র নদে নেমে সাঁতরে পার হতে পারলেও নূরুল্লাহর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নিহত নূরুল্লাহর মা সাহিদা বেগম কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি অভিযোগ করেন। সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় তিন থেকে চারজনকে আসামি করে দেওয়া অভিযোগটি সন্ধ্যায় মামলা হিসেবে গ্রহণ করে পুলিশ। অভিযুক্ত কিশোরদের সবার বয়স ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। তারা নগরের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে সপ্তম থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

এদিকে গতকাল বেলা দুইটায় আনন্দ মোহন কলেজ মাঠে শাওনের জানাজা হয়। এ সময় দ্রুত জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ সেখানে উপস্থিত হয়ে আসামি গ্রেপ্তারের আলটিমেটাম দেন। পরে শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে অবস্থান নেন। রাত আটটার মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসামি গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে ফিরে যান।

নিউজটি শেয়ার করুন

ময়মনসিংহে ‘কিশোর গ্যাং’–এর কবলে পড়া শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫

আপডেট সময় ১২:১৪:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ময়মনসিংহ আনন্দ মোহন কলেজের দুই শিক্ষার্থী ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে বেড়াতে গিয়ে ‘কিশোর গ্যাং’–এর কবলে পড়েন। ব্রহ্মপুত্র নদ সাঁতরে একজন বেঁচে ফিরলেও গত শুক্রবার রাতে নূরুল্লাহ শাওন (২৬) নামের অন্যজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত পাঁচ কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনায় জেলা ডিবি ও কোতোয়ালি মডেল থানার একাধিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালায়। গতকাল শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে নেত্রকোনার সাপতাই এলাকা থেকে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর, ঈশ্বরগঞ্জের ভারতী বাজার এলাকা থেকে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর এবং ময়মনসিংহ নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৩, ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী আরও তিন কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, নিহত নূরুল্লাহ শাওন আনন্দ মোহন কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার চর জাকালিয়া গ্রামে।

আরও পড়ুন  বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান গ্রেপ্তার

গত বুধবার বিকেলে জয়নুল আবেদিন উদ্যান এলাকা থেকে নূরুল্লাহ শাওন ও তাঁর বন্ধু মঞ্জুরুল আহসান (রিয়াদ) ব্রহ্মপুত্র নদের বিপরীত পারে বেড়াতে যান। এ সময় সাতজনের একটি কিশোর ছিনতাইকারী দলের কবলে পড়েন তাঁরা। একপর্যায়ে নূরুল্লাহ প্রতিবাদ করলে তাঁকে বেদম মারধর করা হয়। তখন দুই বন্ধু দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। চারজন শাওনের পিছু নেয় এবং তিনজন মঞ্জুরুলের পিছু নেয়। মঞ্জুরুল ব্রহ্মপুত্র নদে নেমে সাঁতরে পার হতে পারলেও নূরুল্লাহর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নিহত নূরুল্লাহর মা সাহিদা বেগম কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি অভিযোগ করেন। সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় তিন থেকে চারজনকে আসামি করে দেওয়া অভিযোগটি সন্ধ্যায় মামলা হিসেবে গ্রহণ করে পুলিশ। অভিযুক্ত কিশোরদের সবার বয়স ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। তারা নগরের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে সপ্তম থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

এদিকে গতকাল বেলা দুইটায় আনন্দ মোহন কলেজ মাঠে শাওনের জানাজা হয়। এ সময় দ্রুত জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ সেখানে উপস্থিত হয়ে আসামি গ্রেপ্তারের আলটিমেটাম দেন। পরে শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে অবস্থান নেন। রাত আটটার মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসামি গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে ফিরে যান।