ঢাকা ০৯:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিট, লাউঞ্জ ও ভূমি সেবায় বিশেষ সুবিধা ‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

মার্কিন শুল্কারোপ নীতি ও বিশ্ব অর্থনীতির প্রভাব: চীনের কৌশলগত জবাব

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:০৫:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ মার্চ ২০২৫
  • / 379

ছবি: সংগৃহীত

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসন একতরফাভাবে চীনসহ অন্যান্য দেশের ওপর অযৌক্তিক শুল্কারোপ অব্যাহত রেখেছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত। ট্রাম্প প্রশাসনের সময় থেকে শুরু হওয়া এই নীতি শুধু বৈশ্বিক বাণিজ্যের স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং বিশ্ব অর্থনীতির ভারসাম্যকেও চ্যালেঞ্জ করছে। একতরফা শুল্কারোপের মাধ্যমে মার্কিন সরকার বাজার অর্থনীতির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করছে এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার মূলনীতির পরিপন্থী আচরণ করছে।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডাব্লিউটিও) অন্যতম শক্তিশালী সদস্য হিসেবে চীন সবসময় বহুপাক্ষিক বাণিজ্য নীতিকে সমর্থন করে এসেছে। চীন একতরফা শুল্কারোপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং নিরপেক্ষ ও ন্যায্য বাণিজ্য ব্যবস্থার পক্ষে শক্তিশালী অবস্থান নিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতিগুলো আন্তর্জাতিক নিয়ম ও মুক্ত বাজার অর্থনীতির বিরোধী, যা বিশ্বায়নের ধারণাকে দুর্বল করছে।

আরও পড়ুন  লিটারে এক টাকা কমলো জ্বালানি তেলের দাম

অনেক বছর ধরে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও বাণিজ্যিক কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে বিভিন্ন অর্থনৈতিক উপকরণ ব্যবহার করে আসছে। এতে শুধু চীনই নয়, উন্নয়নশীল দেশগুলোও বৈশ্বিক বাজারে ন্যায্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ডাব্লিউটিওর নীতিমালার পরিপন্থী এই পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতার এই সময়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীন সবসময় আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে বিশ্বাসী এবং পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতার মাধ্যমে বাণিজ্য সম্প্রসারণের পক্ষে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নীতি শুধু চীনের শিল্প খাত নয়, বিশ্ব সরবরাহ শৃঙ্খল ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক কাঠামোকেও হুমকির মুখে ফেলছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা।

চীন ও বাংলাদেশের সম্পর্কও বহুপাক্ষিক বাণিজ্যের অন্যতম উদাহরণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চীন ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে রয়েছে। ২০২৪ সালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ চীনে তাজা আম রপ্তানির পরিকল্পনা করছে, যা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও সুসংহত করবে।

বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৪ সালের মধ্যে চীনের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) বাংলাদেশে ৪.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার দৃঢ় ভিত্তি গড়ে তুলছে। নতুন অবকাঠামো প্রকল্প, শিল্প উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে চীন-বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব দুই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান চ্যালেঞ্জের সময় চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা ভবিষ্যতের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কারোপের নীতি চালিয়ে যায়, তাহলে বিশ্ব বাণিজ্যের ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে। চীন তার অংশীদারদের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে এবং বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থার সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মার্কিন শুল্কারোপ নীতি ও বিশ্ব অর্থনীতির প্রভাব: চীনের কৌশলগত জবাব

আপডেট সময় ০৫:০৫:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ মার্চ ২০২৫

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসন একতরফাভাবে চীনসহ অন্যান্য দেশের ওপর অযৌক্তিক শুল্কারোপ অব্যাহত রেখেছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত। ট্রাম্প প্রশাসনের সময় থেকে শুরু হওয়া এই নীতি শুধু বৈশ্বিক বাণিজ্যের স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং বিশ্ব অর্থনীতির ভারসাম্যকেও চ্যালেঞ্জ করছে। একতরফা শুল্কারোপের মাধ্যমে মার্কিন সরকার বাজার অর্থনীতির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করছে এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার মূলনীতির পরিপন্থী আচরণ করছে।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডাব্লিউটিও) অন্যতম শক্তিশালী সদস্য হিসেবে চীন সবসময় বহুপাক্ষিক বাণিজ্য নীতিকে সমর্থন করে এসেছে। চীন একতরফা শুল্কারোপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং নিরপেক্ষ ও ন্যায্য বাণিজ্য ব্যবস্থার পক্ষে শক্তিশালী অবস্থান নিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতিগুলো আন্তর্জাতিক নিয়ম ও মুক্ত বাজার অর্থনীতির বিরোধী, যা বিশ্বায়নের ধারণাকে দুর্বল করছে।

আরও পড়ুন  সুতা আমদানিতে রেকর্ড মাইলফলক, সাত বছরের শীর্ষ রেকর্ড

অনেক বছর ধরে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও বাণিজ্যিক কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে বিভিন্ন অর্থনৈতিক উপকরণ ব্যবহার করে আসছে। এতে শুধু চীনই নয়, উন্নয়নশীল দেশগুলোও বৈশ্বিক বাজারে ন্যায্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ডাব্লিউটিওর নীতিমালার পরিপন্থী এই পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতার এই সময়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীন সবসময় আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে বিশ্বাসী এবং পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতার মাধ্যমে বাণিজ্য সম্প্রসারণের পক্ষে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নীতি শুধু চীনের শিল্প খাত নয়, বিশ্ব সরবরাহ শৃঙ্খল ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক কাঠামোকেও হুমকির মুখে ফেলছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা।

চীন ও বাংলাদেশের সম্পর্কও বহুপাক্ষিক বাণিজ্যের অন্যতম উদাহরণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চীন ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে রয়েছে। ২০২৪ সালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ চীনে তাজা আম রপ্তানির পরিকল্পনা করছে, যা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও সুসংহত করবে।

বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৪ সালের মধ্যে চীনের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) বাংলাদেশে ৪.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার দৃঢ় ভিত্তি গড়ে তুলছে। নতুন অবকাঠামো প্রকল্প, শিল্প উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে চীন-বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব দুই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান চ্যালেঞ্জের সময় চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা ভবিষ্যতের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কারোপের নীতি চালিয়ে যায়, তাহলে বিশ্ব বাণিজ্যের ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে। চীন তার অংশীদারদের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে এবং বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থার সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।