ঢাকা ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সার্বিয়ার পার্লামেন্টে স্মোক গ্রেনেডে উত্তেজনা, আইনপ্রণেতার স্ট্রোক

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৫৪:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ মার্চ ২০২৫
  • / 170

ছবি সংগৃহীত

 

সার্বিয়ার পার্লামেন্টে বিরোধী দলের আইনপ্রণেতারা স্মোক গ্রেনেড ও পিপার স্প্রে নিক্ষেপ করেছেন, যা অধিবেশনকক্ষে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে। সরকারের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভ ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে গতকাল মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটে।

অধিবেশন চলাকালে ক্ষমতাসীন দলের স্পিকারের দিকে তেড়ে যান কয়েকজন বিরোধী আইনপ্রণেতা। নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের একপর্যায়ে কক্ষে ছোড়া হয় ধোঁয়া সৃষ্টিকারী গ্রেনেড ও পিপার স্প্রে। এতে কালো ও গোলাপি ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় পুরো অধিবেশনকক্ষ। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির আইনপ্রণেতা জেসমিনা ওব্রাদোভিচ স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

আরও পড়ুন  ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: তারেক রহমানের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহার

সার্বিয়ায় চার মাস ধরে দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভ চলছে, যার সূচনা হয় গত নভেম্বরে নোভিসাদ শহরের এক ট্রেন স্টেশনের ছাদ ধসে ১৫ জন নিহত হওয়ার পর। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এ আন্দোলন শিক্ষক, কৃষকসহ নানা শ্রেণির মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। সরকারবিরোধী এই আন্দোলন প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুসিসের এক দশকের শাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ভুসিস পার্লামেন্টের এই ঘটনার কঠোর নিন্দা জানিয়ে বলেন, হট্টগোলের সঙ্গে জড়িত আইনপ্রণেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি এ ঘটনাকে ‘গুন্ডামি’ বলে আখ্যায়িত করেন। স্পিকার আনা ব্রনাবিচ জানান, সংঘর্ষে তিনজন আইনপ্রণেতা আহত হয়েছেন এবং ওব্রাদোভিচের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জ্লাতিবর লোনকার।

এর আগে চলমান বিক্ষোভের চাপে গত ২৮ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী মিলোস ভুচেভিচ পদত্যাগ করেন। তবে সরকারবিরোধী আন্দোলন থামেনি, বরং তা দিন দিন তীব্র হয়ে উঠছে। জনরোষের কেন্দ্রবিন্দু এখন সরকারের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা।

এই প্রথমবারের মতো সার্বিয়ার পার্লামেন্টে এমন ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা গেল, যা দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও গভীর সংকটে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

সার্বিয়ার পার্লামেন্টে স্মোক গ্রেনেডে উত্তেজনা, আইনপ্রণেতার স্ট্রোক

আপডেট সময় ১০:৫৪:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ মার্চ ২০২৫

 

সার্বিয়ার পার্লামেন্টে বিরোধী দলের আইনপ্রণেতারা স্মোক গ্রেনেড ও পিপার স্প্রে নিক্ষেপ করেছেন, যা অধিবেশনকক্ষে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে। সরকারের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভ ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে গতকাল মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটে।

অধিবেশন চলাকালে ক্ষমতাসীন দলের স্পিকারের দিকে তেড়ে যান কয়েকজন বিরোধী আইনপ্রণেতা। নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের একপর্যায়ে কক্ষে ছোড়া হয় ধোঁয়া সৃষ্টিকারী গ্রেনেড ও পিপার স্প্রে। এতে কালো ও গোলাপি ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় পুরো অধিবেশনকক্ষ। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির আইনপ্রণেতা জেসমিনা ওব্রাদোভিচ স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

আরও পড়ুন  ইউরোপীয় পার্লামেন্টে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ?

সার্বিয়ায় চার মাস ধরে দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভ চলছে, যার সূচনা হয় গত নভেম্বরে নোভিসাদ শহরের এক ট্রেন স্টেশনের ছাদ ধসে ১৫ জন নিহত হওয়ার পর। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এ আন্দোলন শিক্ষক, কৃষকসহ নানা শ্রেণির মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। সরকারবিরোধী এই আন্দোলন প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুসিসের এক দশকের শাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ভুসিস পার্লামেন্টের এই ঘটনার কঠোর নিন্দা জানিয়ে বলেন, হট্টগোলের সঙ্গে জড়িত আইনপ্রণেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি এ ঘটনাকে ‘গুন্ডামি’ বলে আখ্যায়িত করেন। স্পিকার আনা ব্রনাবিচ জানান, সংঘর্ষে তিনজন আইনপ্রণেতা আহত হয়েছেন এবং ওব্রাদোভিচের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জ্লাতিবর লোনকার।

এর আগে চলমান বিক্ষোভের চাপে গত ২৮ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী মিলোস ভুচেভিচ পদত্যাগ করেন। তবে সরকারবিরোধী আন্দোলন থামেনি, বরং তা দিন দিন তীব্র হয়ে উঠছে। জনরোষের কেন্দ্রবিন্দু এখন সরকারের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা।

এই প্রথমবারের মতো সার্বিয়ার পার্লামেন্টে এমন ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা গেল, যা দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও গভীর সংকটে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।